খুলনায় বেড়িবাঁধে আবারো ভাঙন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
খুলনায় বেড়িবাঁধে আবারো ভাঙন

এক বছরের কম সময়ের ব্যবধানে সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় উপজেলা খুলনার কয়রায় কপোতাক্ষ নদের ঘাটাখালি বেড়িবাঁধে আবারো ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। গত দুদিনের এ ভাঙনে বেড়িবাঁধের প্রায় ১০০ ফুট জায়গার সিংহভাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

ফলে স্থানীয় লোকজন উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয় জনসাধারণ ঝুড়ি কোদালে করে মাটি কেটে স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন রোধে বেড়িবাঁধ রক্ষার চেষ্টা করছেন।

এদিকে, পাউবো খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মশিউল আবেদীন ক্ষতিগ্রস্ত ঘাটাখালি বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, দুদিনের ভাঙনে ঘাটাখালি বেড়িবাঁধের পুরোটাই বিলীন হওয়ার পথে। শনিবার থেকে কপোতাক্ষের প্রবল ভাঙন শুরু হয়। বেড়িবাঁধ সংলগ্ন মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদের মিম্বরসহ দুটি ওয়াল ও নারকেলগাছ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।

কয়রা সদরের কর্মসৃজন প্রকল্পে নিযুক্ত শ্রমিকরা ও স্থানীয় লোকজন বাঁধ রক্ষায় কাজ করছেন। ভাঙন রক্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে বস্তাভর্তি মাটি ফেলা হচ্ছে। এ মুহূর্তে বাঁধ রক্ষা না হলে ঘাটাখালি, হরিণখোলা, গোবরা গ্রামসহ উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকা লোনা পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল ইসলাম বাঁধ সংস্কার তদারকি করছেন।

কয়রা সদরের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুচ্ছাদ বলেন, ভাঙন রক্ষায় কর্মসৃজন প্রকল্পের শ্রমিকরা ও স্থানীয় লোকজন মাটি ফেলার কাজ করছে। গোবরা গ্রামের বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম জানান, বাঁধ রক্ষা করা না গেলে ভিটেমাটি, ফসল, জমি জাগয়া ও গাছ গাছালির অস্তিত্ব থাকবে না।

পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নাহিদ্জ্জুামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ঘাটাখালি বেড়িবাঁধ রক্ষায় প্রয়োজনীয় বাঁশ ও বস্তা সরবরাহ করা হয়েছে। এখানকার ২৫০ মিটার বাঁধের টেন্ডারের ওপেন হবে ২৩ এপ্রিল। টেন্ডারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ঠিকাদার ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধে কাজ করতে পারবেন বলেও তিনি জানান।