হামলায় আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক : শ্রীলঙ্কা

স্পন্দন আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর গির্জা ও হোটেলসহ আটটি স্থানে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় অন্তর্জাতিক যোগসূত্র রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

সোমবার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের মুখপাত্র রজিথা সেনারত্নে এ কথা জানিয়েছেন বলে খবর দিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।

তিনি বলেন, ‘রোববারের এমন ভয়াবহ হামলা দেশের কোনো গোষ্ঠী চালিয়েছে বলে আমাদের বিশ্বাস হয় না। তাদের সঙ্গে অবশ্যই আন্তর্জাতিক যোগসূত্র রয়েছে। তা না হলে এভাবে তারা সফল হতে পারতো না।’

গতকাল রোববার সকালে ইস্টার সানডেতে দেশটির তিনটি গির্জা, চারটি হোটেলসহ অন্তত আটটি স্থানে সিরিজ বোমা হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।

হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৬ বিদেশিসহ ২৯০ জন নিহত ও ৫০০ আহত হয়েছেন।

এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ২৪ জনকে আটক করেছে।

জাতীয় শোক ঘোষণা

ভয়াবহ এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৬ বিদেশি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলের নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরীও (৮) রয়েছে।

বাকিরা শ্রীলঙ্কার নাগরিক। হামলার পর শোকে স্তব্ধ দেশটি। সোমবার হামলার ঘটনায় জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

সরকার এক ঘোষণায় বলেছে, আগামীকাল মঙ্গলবার এই জাতীয় শোক পালন করা হবে।

হামলায় ৭ আত্মঘাতী

গির্জা ও হোটেল মিলে ৮টি স্থানে ৭ জন আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে বলে বার্তাসংস্থা এপিকে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কার ফরেনসিক বিভাগ।

সরকারের ফরেনসিক ও অপরাধ বিশ্লেষণ বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় একই সময়ে ৭ ব্যক্তি একই ধরনের আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে।

ফরেনসিক বিশ্লেষক আরিনাধা ওয়েলিঙ্গা বলেছে, হামলাস্থল থেকে আলামত হিসেবে উদ্ধার করা দেহের অংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তিনি বলেন, ‘দু’জন সাংরি-লা হোটেলে হামলায় জড়িত ছিলেন। সিনামন গ্রান্ড ও কিংসবারি হোটেলে একজন করে হামলা চালায়। বাকিরা তিনটি গির্জায় আত্মঘাতী হামলা চালান।’

মধ্যরাতে ‘জরুরি অবস্থা’ জারি

শ্রীলঙ্কার জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল সোমবার মধ্যরাত থেকে শর্তসাপেক্ষে জরুরি অবস্থা জারির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রেস ইউনিট সংবিধানের আলোকে বিৃবতি দিয়ে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।