ঝিনাইদহে হত্যার অভিযোগে গৃহবধু লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ভাটই বাজারে স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে গৃহবধুকে হত্যার অভিযোগ ও থানায় মামলা না নেওয়ার প্রতিবাদে লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করেছে নিহতের স্বজনরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখায় দুইপাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সোমবার সকালে শৈলকুপা উপজেলার ভাইট বাজারে মহাসড়কে লাশ রেখে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে।

নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেন, প্রেমের সর্ম্পকের জেরে প্রায় ১ বছর আগে উপজেলার গোয়াল খালি গ্রামের ফিরোজ হোসেনের মেয়ে সোনিয়ার বিয়ে হয় একই গ্রামের বাদশা হোসেনের ছেলে সজিবের সাথে। বিয়ের পর থেকে সোনিয়াকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করে আসছিল শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এরই জের ধরে রোববার সকালে সোনিয়াকে হত্যা করে গলায় ওড়না দিয়ে ঘরে ঝুলিয়ে রেখে ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায় পরিবারের লোকজন। খবর পেয়ে নিহতের পিতা-মাতা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এ ঘটনায় পরিবারের লোকজন থানায় হত্যা মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করে। সেই সাথে আটক হওয়া শাশুড়ি ও শ্বশুরকে ছেড়ে দেয়।

ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সকালে মহাসড়কে লাশ রেখে অবরোধ করে তার স্বজনরা। পরে থানায় মামলা ও দোষিদের গ্রেফতারে পুলিশের আশ্বাসে প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) তারেক আল মেহেদি জানান, এ ঘটনায় আমরা একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করি। এরপর আমরা একটি ডায়েরি উদ্ধার করি। ডায়েরিতে লেখা আছে তার মৃত্যুও জন্য কে কে দায়ী। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ সকালে হত্যা মামলা দায়ের ও বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন স্বজনেরা।

সড়কের দুই পাশে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নিবো এই আশ্বাসে সড়ক অবরোধ উঠিয়ে নেয় উত্তেজিত জনতা।