বিশ্বকাপ দলে রাহী আউট, তাসকিন ইন

ক্রীড়া প্রতিবেদক::
পেস আক্রমণে বৈচিত্র্য আনতে তাসকিন আহমেদকে বিশ্বকাপ দলে চাইছে আয়ারল্যান্ড সফরে থাকা বাংলাদেশ দলের ম্যানেজমেন্ট। তবে ক্রিকেট বোর্ড চাইছে না এখনই কোনো পরিবর্তন আনতে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানিয়েছেন, ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচ ও ইংল্যান্ডে অনুশীলন দেখেই নেয়া হবে সিদ্ধান্ত।

আবু জায়েদ রাহির জায়গায় তাসকিনের অন্তর্ভূক্তির যে কথা উঠেছে তা সত্যি নয়। কেননা এখনও এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। শনিবার নাজমুল হাসান পাপন গুলশানে নিজ বাসায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বললেন এমনই।

‘বোলিংয়ে ভারসাম্য আনতে ব্যাপারটা আলোচনায় এসেছে। তাসকিন অনেক লম্বা এবং দ্রুতগতির পেসার, সেক্ষেত্রে তাকে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট। কেননা লম্বা হওয়ায় বাউন্সার মারতে পারবে। পেস অ্যাটাক ভারসাম্যপূর্ণ হবে। দলে যে পেসার আছে, তাদের মধ্যে রুবেল একটু গতিতে বল করে। মাশরাফি, রাহি, মুস্তাফিজ, সাইফউদ্দিন- এরা কিন্তু খুব জোরে বোলিং করে না। সেক্ষেত্রে ওরা চাইছে তাসকিনকে। কোচের একটা পছন্দ আছে।’

তাহলে বিষয় কি দাড়ালো, কোচের ইচ্ছেয় বিশ্বকাপ দলে বদল আনতে যাচ্ছে বিসিবি। তাসকিনকে বিশ্বকাপের ১৫ জনের দলে জায়গা দিতে হলে দলের কোনো একজনকে তো বাদ পড়তে হবে। সেক্ষেত্রে আবু জায়েদ রাহী ছাড়া আর ভিন্ন কোনো অপশনও নেই।

এখন প্রশ্ন হলো তাসকিনকে যদি এভাবে জায়গা দিতেই হয়, তাহলে বিশ্বকাপ দলে আবু জায়েদ রাহীকে কেন দলে নেয়া হয়েছিলো? সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো আবু জায়েদ রাহী তো এখন পর্যন্ত আয়ারল্যান্ড সফরে কোনো ম্যাচেও খেলেননি। জাতীয় দলে তিনি জায়গা পেলেন, তাও আবার বিশ্বকাপের মতো স্কোয়াডে। অথচ সেই তিনি কোনো ম্যাচে খেলার সুযোগ পাওয়ার আগেই শুনছেন বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ার খবর!

নাজমুল হাসান পাপন বলে, ‘তবে আমরা ত্রিদেশীয় সিরিজ দেখবো। এখনও তো রাহি কিংবা তাসকিন খেলেইনি। দেখে বোঝা যাবে। তাছাড়া ফিটনেসের ব্যাপারও আছে। তাসকিন প্রস্তুতি ম্যাচে ৩ উইকেট নিলেও শতভাগ দিয়ে কিন্তু বোলিং করতে পারেনি। ত্রিদেশীয় সিরিজের পর লেস্টারশায়ারে ৫ দিনের ক্যাম্প আছে। সেখানে দেখার সুযোগ পাব। ২৩মে বিশ্বকাপ দলে পরিবর্তন আনার শেষ তারিখ। ওই তারিখ পর্যন্ত দেখেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বকাপ দলে থাকার পরও কেন আবু জায়েদকে বাদ দেয়ার ভাবনা আসছে? জবাবে নাজমুল হাসান বললেন, ‘রাহীকে যখন দলে নেয়া হয়েছিলো তখন তো তাসকিন ইনজুরিতে ছিলো। ফিট ছিলো না। তাসকিন তখন ইনজুরিতে ছিল বলেই বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের দলে আবু জায়েদ রাহীকে নেয়া হয়েছিলো। এখন যেহেতু তাসকিন ফিট এবং কোচ তাকে চেয়েছেন তাই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। আরেকটি কথা হলো দলে কারো জায়গা নিশ্চিত নয়।’

চোট বাধা হয়ে না এলে বিশ্বকাপ দলে অবধারিতভাবেই থাকতেন তাসকিন। কিন্তু বিপিএলে পাওয়া চোট সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। যখন ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়, তখনও চোট থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি এ পেসার। যে কারণে দলে রাখা হয় আবু জায়েদকে। ২৩ মে’র আগে তাসকিন যদি নিজেকে মেলে ধরতে পারেন, তাহলে তারই সম্ভাবনা বেশি থাকবে বিশ্বকাপে খেলার- এমন আভাসই মিলল বিসিবি সভাপতির কথায়। আপাতত এই সমীকরণের পথেই হাঁটছে বিসিবি। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে নাম পাঠানো বাকি।

দিন দুয়েক আগে দেশের বেশ কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে চাউর হয়েছিল, বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফর বাতিল করেছে বিসিবি। আসল খবর হলো, লঙ্কা সফর বাতিল হয়ে যায়নি। তবে পেছানো হয়েছে। যেহেতু দেশটিতে নিরাপত্তা হুমকি আছে, সেহেতু তিন ম্যাচ সিরিজের ওয়ানডে খেলেতে জুলাইয়ে টাইগারদের লঙ্কা অভিযানে যাওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তা ইস্যুতে যখনই সবুজ সংকেত মিলবে, তখনই সফরে রওনা হবে লাল সবুজের দল।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানালেন, ‘শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা ছিল একটাই; ওদের দেশের এখন যে পরিস্থিতি তাতে আমাদের দলের এই মুহূর্তে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তাদের সাথে আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল সব কিছুই ঠিক আছে। কিন্তু এখন যা অবস্থা যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। এটা বাংলাদেশ না, যে কোনো দলের জন্যই প্রযোজ্য।’

তিনি আরও জানান, ‘দ্বিতীয় কথা হচ্ছে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নিজেই বলছেন ওদের দেশে আবার হামলার সম্ভাবনা আছে। অতএব যেহেতু ওরাই বলছে হামলার সম্ভাবনা আছে, তাই এই মুহূর্তে ওখানে সফরের সুযোগ নেই। যদি পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং তারা যদি আমাদেরকে আশ্বস্ত করে যে সব ঠিক আছে এবং আমাদের সিকিউরিটি ইন্টিলিজেন্স যদি ক্লিয়ারেন্স দেয় তখন দেখব যাওয়া যায় কী না।’