হাসপাতালে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণই কেবল পারে সুপারবাগ ঠেকাতে

 ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে, এই উৎকণ্ঠাটি সাম্প্রতিক নয়, বাস্তবিকভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের শুরুর সেই সোনালী দিনগুলো থেকেই এটির সূচনা। কিন্তু সম্প্রতি বিষয়টি অনেক বেশি উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে, কারণ কিছু শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়া আসলেই অনেক বেশি মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে, যে ব্যাকটেরিয়াগুলো মানব স্বাস্থ্যের জন্যে ঝুঁকিপূর্ণ, এবং এদের প্রাণঘাতী সংক্রমণ থেকে আক্রান্ত কাউকে বাঁচাতে আসলেই আমাদের হাতে কার্যকরী অ্যান্টিবায়োটিকের তালিকা এখন খুবই সংক্ষিপ্ত। এগুলোই সে-ই ‘সুপারবাগ’ (যদি সংজ্ঞানুযায়ী ‘সুপারবাগ’ হতে আসলেই ‘সুপার’ হতে হয়, তবে সুপারবাগ হবার প্রক্রিয়া থাকলেও একই নামে তাদের ডাকা হয়)।

আর অবশ্যই খুব সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি আইসিইউ জরিপের ফলাফল এই উৎকণ্ঠাটিকে আরো তীব্রতর করেছে।

চিকিৎসা অণুজীববিজ্ঞানের একজন ছাত্র, পরে শিক্ষক এবং বর্তমানে খুব ক্ষতিকর কিছু ‘সুপারবাগ’ নিয়ে জরিপ করা একটি দলের উপাত্ত ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতার আলোকে এই সংক্রান্ত রিপোর্টগুলো নিয়ে আমার বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। এই সমস্যাটির সমাধান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসক, পরে আদালত যে নীতি গ্রহণ করতে তাগিদ দিয়েছেন, সেটি স্পষ্টতই প্রমাণ করে এই ‘সুপারবাগ’ আসলে কিভাবে সৃষ্টি হয় সেই সম্বন্ধে আমাদের ধারণাগুলো খুবই দুর্বল। অবশ্য সেটার কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ আছে। তবে কেউ যদি রিপোর্টগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়েন তাহলে দেখবেন বেশ কিছু অদ্ভুত বিষয় আছে সেখানে, যা আসলে খানিকটা ব্যাখ্যার দাবি রাখে।

প্রথম যে বিষয়টি লক্ষণীয় সেটি হচ্ছে কয়েকজন চিকিৎসক বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন- এই পরিস্থিতির কারণ আমাদের দেশের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রয় এবং আমরা জনগণরা সেটি যথেচ্ছ ব্যবহার করে সুপারবাগদের জন্ম দিচ্ছি।

অন্যদের উপর দোষ চাপিয়ে দেওয়ার বেলায় আমাদের দেশের ক্ষমতাবান মানুষদের দক্ষতা কিংবদন্তীসম। এবারেও ব্যতিক্রম হয়নি। আর ব্যতিক্রম হয়নি বলেই আদালত সেভাবেই নির্দেশনা দিতে উদ্যোগী হয়েছেন। শুধু দোষ চাপিয়েই এইসব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ক্ষান্ত হননি, তারা জনগণকে বিভ্রান্তও করেছেন (হ্যাঁ, ফুকো-র সতর্কবাণীর কথা মনে করতে পারেন)।

আসুন তর্কের খাতিরে বিষয়টি নিয়ে প্রথমে আলোচনা করি। অভিযোগ হচ্ছে আমরা প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক খাই। আর সেটাই অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ‘সুপারবাগ’ ব্যাকটেরিয়ার জন্ম দিচ্ছে। এটি বেশ বড় মাপের একটি ভুল ধারণা। তার কারণ যে কয়েকটি দেশে এই প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিষিদ্ধ, সেইসব দেশেও সুপারবাগের সমস্যা সমাধান হয়নি, বরং ক্রমশ বাড়ছে। তাহলে? এর মানে কিন্তু আমি দাবি করছি না যে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা সঠিক, আর আমাদের অবশ্যই সেটি করা উচিৎ যদি আমরা আমাদের অবকাঠামো আর জনসম্পদ উন্নয়নের প্রাক-শর্তগুলো পূরণ করতে পারি।

