যশোরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১১ পরিবার পেল স্থায়ী ঠিকানা

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ১১ পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৪ শতক জমি দেয়া হয়েছে। জায়গা হয়েছে যশোর সদরের নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাহাবাটি মৌজায়।

 

বৃহস্পতিবার যশোর জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে এই ভূমিহীন পরিবারগুলোর হাতে জমির দলিল হস্তান্তর করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।

এসময় ড. গওহর রিজভীর কাছ থেকে দলিল গ্রহণ করেন হামিদপুর ময়লাখানা এলাকার প্রভাস সরদার ও তার স্ত্রী মুনিলা সরদার, বেজপাড়ার দিলীপ সরদার ও তার স্ত্রী অনিতা সরদার, রবিন সরদার ও তার স্ত্রী মালতি সরদার, তরনী সরদার ও তার স্ত্রী শেফালী সরদার দম্পতি, স্বামী হারা অঞ্জলি সরদার, সিতু রাণী সরদার, চম্পা রাণী সরদার শুটকি, মহারাণী সরদার, সীমা সরদার গেবলে, সুখসা রাণী, মমতা রাণী।

একইসাথে ইজিবাইকে বাবার সাথে রাস্তায় দিন কাটানো জান্নাতুল মাওয়াকেও স্থায়ী ঠিকানার জন্য দেয়া হয় ৫ শতক জমি। সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারানো মেধাবী ছাত্রী নিপার চিকিৎসার জন্য দুই লাখ টাকা, দুর্ঘটনায় নিহত এক ব্যক্তির শিশুকন্যার জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকার এফডিআর দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ড. গওহর রিজভী বলেন, এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের সবকটি অর্জনের মধ্য দিয়েই সাফল্য নিশ্চিত করা সম্ভব। এজন্য সব শ্রেণি-ধর্মের পুরুষ-মহিলা, শিশু-বয়স্ক, ধনী-গরিব, শহর-গ্রাম সবাইকে নিয়ে একসাথে এগিয়ে যেতে হবে। কাউকে পিছিয়ে রেখে লক্ষ্য পূরণ সম্ভব না। প্রধানমন্ত্রী সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি, শিশুদের বিনামূল্যে শিক্ষা ও বই প্রদান, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণের মতো কর্মসূচি দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন যত বেশি সরবরাহ করা হবে,ততই অর্জন বেশি হবে।

তিনি বলেন, যারা পিছিয়ে পড়া, যাদের গরিব বলি তারা অনগ্রসর শ্রেণি। তাদের সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসতে না পারলে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্য অর্জন হবে না।

জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসমাত আরা সাদেক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন।

উল্লেখ্য, প্রায় দুইশ বছর আগে এই ভূ-খণ্ডে নীলচাষের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছিল জনগণ। সময়ের বিবর্তনে নীলচাষ বিলুপ্ত হয়েছে। তবে টিকে আছে নীলচাষ শ্রমিকদের বংশধররা। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর এই সদস্যরা বংশ পরম্পরায় ভূমিহীন। সমাজে সাউতাল (বুনো) সম্প্রদায় হিসেবে তারা পরিচতি। আজ এই জমি পাওয়ার মধ্যে দিয়ে প্রায় দুইশো বছরের ভূমিহীনের গ্লানি মুছে গেল তাদের।