প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ও হজরত ওমরের (রা:) শাসন: সমান উত্তরাধিকার

(সরাসরি একথা প্রধানমন্ত্রী বলেননি। তিনি বলেছেন,  ‘মেয়েদের যে অধিকারটুকু সম্পদের সেখানেও অন্য কেউ এসে কেড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। শরিয়া আইনের দোহাই দিয়ে সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়। এর কোনো সুরাহা করা যায় কিনা তা দেখতে হবে। যদি কারো দুই মেয়ে হয় তাহলে আইনের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়। তাই মেয়ে বা ছেলে না লিখে সন্তান লিখে দিলে, সেখানে সন্তান ছেলেই হোক বা মেয়েই হোক তার অধিকারটুকু সে পাবে।’- সম্পাদক)

সে যাই হোক, সমান উত্তরাধিকার বা উত্তরাধিকার আইনটি সংস্কারের প্রস্তাবটা যতবারই উঠেছে আলেম সমাজ এর প্রচণ্ড বিরোধিতা করেছেন সুরা নিসা ১১ ও ১৭৬ আয়াতের ভিত্তিতে যেখানে কন্যাকে অর্ধেক উত্তরাধিকার দেওয়া আছে। তাদের দাবি, কোরান-রসূলের (স) কোনও আইন বিন্দুমাত্র বদলানো যাবেনা। এদিকে বিশ্ববরেণ্য অনেক ইসলামী বিশেষজ্ঞ দেখিয়েছেন কোরান-রসূলের (স) কিছু হুকুম শ্বাশত এবং কিছু হুকুম শুধু সেই সমাজের জন্য। পরিবর্তিত সমাজে সেগুলো প্রয়োগ করলে বিপর্যয় ঘটবে। সেজন্যই ১৪০০ বছরে মুসলিম নেতৃত্ব বাইরের কোনও চাপ ছাড়া নিজেরাই সেগুলোকে সমাজ বদলের সাথে সাথে ক্রমাগত পরিবর্তন করেছেন। এর অগ্রপথিক হলেন হযরত ওমর (রা:)। কিছু উদ্ধৃতি দিচ্ছি বিশ্ববরেণ্য ইসলামী বিশেষজ্ঞ থেকে, জানিনা মাদ্রাসায় এগুলো পড়ানো হয় কিনা। কেউ চাইলে কেতাবগুলোর পৃষ্ঠাগুলোর স্ক্যান পাঠানো যেতে পারে।

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শারিয়া-বিশেষজ্ঞের একজন ডঃ হাশিম কামালি। তিনি বলছেন- “নবী (দঃ)-এর সময়েই কোরান ও সুন্নাহ-তে কিছু সম্পূর্ণ ও কিছু আংশিক পরিবর্তন করা হয়। পরিস্থিতির পরিবর্তনই ইহার মূল কারণ”। তার বিখ্যাত গবেষণা গ্রন্থ ‘প্রিন্সিপলস অব্ ইসলামিক জুরিসপ্রুডেন্স’ এ এমনটাই বলেছেন হাশিম।

যেমন, (ক) “ইবনে উমর এই আয়াত পড়িত − ‘তাহাদের সুযোগ ছিল রোজা রাখা অথবা কোন দরিদ্রকে প্রতিদিন খাওয়ানো’ এবং বলিয়াছে এই আয়াতের আদেশ রহিত করা হয় – বুখারী ৩য় খণ্ড ১৭০। (খ) “বার্ মাউনাতে যাহারা নিহত হইয়াছিল তাহাদের উপর নাজেলকৃত আয়াতটি আমরা পড়িতাম কিন্তু পরে তাহা বাতিল করা হয়” -বুখারী ৪র্থ খণ্ড ৬৯।  (গ) নবীজীর সাথে একান্তে কথা বলতে হলে কিছু সদকা দিতে হবে এ-আয়াতও আল্লাহ পরে রহিত করেন – মুহিউদ্দিন খানের অনুদিত বাংলা-কোরান পৃষ্ঠা ১৩৪৭।

পরের পরিবর্তনগুলো অনেক, কিছু উদাহরণ দিচ্ছি:-

১. অমুসলিমদের ওপরে জিজিয়া কর – সূরা তওবা ২৯।

আয়াতটা স্পষ্ট, এতে কোনও শর্ত নেই, পরিমাণও দেয়া নেই। রসূল (স) নিজেই জিজিয়া কর নিতেন। কিন্তু হজরত ওমর (রা:) বিভিন্ন কারণে কিছু ব্যক্তি ও ইরানের এক গোত্রের কাছ থেকে জিজিয়া কর নেননি। তিনি নারী, শিশু, বিকলাঙ্গ, বৃদ্ধ ও যাজকদের কাছ থেকেও জিজিয়া নেয়া বন্ধ করে দেন – বিস্তারিত দেখুন মুহিউদ্দিন খানের অনুদিত বাংলা-কোরান, পৃষ্ঠা ৫৬৭।

