নুসরাত হত্যায় ব্যবহৃত বোরকা মাদ্রাসার পুকুর থেকে উদ্ধার

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক : ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়া আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমের ব্যবহৃত বোরকা মাদ্রাসার পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পিবিআই।

শামীমের তথ্যমতে শনিবার (৪ মে) দুপুরের দিকে ওই পুকুর থেকে এ বোরকা উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ২০ এপ্রিল সকালে আরেক আসামি সাইফুর রহমান জোবায়ের ওরফে জোবায়ের হোসেনের ব্যবহৃত প্রথম বোরকা সোনাগাজী কলেজ সংলগ্ন ডাঙ্গি খাল থেকে উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম জানান, গত ২ মে ওই মামলায় গ্রেফতারকৃত পাঁচ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইন। রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শাহাদাত হোসেন শামীম হত্যাকাণ্ডে তার ব্যবহৃত বোরকা মাদ্রাসার পুকুরে ফেলেছে বলে জানায়। অন্যদিকে আরেক আসামি জাবেদ হোসেনও তার ব্যবহৃত বোরকার ব্যাপারে তথ্য দেয়।

এরপর ৪ মে (শনিবার) দুপুরে শামীম ও জাবেদকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পিবিআই। শামীম জানায়, নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে মাদ্রাসা পুকুরের পূর্ব পাশে বোরকাটি ফেলে দিয়ে পাশের বাড়ির ওপর দিয়ে সে কলেজ রোডে চলে যায়। তার দেখানো স্থানে তল্লাশি চালিয়ে কালো রঙের বোরকাটি উদ্ধার করা হয়। তবে জাবেদের দেওয়া তথ্যমতে একাধিক স্থানে অভিযানে গিয়েও সেই বোরকা পাওয়া যায়নি। সেজন্য তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

এরপর দুপুরে আসামি শামীম ও জাবেদকে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে হাজির করলে বিচারক দু’জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

শামীম ও জাবেদ আগেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেদিন মামলার অন্য তিন আসামি এমরান হোসেন মামুন, মহি উদ্দিন শাকিল ও ইফতেখার উদ্দিন রানার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলা ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পরীক্ষার আধঘণ্টা পূর্বে প্রশ্নপত্র দেওয়ার লোভ দেখিয়ে জোরপূর্বক যৌন হয়রানির চেষ্টা চালান। সেদিন নুসরাতের মা বাদী হয়ে সিরাজের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিরাজকে গ্রেফতার করা হয়।

ওই মামলা তুলে না নেওয়ায় গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে কৌশলে ডেকে পাশের ভবনের তিন তলার ছাদে নিয়ে সিরাজ-উদ দৌলার সহযোগীরা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিচয় আড়াল করতে বোরকা পরে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় তারা। পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গত ১০ এপ্রিল রাতে মারা যায় নুসরাত। ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায় তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

নুসরাতকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে নয় আসামিই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।