কোনও সন্দেহ নেই যদি সম্ভব হয় তাহলে সমাজে ( হাসপাতাল নয় কিন্তু, আমি সমাজ বা কমিউনিটির কথা বলেছি) অ্যান্টিবায়োটিকের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত। ওভার দ্য কাউন্টার অ্যান্টিবায়োটিক এবং বাস্তবিকভাবে যে কোনও ওষুধ ব্যবহারেই সতর্ক থাকা উচিৎ। এর কারণ বহুবিধ। বিশেষ করে ওষুধগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিকে এ ধরনের ব্যবহার কমিউনিটিতে প্রতিরোধ বাড়াচ্ছে বিষয় খুবই বিতর্কিত একটি ব্যাপার। এমনকি এই বিষয়ে বেশ কিছু প্রকাশনাও আছে, বাস্তবিকভাবে অনেক দেশই কিছু অ্যান্টিবায়োটিক সহজলভ্য করার চেষ্টা করছে। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে বেশ কিছু গবেষণাও প্রকাশ হয়েছে। এবং সেখানে বিষয়টি আদৌ প্রমাণিত হয়নি। আর হয়নি তার কিছু যুক্তিসঙ্গত কারণ আছে। সেটি এই আলোচনার বাইরের একটি ক্ষেত্র।

আচ্ছা ধরে নেই, আমাদের দেশে প্রেসক্রিপশনের ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ( অন্য ঔষুধগুলোর ক্ষেত্রে কি হবে?) বিক্রয় হবেনা। এরকম একটি পরিস্থিতি কিভাবে সৃষ্টি করা সম্ভব হতে পারে? ব্যাকটেরিয়া আমাদের পানি আর বাতাসে ছড়িয়ে আছে, আমাদের দেশে সেই অবকাঠামোগত দুর্বলতা আছে, আর সেই পরিস্থিতির মূল ভুক্তভোগী প্রান্তিক মানুষরা, যাদের কাছে স্বাস্থ্য আসলেই ব্যয়বহুল একটি প্রচেষ্টা। যে পরিমাণ সময় আর অর্থ তাদের এই প্রচেষ্টায় ব্যয় করতে হবে সেটি আমরা অনেকেই কল্পনা করতে পারবো না। যে গবেষণাগুলো দাবি করছে কিছু অ্যান্টিবায়োটিক যেন রোগীরা দ্রুত নিজেরাই কিনতে পারেন, সেগুলো দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার সুফলের উপর জোর দিয়েছে। যেমন ধরুন, আপনি জ্বরে ভুগছেন বেশ কয়েকদিন, হ্যা হতে পারে সেটি ভাইরাল জ্বর কিংবা টাইফয়েড, আপনি যদি চিকিৎসকের কাছে যেতে সময় না পান, আপনি ফার্মেসিতে গিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করতে পারেন।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা ভরসা করেন না যে, আপনি পুরো কোর্স করবেন (রোগী আর ডাক্তারদের পারষ্পরিক অবিশ্বাস আমাদের দেশে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপারও বটে)। কাজেই তারা চিকিৎসকের পরামর্শের উপর জোর দেন। সাধারণ মানুষের মধ্যেও একটি প্রচলিত ধারণা হচ্ছে ( এটি পড়ানো হয়), পুরো কোর্স করা না হলে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী হবে। এই ধারণাটি খুবই পুরনো, সেই অ্যান্টিবায়োটিক যুগের শুরু থেকে এমন একটি ধারণা প্রচলিত। কিন্তু আসলেই কোনও প্রমাণ নেই। সম্প্রতি কিছু গবেষণা বলেছে, বিষয়টি সঠিক নয়। আসলে অ্যান্টিবায়োটিক কত দিন খেতে হবে সুস্থ হবার জন্যে এটি রোগী বিশেষের উপর নির্ভর করে ওঠানামা করে। সুতরাং সুস্থ হলেও আপনাকে বাকি কয়েকদিন অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে কিনা, সেটি নিয়ে খুব জোরালো কোনও প্রমাণ নেই। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে ভাবার অবকাশ রয়েছে। (তবে আপাতত যদি কোনও ডাক্তার আপনাকে অ্যান্টিবায়োটিক খেতে দেন, দয়া করে সেটি বন্ধ করতে হলে তার পরামর্শ নেবেন)