অন্যান্য সূত্রে আমরা দেখি এমনকি এক মুসলিম গোত্রের কাছ থেকেও তিনি জিজিয়া কর নিয়েছেন। আরও দেখুন-

“সামরিক চাকরি হইতে রেহাই দিবার জন্য সক্ষম মুসলিম পুরুষদের উপর জিজিয়া ধার্য করা হইয়াছিল। খ্রিস্টান গোত্র আল্ জুরাজিমাহ-কে এই চুক্তিতে জিজিয়া হইতে অব্যাহতি দেওয়া হইয়াছিল যে তাহারা মুসলিমদিগের সহিত যোগ দিয়া যুদ্ধ করিবে ও গণিমতের অংশীদার হইবে” − ‘ইসলাম দ্য মিস্আণ্ডারস্টুড রিলিজিয়ন’, বিশ্ববিখ্যাত শারিয়া-নেতা সৈয়দ কুতুব।

উসমানীয় খেলাফত ১৯শ শতকে জিজিয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। সুরা তওবা আয়াত ৬০-এর ভিত্তিতে নবীজী (দঃ) মুয়ালাফা গোত্রকে যে জাকাত দিতেন সেটাও হজরত ওমর (রা:) বন্ধ করে দেন – ডঃ হাশিম কামালী, পৃঃ ২০৩।

এগুলোকে কি আমরা কোরান- রসূলের (স) লঙ্ঘন বলব? মোটেই নয়। কারণ যে মঙ্গলের জন্য বিধানগুলো এসেছিল তা আর সম্ভব হচ্ছেনা সমাজ পরিবর্তনের ফলে। তাই বিধানগুলোর পরিবর্তনে সমাজের মঙ্গল হয়েছে যেজন্য বিধানগুলো এসেছিল।

২. চোরের হাত কেটে দিতে হবে – মায়েদা ৩৮ – কোনও শর্তের উল্লেখ নেই।

কিন্তু হযরত ওমর (রা:) দুর্ভিক্ষের সময় চোরের হাত কাটা বন্ধ করেছিলেন – ডঃ হাশিম কামালী, পৃঃ ৩২৫। ইমাম শাফি-কে যখন প্রশ্ন করা হল চুরি প্রমাণিত হলে চোরের হাত কাটা বাধ্যতামূলক কিনা, তিনি জবাব দিয়েছিলেন – “হ্যাঁ, সঠিক” – ‘আল শাফি’স রিসালা’ পৃষ্ঠা ২৯০, অনুবাদ ড: মজিদ খাদ্দুরী।

ইমাম শাফি কোনও শর্ত বা পরিমানের উল্লেখ করেননি। শতাব্দী ধরে আলেমরা এতে অনেক শর্ত যোগ করেছেন। যেমন- চুরির জিনিস এক চতুর্থাংশ স্বর্ণমুদ্রা বা তিন রৌপ্যমুদ্রা বা ওই মূল্যের কিছু বা সফরের সময়ে চুরি হলে শাস্তি প্রয়োগ হবে না ইত্যাদি। এসব পরিবর্তনের একমাত্র কারণ পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও সমাজ। মুসলিম নেতৃত্ব বহু আগেই চোরের হাত কাটা বন্ধ করেছেন।

৩. মুসলিম পুরুষদেরকে অনুমতি দেয়া হল ইহুদি-খ্রিস্টান নারীকে বিয়ে করার– মায়েদা ৫। কিন্তু হজরত ওমর (রা:) বিশেষ ক্ষেত্রে ইহুদি-খ্রিস্টান নারীকে বিয়ে করা বন্ধ করেছেন – ডঃ হাশিম কামালী, পৃঃ ৩২৫।

হাদিসেও আছে অনেক, যেমন: “আলী ইবনে আবু তালিব বলিয়াছেন – মদ্যপানের জন্য আলাহ’র রসুল (সাঃ) এবং আবু বকর (র) চল্লিশ বেত্রাঘাত দিয়াছেন এবং ওমর (র) তাহা আশি করেন” − সহি আবু দাউদ হাদিস নং ৪৪৬৬। নবীজির (সাঃ) সময়ের তামাত্তু হজ্জের পদ্ধতিও বদল করেছেন হযরত ওসমান (র)- সহি বুখারি ২য় খণ্ড হাদিস ৬৩৪।

নবীজি (সাঃ) পরের নেতা জনগণের ইচ্ছের ওপর ছেড়ে গিয়েছিলেন, হজরত আবু বকর (র) রসুলের অনুকরণ না করে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হজরত ওমরকে (রা:)। হজরত ওমরও (রা:) রসুলের (সা:) অনুকরণ না করে ছয়জনের কমিটি বানিয়ে তার ওপর ভার দিয়েছিলেন ওই কমিটির ভেতর থেকেই পরের খলিফা ঠিক করতে। সমাজ বদলের সাথে কোরান-রসূলের (সাঃ) কিছু বিধানের এই পরিবর্তনে সমাজের স্থিরতা বজায় ছিল ও বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছিল।

মওলানা মওদুদি বলেছেন -“বিভিন্ন পয়গম্বরের প্রচারিত বেহেশতী কেতাবে নির্দেশিত ইবাদতের পদ্ধতিতে, হালাল-হারামের বিধানগুলিতে ও সামাজিক আইনগুলির বিস্তারিত কাঠামোতে ভিন্নতা আছে কেন? (কারণ) স্বয়ং আল্লাহ বিভিন্ন সময়ের, বিভিন্ন জাতির ও বিভিন্ন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াইবার জন্য আইনের ধারা বদলাইয়াছেন’’ – (It is God Himself Who altered the legal prescriptions to suit different nations at different times and in different circumstances) – তাফহিমুল কুরান, মায়েদা ৪৮-এর ব্যাখ্যা। গত ১৪০০ বছরে সমাজের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। তাই কোরানের উত্তরাধিকার বিধানও বিদ্যমান পরিস্থিতি অনুযায়ী সংশোধন করাটা গুরুত্বপূর্ণ।

‘‘আমি কোন আয়াত রহিত করিলে বা ভুলাইয়া দিলে তাহা অপেক্ষা উত্তম বা সমপর্যায়ের আয়াত আনি’’ -বাকারা ১০৬ এবং ‘‘যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত আনি এবং আল্লাহ যা নাজিল করেন তা তিনিই ভালো জানেন’’ – নাহ্‌ল আয়াত ১০১। একে বলে নস্‌খ্‌। এর মধ্যেই নিহিত আছে ইসলামের গতিময়তা, এজন্যই ইসলাম চির আধুনিক।

ডঃ কামালি বলছেন, ‘‘মানুষের উপকারের জন্য সমাজের বিদ্যমান পটভূমি ও আইনের সমন্নয় করার প্রয়োজনে নস্‌খ্‌‌ আসিয়াছে। কোরান ও হাদিসে নখ্‌স্‌-এর সর্বপ্রধান কারণ হইল স্থান-কালের বিষয়টি- নবী (দঃ)-এর সময়েই কোরান ও সুন্নাহ-তে কিছু সম্পুর্ণ ও কিছু আংশিক পরিবর্তন করা হয়। পরিস্থিতির পরিবর্তনই ইহার মূল কারণ।’’ – প্রিন্সিপল্‌স অব ইসলামিক জুরিস্প্রুডেন্স। এই গতিময়তার কারণেই কোরান-রসুলের (স) অনেক নির্দেশ এখন মওলানারাও হয় মানবেন না বা ইচ্ছে করলেও মানতে পারবেন না যেমন রসুলের সামনে উঁচু গলায় কথা না বলা (হুজরাত ২), দাসীসংসর্গ (মুমিনুন ৫, ৬), সম্মানিত মাসে যুদ্ধ (বাকারা ২১৭), উটের মূত্র পান করা (বুখারী ৮ম খণ্ড ৭৯৭), ইত্যাদি।

মওলানা মুহিউদ্দিনের কোরানের অনুবাদেও এটা আছে ৩৩৪ ও ৫৩ পৃষ্ঠায়- ‘‘নাসিখ ও মনসুখের অবস্থা একজন বিজ্ঞ হাকিম ও ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রের মতো। ডাক্তার যখন পূর্ববর্তী ব্যবস্থাপত্র রহিত করে নূতন ব্যবস্থাপত্র দেন তখন এরূপ বলা ঠিক নয় যে পূর্বের ব্যবস্থাপত্রটি ভুল ছিল। বরং আসল সত্য হচ্ছে এই যে, বিগত দিনগুলোতে সে ব্যবস্থাপত্রই নির্ভুল ও জরুরি ছিল এবং পরবর্তী পরিবর্তিত অবস্থায় পরবর্তী পরিবর্তিত এ ব্যবস্থাপত্রই নির্ভুল ও জরুরি’’।

৪. কোন কোন পরিস্থিতিতে কোরান অনুযায়ী মৃতের কে কে কী কী উত্তরাধিকার পাবে সেই চিত্রগুলো উল্লেখ করে অনেকে দেখান যে সবগুলো পরিস্থিতি একত্রে দেখলে নারীরাই বেশি পান। কাগজের হিসেবে অঙ্কটা ঠিক। কিন্তু যেসব ক্ষেত্রে নারীরা বেশী পান সেগুলো প্রায় ঘটেই না, প্রায় ১০০ শতাংশ ক্ষেত্রেই মৃতের পুত্রকন্যা ও স্ত্রী বা স্বামী থাকে যেখানে কন্যারা অর্ধেক পায়।

