সাগরে নামতে পারছে না জেলেরা, আন্দোলনের ঘোষণা

বাগেরহাট প্রতিনিধি  :

সাগরে নামতে পারছে না জেলেরা, আন্দোলনের ঘোষণা

আগামীকাল রোববার, ১৫ বৈশাখ (২৮ এপ্রিল)। প্রতি বছরই এদিন ইলিশ আরহণের জন্য জেলেদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় বঙ্গোপসাগরে।

এজন্য ইতোমধ্যে জেলেরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্নও করেছে।

কিন্তু সরকার আগামী ১৮ মে থেকে পরবর্তী ৬৫ দিন ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

নিষেধাজ্ঞায় লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে হতাশ হয়ে পড়েছেন ট্রলার মালিক ও মহাজনরা।

ফুঁসে উঠেছে উপকূলসহ বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক মৎস্য আহরণকারী জেলে সম্প্রদায়।

সরকারের এমন নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

ইতোমধ্যে জেলা, উপজেলায় আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালিত হলেও আগামীকাল রোববার সকাল ১০টায় সকল জেলে, ট্রলার মালিক, আড়ৎদার, মহাজনরা একত্রিত হবেন উপকূলীয় জেলা বরগুনায়। সেখানে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মাকলিপি পেশ করবেন।

শনিবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতি ও জাতীয় মৎস্য সমিতির শরণখোলা উপজেলা শাখার নেতারা এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শরণখোলার মৎস্য ব্যবসায়ী এম সাইফুল ইসলাম খোকন ও মৎস্য আড়ৎদার মো. কবির হাওলাদার বলেন, সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ঘোষিত ৬৫ দিন অবরোধ ঘোষণায় জেলে সম্প্রদায়ে হতাশা নেমে এসেছে। ইলিশের ভরা মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে ট্রলার মালিক, আড়ৎদার, মহাজন সবাইকেই চরম লোকসানের মুখে পড়তে হবে। তাছাড়া দরিদ্র জেলে পরিবারে হাহাকার শুরু হয়ে যাবে।

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের জলসীমায় ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দিলেও পাশের দেশ ভারতে জেলেদের কিন্তু মাছ ধরা বন্ধ থাকবে না। আমাদের দেশের নিষেধাজ্ঞার সুবিধাটা তারাই ভোগ করবে। এমনিতেই তারা আমাদের জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবশে করে সারা বছরই মৎস্য আহরণ করছে। আর এই নিষেধাজ্ঞার সুযোগে ভারতীয় জেলেরা অত্যাধুনিক ট্রলিং ট্রলার দিয়ে আমাদের ইলিশ ছেঁকে নিয়ে যাবে তা কোনোভাবেই ঠেকানো সম্ভব হবে না। তাই জেলে সম্প্রদায়ের জীবন-জীবীকার কথা ভেবে সরকারকে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানাই।

বাগেরহাট জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, একটি ট্রলার সাগরে মাছ ধরার উপযোগী করে পাঠানোর জন্য প্রত্যেক মহাজন ইতোমধ্যে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এমন সময় সরকারের জেলেবিরোধী ঘোষণায় সবাই হতাশ হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামীকাল রোববার নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদের সারা দেশের মৎস্যজীবীরা বরগুনায় উপস্থিত হয়ে আন্দোলন করবে। সেখান থেকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে জানতে চাইলে বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অমল কান্তি রায় বলেন, এ সময়টাতে ইলিশ, চিংড়িসহ সামুদ্রিক বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পেটে ডিম আসে এবং ডিম ছাড়ে। মূলত মা মাছ রক্ষা এবং মৎস্য ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাছাড়া, অন্য দেশের জেলেরা যাতে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে মৎস্য আহরণ করতে না পারে সে ব্যাপারে নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ড সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে।