খুলনায় ফণী মোকাবিলায় প্রস্তুত ৩২৫ আশ্রয়কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক :  ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে খুলনা জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে জেলায় ৩২৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানান, ভারতীয় উপকূলে আঘাত হানার পর কিছুটা দুর্বল হয়ে আগামী শনিবার বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ফণী। এই ঝড় মোকাবিলায় ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে খুলনা জেলা প্রশাসন।

তিনি জানান, খুলনার তিন উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দার বলেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী মোকাবিলায় জেলার ৩২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় ১ হাজার ৯৫ জন ও দাকোপ উপজেলায় ১ হাজার ৩৬৫ জন স্বেচ্ছাসেবকসহ ২ হাজার ৪৬০ জন স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি এবং নয়টি উপজেলায় নয়টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। স্থানীয় লোকজনকে সতর্ক করতে উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে মাইকিং করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১১৪টি মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঘূর্ণিঝড় ফণী আঘাত হানার আশঙ্কায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে (নং-২৮) বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ফণী সামান্য উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে।

সকাল ৯টায় ঘূর্ণিঝড় ফণী মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ৯২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।