সূর্যের তেজে হাসফাঁস অবস্থা

বিল্লাল হোসেন>
সূর্যের তেজে সবার জীবন ওষ্ঠাগত। ক্রমেই দাপদাহ বেড়ে যাওয়ায় মানুষ রীতিমতো নাজেহাল। গরম সহ্য করতে না পেরে মানুষ হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। প্রচন্ড গরমে কান্ত মানুষ বৃষ্টি কামনা করছে।
শুক্রবার যশোরে তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠা নামা করে। কিন্তু গরমের মাত্রা কমেনি। রোদের প্রচন্ড তাপে প্রাণিকুলে হাঁসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছে। আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, যশোরে আপাতত বৃষ্টির কোন সম্ভাবনা নেই। দিনের বেলায় দাবদাহ আরও বাড়তে পারে।
ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাব কেটে যাওয়ার পর সারাদেশের ওপর দিয়ে তীব্র মাত্রার দাবদাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে দাবদাহের মাত্রা যশোরেই বেশি রয়েছে। গত ৮ মে যশোরে তাপমাত্রা ছিলো ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা দেশের সর্বোচ্চ হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ৯ মে তাপমাত্রা ছিলো ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিলো ২৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এভাবে প্রতিদিন তাপমাত্রা বাড়ছে।
আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় বেশি যশোরে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে। তাপদাহ আরও দুই থেকে তিনদিন অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবার যশোরে তাপদাহ আরো বাড়তেও পারে। রোববার থেকে হালকা বৃষ্টি ঝরা শুরু হলে হালকা তাপমাত্রা কমতে পারে। অব্যাহত তাপমাত্রায় প্রাণিকুল হাপিয়ে উঠছে। প্রচন্ড গরমে শরীর নানাভাবে শীতল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাপের ভয়ে মানুষ প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। তবে সবচেয়ে বিপাকে রয়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। রোদে পুড়ে ফসল ঘরে তুলতে চাষিরা হাপিয়ে উঠছেন। চান্দুটিয়া গ্রামের জসিম উদ্দিন জানান, এই রোদে ক্ষেত থেকে ধান কেটে বাড়ি নিতে গিয়ে তারা রীতিমতো কান্ত। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত। প্রচন্ড তাপের মধ্যে কাজ করার কারণে রোজা রাখতেও পারছেন না তার মতো অনেক চাষি। শহরের দড়াটানায় কথা হয় রিকসা চালক আজিবর রহমানের সাথে। তিনি জানান, পায়ে চালানো রিকসা হওয়ায় তাদের কষ্ট অনেক বেশি হচ্ছে। রোদের মধ্যে দাঁড়ালেই মনে হচ্ছে তাপে গা পুড়ে যাচ্ছে। সামান্য পথ পাড়ি দিতেই কান্ত হয়ে যাচ্ছি। তবুও বাধ্য হয়ে রিকসা চালাতে হচ্ছে। জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে যশোর শহরের বেজপাড়া তালতলায় গরম সহ্য করতে না পেরে এক ব্যক্তি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। স্থানীয়রা তার চোখে মুখে পানি দেয়ার কিছু সময় পর জ্ঞান ফিরে পান। চুড়ামনকাটি গ্রামের তাসনিয়া নুসরাত জানান, গরম সহ্য হচ্ছে না। তাই মোটর চালিয়ে টিউবওয়েলের পানিতে শরীর ঠান্ডা করছি। গৃহবধূ ময়না খাতুন জানান, সূর্যের তেজে তার মতো অনেকের জীবন ওষ্ঠাগত। সামান্য শান্তির জন্য মানুষ ছায়া ও শীতল পরিবেশে থাকছেন। সবজি চাষি শফিকুল ইসলাম জানান, কাজ না করে বসে থাকলেও শরীর ঘেমে যাচ্ছে। অল্পতেই অতিরিক্ত ঘেমে কান্ত হয়ে পড়ছেন চাষিরা। চুড়ামনকাটির সাইফুল ইসলাম, সাতমাইলের রবিউল ইসলাম, হৈবতপুরের মগগুল হোসেনসহ অনেকেই জানান, অব্যাহত গরমে মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে এই বুঝি পড়ে গেলাম। জীবন যায় যায় অবস্থা। অতি সত্তর বৃষ্টি কামনা করেই সময় পার করছেন তারা।