ধরে নিচ্ছি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন নিয়ে আমি অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছি, কিন্তু সেই ডাক্তার কিভাবে জানবেন যে তিনি আমাকে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েছেন? সুতরাং তাকে এমপেরিকালি একটি দিয়ে শুরু করতে হবে। আর আমাদের দেশে সত্যিকারভাবে ভালো কয়েকটি মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব আছে যেখানে কালচার আর সেনসিটিভিটি টেস্ট করা হয়। হ্যা, বড় শহর, আর স্বাস্থ্যের জন্যে খরচ করার মতো অসুবিধা না থাকলে হয়তো আপনার জন্যে সেটি সমস্যা হবে না। আরও একটি সমস্যা হচ্ছে আমাদের দেশে বহু ডাক্তারই রোগীকে শান্ত করতে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন। যদি আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটি সোসালিস্ট মেডিসিনের, যেমন, কানাডা বা ইংল্যান্ড, মতো কিছু হতো,যেখানে রোগীকে প্রথমে তাদের ফ্যামিলি ডক্টর বা ফ্যামিলি মেডিসিন প্রাকটিস করেন তাদের কাছে যেতে হতো, কথায় কথায় বিশেষজ্ঞের চেম্বারে যাবার সুযোগ থাকতো না, পরিস্থিতি ভিন্ন হতো (আসলেই এমন কিছু কিন্তু প্রস্তাব করা হয়েছিল, কিন্তু আমাদের চিকিৎসক সমাজ, বিশেষ করে আমাদের বিশেষজ্ঞ শিক্ষকরা তাদের ছাত্রদের জেনারেল এরশাদ সাহেবের বিরুদ্ধে খেপিয়ে দিয়েছিলেন, এবং এর প্রবক্তা আজো নানা ধরনের বিপদে আছেন)।

আরও একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশে ওষুধ বিক্রি করার প্রতিনিধিরা ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ একটি সম্পর্কে আছেন। কখনো ডাক্তারের চেম্বারে রোগীদের চেয়ে তাদের প্রবেশাধিকার থাকে বেশি। আর সম্মেলন আর ভোজসভার কথাতো বাদ দিলাম। তাহলে তিনি কোন কোম্পানির ওষুধ দেবেন, নিশ্চিন্ত মনে?

বেশ এবার মূল সমস্যায় আসি, যা আমাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দাবি করেছেন সুপারবাগ সম্বন্ধে। আর এর মাধ্যমে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করেছেন। জনগণের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে এধরনের বিভ্রান্তি কাম্য নয়। তবে ডাক্তারদের দোষ ধরবেন কে? তাদের বিভ্রান্তিটি হচ্ছে- সুপারবাগ তৈরি হয় আমার-আপনার প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার মাধ্যমে। আর বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার কারণ কী? তারা কি আসলেই জানেন না, নাকি অন্য কিছু? ধরে নিচ্ছি তারা জানেন, তাহলে সমস্যাটি মূলত তাদের নিজেদের দায়িত্ব এড়ানোর প্রচেষ্টা। আর কেন সেটা?

বেশ, সুপারবাগদের মূল জন্ম হয় হাসপাতাল বা কোনও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে। এ যাবত বিখ্যাত সুপারবাগরা হাসপাতাল থেকে সমাজে প্রবেশ করেছে, আর বর্তমানে যেসব কার্বাপেনেম জাতীয় ওষুধগুলোর প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াগুলো যেসব জিন বহন করে সেই সবকিছুই এসেছে হাসপাতাল থেকে।

সুপারবাগ কিভাবে তৈরি হয়, সেই বিষয়ে যারা কিছুটা অন্তত জানেন, তারা জানেন বিষয়টি শুধু হাসপাতালেই হওয়া সম্ভব। আর হাসপাতালে যে এলাকাটি বেশি এই ধরনের উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করে সেটি হচ্ছে আইসিইউ। যেখানে রোগীরা মুমূর্ষু এবং নিবিড় পরিচর্যায় থাকেন। যেমন, বিখ্যাত NDM-1 সুপারবাগ, সেটির জন্ম নতুন দিল্লীর কোনও হাসপাতালে, এটি ভারত-পাকিস্তানে বহু হাসপাতালে ছড়িয়ে আছে। ভারত অবশ্যই প্রতিবাদ করেছিল রাজনৈতিকভাবে, কিন্তু ভারতে নীতিবান বহু ডাক্তার আছেন যারা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন।

কেন হাসপাতাল? মনে রাখতে হবে হাসপাতালে অসুস্থ রোগীরা আসেন, যারা ইতিমধ্যে নানা ধরনের দীর্ঘমেয়াদী রোগে ভুগছেন, বা এর আগে কোনও হাসপাতালে তাদের কোনও না কোনও অপারেশন হয়েছে, সুতরাং এই ব্যাকটেরিয়াগুলোর জন্যে একটি উর্বর প্রজনন ক্ষেত্রই হচ্ছে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে হাসপাতালগুলো। আর হাসপাতালে নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। উদ্দেশ্য অবশ্যই রোগীদের জীবন বাঁচানো, তবে এটি খুব শক্তিশালী নির্বাচনী চাপ সৃষ্টি করে ক্ষতিকর সব ব্যাকটেরিয়াদের উপর, যারা হাসপাতালের বিভিন্ন পৃষ্ঠদেশ, যন্ত্র, সেবাদানকারীদের অপরিষ্কার হাত ইত্যাদি পুরো পরিবেশেই ছড়িয়ে থাকে। আর এটি এক রোগী থেকে অন্য রোগীর কাছে এদের সাধারণত নিয়ে যান ডাক্তার, নার্স ও তাদের অন্যান্য সেবাকর্মীরা।

