কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে যশোরে ঝরলো শিলাবৃষ্টি

বিল্লাল হোসেন>
রোববার সারাদিন ছিল প্রচন্ড গরম। সেই সাথে প্রখর রোদ। কিন্তু সন্ধ্যায় শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি। হঠাৎ এই ঝড় ও বৃষ্টিতে যশোর সদর উপজেলা,চৌগাছা উপজেলা ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে ঘরবাড়ি ও কেবল গাছে আসা আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, বৃষ্টির সময় চৌগাছার হাকিমপুর বাজারে ৭শ’ ৫৪ গ্রাম ওজনের একটি বড় শিলা পড়ে। ঘটনাস্থলে কেউ না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিকট শব্দ হওয়ায় বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা আতংকিত হয়ে পড়ে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যশোরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে শীলা বৃষ্টিসহ কালবৈশাখী ঝাড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এর কিছু সময় আগে থেকেই আকাশ অন্ধকার হয়ে আসে। সেই সাথে বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে।
চুড়ামনকাটি গ্রামের নুরআমিন মন্ডল জানান, ২০ থেকে ২৫ মিনিট একনাগাড়ে শিলা বৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে কালবৈশাখী ঝড়। শিলা বৃষ্টির সময় সকল প্রকার যানবাহন বাজারে দাঁড়িয়ে যায়। হাকিমপুর গ্রামের আব্দুল আলিম ও পারভীনা খাতুন জানান, ঝড়ের সাথে পাল্লা দিয়ে শিলা বৃষ্টি হচ্ছিলো। মানুষের বাড়ির উঠানসহ যেদিকে চোখ গিয়েছে সেই দিকেই ছিলো সাদা রঙের শিলায় ভরা । অনেকেই বৃষ্টির সময় ঘরের বারান্দায় বসে ওঠান থেকে শিলা কুড়াতে থাকে। সবচেয়ে বড় আকৃতির একটি শিলা পড়েছে হাকিমপুর বাজারে। লোকজন সেটা ওজন করার পর তার পরিমাণ হয়েছে ৭শ ৫৪ গ্রাম। আবার কোন কোন স্থানে ৩শ থেকে সাড়ে তিনশ গ্রাম ওজনের শিলা পড়েছে। হাকিমপুর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম জানান, শিলা বৃষ্টির শুরু হওয়ার পরই বাজারের সবাই নিরাপদ স্থানে চলে যান। যে কারণে বড় বড় শিলা পড়লেও কেউ আক্রান্ত হননি। এই এলাকায় কেবল গাছে আসা আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলার ঘোপ গোরীনাথপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম জানান, ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে তাদের এলাকায় অনেক ঘর বাড়ি ও আমের গুটির ক্ষতি হয়েছে। একাধিক গাছ উপড়ে উপর পড়েছে। ঘরের চালে থাকা টিন শিলার আঘাতে একাধিক স্থানে ফুটো হয়ে গেছে। আশানুর রহমান, ডাইমন্ড আক্তারসহ অনেকেই জানান, দিনব্যাপি প্রচন্ড গরম থাকার পর সন্ধ্যায় আকাশে মেঘ দেখে ভেবেছিলাম জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড় ও শীলা বৃষ্টিতে মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি উঠতি ফসলেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।