আইয়ামে বীজের রোযা রাখুন ১৩, ১৪ ও ১৫ রজব

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক : আগামীকাল রজবের ১৩ তারিখ ও বৃহস্পতিবার। নবীজি (সা.) প্রতি আরবী মাসের ১৩-১৪-১৫ তারিখে আর প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতি-সোমবারে রোযা রাখতেন। তাই আগামীকাল রোযা রাখার মাধ্যমে আমরা পেয়ে যাচ্ছি একই দিনে ফজিলতপূর্ণ দুইটি উপলক্ষ্য।

আইয়্যামে বীজের রোযা
প্রতি আরবী মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখার বিষয়টি একাধিক সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন,
أوصاني خليلي بثلاث لا أدعهن حتى أموت : صوم ثلاثة أيام من كل شهر ، وصلاة الضحى ، ونوم على وتر . رواه البخاري
“রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন – যা আমি মৃত্যু পর্যন্ত কখনো ছাড়বো না। ১. প্রতি মাসের তিন রোযা, ২. চাশতের নামায (সালাতুদ্‌ দুহা), ৩. এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে বিতর নামায আদায় করা।” – বুখারী, হাদিস : ১১২৪; মুসলিম, হাদিস : ৭২১

হযরত জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণনা করেন,
صيام ثلاثة أيام من كل شهر صيام الدهر ، وأيام البيض : صبيحة ثلاث عشرة ، وأربع عشرة ، وخمس عشرة
“প্রতি মাসের তিনটি রোযা হলো সওমে দাহর আর সওমে আইয়ামে বীজ হল ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোযা।” – নাসাঈ, হাদিস ২৪২০; সহিহ আত-তারগিব, হাদিস : ১০৪০

সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবারের রোযা
আর সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবারের রোযা রাখার বিষয়টিও একাধিক সহিহ হাদিসে এসেছে। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে,
كان النبي صلى الله عليه وسلم يتحرَّى صوم الاثنين والخميس
“নবীজি (সা.) সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন।”

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
تُعرض الأعمال يوم الاثنين والخميس ، فأحب أن يعرض عملي وأنا صائم
“সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। কাজেই আমি পছন্দ করি যখন আমার আমল পেশ করা হবে তখন আমি রোযাদার থাকব।” –তিরমিযি, হাদিস : ৭৪৭; সহিহ আত-তারগিব, হাদিস : ১০৪১

উল্লেখ্য যে, বিশেষভাবে রজব মাসকে নির্দিষ্ট করে রোযা রাখার ভিন্ন কোনো ফযিলত নেই। তবে হ্যাঁ, এমনিতেই নফল রোযা রাখা অনেক ফযিলতপূর্ণ আমল। উপরে যে রোযাগুলোর কথা বলা হল, তা সারা বছরের জন্যই ফজিলতপূর্ণ আমল।