সেটি হাতের মাধ্যমে হতে পারে, অথবা কোনও যন্ত্রের মাধ্যমেও হতে পারে। ওহ, হাসপাতাল আর মাইক্রোল্যাবের বর্জ্য নিষ্কাশনের কথা বাদই দিলাম। হাসপাতালে কাজ করেন এমন কারও কাছ থেকে সমাজে অন্য জায়গায়ও এই সুপারবাগ পৌঁছে যায়। হ্যাঁ তাদের নিজেদের পরিবারসহ আপনিও।

হাসপাতালের পরিবেশে এই ব্যকটেরিয়াগুলো স্বাধীনভাবে বংশবৃদ্ধি ও তাদের ক্ষতিকর জিনগুলো ( যে জিনগুলো বিশেষ এনজাইম তৈরি করে যা অ্যান্টিবায়োটিককে অকার্যকর করে তোলে) পারষ্পারিক আদান-প্রদান করে, যখন হাসপাতালে সঠিকভাবে ইনফেকশন কন্ট্রোল বা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়না। প্রতিটি হাসপাতালে ইনফেকশন কন্ট্রোলের একটি নিবেদিত টিম থাকা প্রয়োজন, আর এই টিমটিকে কাজ করার জন্যে দরকার একজন মেডিকেল মাইক্রোবায়োলিজস্ট এবং একটি দক্ষ মাইক্রোল্যাব। এছাড়াও দেশে একটি সার্ভেইলেন্স গড়ে তোলা দরকার, যারা হাসপাতালে এই ধরনের সুপারবাগের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করবে। সুপারবাগ নিয়ে আপনি যতই বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ পড়ুন না কেন, বিস্ময়করভাবেই দেখবেন সুপারবাগ ছড়াচ্ছে সেই রোগীদের যারা অন্য কোনও হাসপাতাল বা এর আগে কোনও বড় অপারেশনের রোগী ছিলেন বা এমন দেশে চিকিৎসা নিতে গেছেন যেখানকার হাসপাতালে এই ক্ষতিকর জীবাণু আছে।

অনেক রোগী আবার কোনও উপসর্গ ছাড়া তাদের শরীরে ‘সুপারবাগ’ বহন করতে পারেন, আর সেজন্য হাসপাতালে নিয়মিত রোগীদের স্ত্রিনিং করা উচিৎ (খুবই সহজ একটি পরীক্ষা)। আর যদি এই ধরনের কোনও বাহককে যদি তারা চিহ্নিত করেন অবশ্যই বিশেষভাবে সেই রোগীকে সবার থেকে আলাদা বা আইসোলেশন করে চিকিৎসা করতে হবে, যেন তাদের থেকে কোনওভাবে অন্য কোনও রোগী বা স্বাস্থ্যকর্মী এটির দ্বারা আক্রান্ত না হন। প্রতিটি হাসপাতালে এই জন্য ইনফেকশন কন্ট্রোল খুবই জরুরি ।

আমার মনে আছে বার্ড ফ্লু আতঙ্কের সময় দেশব্যাপি একটি ট্রেনিং কোর্সে দেশের অনেক জায়গায় আমাকে যেতে হয়েছিল। সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ইনফেকশন কন্ট্রোল প্র্যাকটিস, আর প্রায়ই আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের এমন হাসপাতালে কাজ করতে হয়, যেখানে পানির সমস্যা প্রকট। জানিনা এই এক যুগে কতটুকু কী বদলেছে! তবে আমি আশা করবো আমাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সুপারবাগ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নেবেন তাদের হাসপাতাল থেকে, কারণ এই ক্ষেত্রে তাদের উদাসীনতার পরিণতি ভয়াবহ।

পৃথিবীর প্রতিটি উন্নত দেশে এটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে, এই যুদ্ধে আমাদের নিজেদের যুক্ত করতে হবে। হাসপাতালকে সংক্রমণ মুক্ত করুন। যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করুন। কারণ হাসপাতাল থেকে আপনি সেই জীবাণু আপনার পরিবারে আর সমাজেও নিয়ে যাচ্ছেন। আর যদি তারা উদ্যোগী না হন, তাহলে কি আদালত উদ্যোগ নেবেন চিকিৎসকদের জিজ্ঞাসা করতে, আপনার হাসপাতাল কতটা সুপারবাগ নিয়ন্ত্রণে দক্ষ?

হয়তো এমন নির্দেশই তাদের অনেকের মনে যৌক্তিক দায়িত্ববোধের জন্ম দিতে পারে। কিন্তু কে জানে?