চৌগাছায় তালিকায় নাম একজনের, ঘর পেয়েছে অন্যজন

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
গৃহহীনদের জন্য ঘর বরাদ্দে ইউনিয়ন পর্যায়ে যশোরের চৌগাছার সিংহঝুলি ইউনিয়নে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যেগে ‘যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মান’ উপ-প্রকল্পে এই অনিয়ম করা হয়েছে। ছবিসহ তালিকায় নাম থাকলেও এক ব্যক্তি ঘর পাননি।

টাকা নিয়ে সেই ঘর অন্য জনকে দিয়েছেন চেয়ারম্যান। যার নাম তালিকায় ছিল না। এমনকি পাশের ধুলিয়ানী ইউনিয়নের একজনকে ঘর দেয়া হয়েছে সিংহঝুলি ইউনিয়নে। একই সাথে স্বজনপ্রীতিও করা হয়েছে। এই ঘটনায় তোলপাড়া চলছে গোটা উপজেলা জুড়ে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আবাসন প্রকল্পের অধীনে ‘যাদের জমি আছে কিন্তু বাড়ি করার ক্ষমতা নেই, তাদের বাড়ি করে দিতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেন। সেই প্রকল্পের আওতায় যশোরের চৌগাছা উপজেলার ৩ নং সিংহঝুলি ইউনিয়নে ৭৯টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু খোঁজ নিয়ে
দেখা গেছে, ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘর বরাদ্দে করেছেন দুর্নীতি। তিনি যাদেরকে ঘর দিয়েছে তাদের মধ্যে নিজের ভাই, ভাইপো বাদে প্রায় সকলের কাছ থেকে নিয়েছেন ১০/১৫ হাজার টাকা। আবার সরকারি তালিকায় ছবিসহ নাম থাকলেও তাকে ঘর না দিয়ে দিয়েছেন অন্যজনকে। যার বিনিময়ে নিয়েছেন টাকা।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সিংহঝুলি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়াডের্র মাজালি গ্রামের হতদরিদ্র মৃত আজহার আলীর ছেলে আব্দুল কাদের। পেশায় ইলেকট্রিক শ্রমিক। মাথা গোজার জন্য চার শতক জমি আছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘরের তালিকায় সরকারিভাবে ছবিসহ তার নামও আছে। তারপরেও তিনি ঘর পাননি।

আব্দুল কাদের বলেন, ‘সেই সময় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদল ঘর বাবদ ১০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। কোথায় পাবো এতো টাকা? চেয়ারম্যান বাদলের টাকা সংগ্রহকারী আমাদের গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে রনিকে হাতে পায়ে ধরে অনুরোধ করেছিলাম। রনির এক কথা চেয়ারম্যান বলেছেন টাকা না হলে ঘর হবে না। টাকা দিতি পারিনি তাই ঘর হয়নি।’

সিংহঝুলি ইউনিয়নের সরকারি ভাবে হত দরিদ্রদের নামের তালিকায় দেখা যায় ৭৯ নং নামটি আব্দুল কাদেরের। তার পরিবর্তে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘর পেয়েছেন সরকারি তালিকায় নাম না থাকা একই গ্রামের শাহাজাহান আলীর ছেলে আসলাম। আব্দুল কাদের ঘর পেলেননা, অথচ তারই লেখা একটি প্রত্যায়ন পত্র সরকারি দফতরে জমা হয়েছে। যেখানে কাদের লিখিতভাবে ঘর পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

এ সর্ম্পেকে কাদের বলেন, আমি নিজের নাম স্বাক্ষর করতে এবং পড়তে পারি। আমিতো ঘরই পায়নি, তাহলে প্রত্যায়ন পত্রে স্বাক্ষর করবো কেনো ? আবার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের ঠিকানা দিয়ে পলাশ নামে এক জনকে ঘর দেওয়া হয়েছে। যার বাড়ি পাশের ধুলিয়ানি ইউনিয়নের কাবিলপুর গ্রামে। শুধু তাই নয়, সিংহঝুলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম খলিল বাদল তার নিজের ভাইপো টিটন এবং আপন ভাই মুসার নামেও ঘর বরাদ্দ দিয়েছেন। অথচ তারা আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান, সেই সময় ইউনিয়ন পরিষদের সভায় মেম্বরদেরকে চেয়ারম্যান বলেছিলেন, সরকারি ঘর এসেছে। ঘর নিতে হলে ১০ হাজার করে টাকা দিতে হবে। মেম্বররা তখন সরকারি বরাদ্দের ঘর টাকা দিয়ে কেনো নেবো জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বাদল বলেন, ঘর নিতে হলে টাকা লাগবেই। এরপরে আর চেয়ারম্যান তাদের সাথে ঘর নিয়ে কোনো আলোচনা করেননি।

এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, এই উপজেলায় আমার যোগদানের আগের ঘটনা। ফলে এই বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। তবে খোঁজ নিয়ে অবশ্যই দেখা হবে।