৫. স্বামীর ভরণপোষণের দায়িত্বের যুক্তিটা সর্বগ্রাসী বেকারত্ব, দারিদ্র্য ইত্যাদির ঝড়ে উড়ে গেছে সেই কবে! আর, শারিয়া আইনে সেই দায়িত্ব হলো – ‘‘স্বামী খাবার, বাসা ও পোশাক দিবে বাধ্য স্ত্রীকে, অবাধ্য স্ত্রীকে নহে। বাচ্চা হইবার সময় ব্যতীত অন্য সময়ে ডাক্তার-ওষুধের খরচ বা সাবান-প্রসাধন কিংবা দিতে স্বামী বাধ্য নহে’’ – (হানাফি আইন হেদায়া পৃষ্ঠা ১৪০ ও শাফি’ আইন এম-১১-৪)। বলাইবাহুল্য স্ত্রী বাধ্য কিনা তা কিন্তু ঠিক করবে ওই স্বামীই। মুহিউদ্দিন খান অনুদিত কোরান পৃষ্ঠা ৮৬৭ – ‘‘স্ত্রীর যে প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার বহন করা স্বামীর জিম্মায় ওয়াজিব তা চারটি বস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ – আহার, পানীয়, বস্ত্র ও বাসস্থান। স্বামী এর বেশি কিছু স্ত্রীকে দিলে অথবা ব্যয় করলে তা হবে অনুগ্রহ, অপরিহার্য নয়’’।

এসব আইন ‘ইসলাম নারীকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে’ এ দাবি নস্যাৎ করে ফেলে। তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী খরপোষ পাবে তিনমাস, তাৎক্ষণিক তালাকে খরপোষের কোনো বালাই-ই নেই। তারপর সে কি খাবে পরবে তার হদিস নেই; তার সম্ভাব্য গন্তব্য পতিতালয়। এইসব কারণে নারীকে অর্থিক দিক দিয়ে শক্তিশালী করার দরকার আছে।

৬. স্ত্রীর মোহরানা তার রক্ষাকবচ হলে ভালো হতো কিন্তু শারিয়া আইনে দেনমোহর টাকা ছাড়াও হতে পারে একজোড়া জুতো বা কোরান থেকে কিছু তেলাওয়াত -শারিয়া দি ইসলামিক ল’ পৃষ্ঠা ১৬৩, ১৬৪ ও বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন ৩য় খণ্ড পৃষ্ঠা ৯৭৬, বুখারী ৭ম খণ্ড ২৪ ও তিরমিজি ৯৫১। তাছাড়া নারীর সারাজীবনের খরচ চালাবার মতো দেনমোহর কমই ধার্য করা হয়, নারী তা কম ক্ষেত্রেই পায়।

৫. সুরা নিসা আয়াত ১১ অবতীর্ণ হয় সাহাবী আউস বিন সাবেত নাবালক এক পুত্র ও বালেগ দুই কন্যা রেখে মারা গেলে – মওলানা মুহিউদ্দিনের অনুদিত কোরান পৃষ্ঠা ২৩৪। আইন দুর্বলকে অগ্রাধিকার দেবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিশ্বের সব মুসলিম পুরুষ নাবালক নয়, তাই আয়াতটাকে সবার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়না। নিসা ১৭৬-এর পটভূমি ইমাম ওয়াহিদি’র “আসবাব আল নুযুল” কিতাবেও পেলাম না, কেউ জানালে বাধিত হবো।

অতীতের গোত্র-ভিত্তিক পারিবারিক কাঠামো পার হয়ে একান্নবর্তী কাঠামোতে বহু সদস্যের কারণে নারীর কিছুটা হলেও সাহায্যকারী ছিল। বর্তমানের একক পরিবারে সেটা নেই, নারীর ওপর আজ বহু দায়িত্ব। দুজনের আয় ছাড়া সংসার চলেনা, বাচ্চাদের শিক্ষার খরচ জোটেনা। বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মায়ের যত্নও কন্যারা পুত্রের চেয়ে কম নেয় না। তাই তার আর্থিক শক্তির দরকার আছে। দায়িত্ব থাকবে অথচ অধিকার থাকবেনা তা হয়না। রসূলের (স) পরে পরেই সমাজকল্যাণের কারণে কোরান-রসূলের (স) তাৎক্ষণিক কিছু বিধানকে যদি হযরত ওমর (র) পরিবর্তন করতে পারেন, তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে যদি ৯৮ শতাংশ মুসলিমের দেশ তিউনিশিয়ার আলেমদের সহায়তায় সরকার সমান উত্তরাধিকারের আইন করতে পারে, তাহলে সেটা আমাদের সরকার ও আলেমরাও পারবেন।