‘ছেলেধরা’ গুজব, বিপাকে মানসিক প্রতিবন্ধীরা

::স্পন্দন ডেস্ক::
ছেলেধরা বা রোহিঙ্গা গুজবে সবচেয়ে বেশি বিপদের মধ্যে রয়েছে চারপাশে ঘুরেবেড়ানো মানসিক প্রতিবন্ধীরা। তাদের কোন নির্দিষ্ট কোন গন্তব্য নেই। এক স্থানে তারা বেশিদিন অবস্থানও করে না। রাষ্ট্রীয় সীমারেখা তাদের আটকাতে পারে না। প্রতিদিন নিত্য নতুন স্থানে ছুটেচলা পাগলরা গণধোলাইয়ের শিকার হচ্ছে। নিরীহ আগুন্তকরাও বাদপড়ছে না গুজব বিশ্বাসীদের আক্রশ থেকে। ফলে এখনো ঘটছে সহিংস ঘটনা।

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি জানান, অভয়নগরে পাগল বা পাগল প্রকৃতির মানুষ দেখলেই রোহিঙ্গা বা ছেলেধরা সন্দেহে গণধোলাই দেওয়া হচ্ছে। আইন নিজের হাতে না নিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধশীল হতে আহবান করেছেন অভয়নগর থানার ওসি আলমগীর হোসেন।

অভয়নগরের বিভিন্ন এলাকায় ছিন্নমূল, বাস্তহারা, পাগল বা পাগল প্রকৃতির মানুষ দেখলেই তাদের উপর চড়াও হয়ে ব্যাপক মারপিট শুরু করছে স্থানীয় কিছু মানুষ। এমনও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে রোহিঙ্গা বা পাগল ধোয়াতুলে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক আক্রোশে প্রতিপক্ষের উপর জনতা লেলিয়ে দিচ্ছে।

উপজেলার সুন্দলী ইউনিয়নসহ পৌরসাভার কয়েকটি ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে এ ধরনের ধটনা ঘটেছে। গত সোমবার রাতে বাক প্রতিবন্ধী এক বৃদ্ধাকে সুন্দলী বাজারে রোহিঙ্গা ও ছেলেধরা সন্দেহে মারপিট করে আহত অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়। পরে সুন্দলী ইউনিয়নের একজন ইউপি সদস্য রাতেই আহত ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

মঙ্গলবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই বাক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধাকে পাওয়া যায়নি। ভোরে সে হাসপাতাল থেকে চলে যায় বলে সেবীকারা জানায়। এসময় চিকিৎসা নিতে আসা বুইকারা গ্রামের বৃদ্ধ আলতাফ হোসেন ক্ষোভের সুরে বলেন, নোংরা পোশাক পরা বা পাগল প্রকৃতির মানুষ মত দেখলেই তাদের বিপদ। আমি নিজেও একজন বৃদ্ধ এবং গ্রামের সাধারণ কৃষক। আমার পোশাক তেমন ভালো না। আমি নিজেই এখন রোহিঙ্গা ও ছেলেধরা আতঙ্কে ভুগছি। যানিনা আমাদের মত মানুষের কপালে কি আছে

গত শুক্রবার ও শনিবার নওয়াপাড়া পৌরসভার ৪ ও ৬নং ওয়ার্ডে পাগল পিটিয়ে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন এলাকায় অপপ্রচার বা মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে অপরাধি বানানো হচ্ছে। রোহিঙ্গা বা ছেলেধরার কল্প কাহিনী বানিয়ে সমাজ বিরোধী একটি চক্র ফাইদা লুটছে।

অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন আইনের প্রতি সকলকে শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, অভয়নগর উপজেলা ও পৌর এলাকায় রোহিঙ্গা বা ছেলেধরা বলে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে অতি উৎসাহী এক ধরণের মানুষ এ ধরণের অপরাধি কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে।

খাজুরা (যশোর) প্রতিনিধি জানান, গত ১৩ মে সোমবার সদর উপজেলার খাজুরার লেবুতলা গ্রামে রোহিঙ্গা বলে দুই নারীকে আটক করে স্থানীয়রা। লেবুতলা ইউপি চেয়ারম্যান আলিমুজ্জামান মিলন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় লেবুতলা গ্রামের উত্তরপাড়ার আমলগীরের বাড়ি থেকে সন্দেহভাজন ২বয়স্ক মহিলাকে আটক করা হয়েছে। তারা আলমগীরের ছেলে সাদ (২) ও মেয়ে সোয়াদ (৮) কে ডেকে খেজুর, বিস্কুট ও আঙ্গুর ফল খেতে দেওয়ার সময় বাড়ীর লোক এবং প্রতিবেশীরা তাদের ধরে ফেলে। পরে পুলিশ তাদের আটক করে। গত ১২ মে সন্ধ্যায় খাজুরা বাজারের মথুরাপুর নয়নের চাঁতাল সংলগ্ন রাস্তায় পাগল প্রকৃতির দুইজনকে ধাওয়া করে স্থানীয়রা। তবে রোহিঙ্গা বা ছেলেধরা বলে কাউকে চিহ্নিত করা যায়নি।

ফুলবাড়ীগেট (খুলনা) প্রতিনিধি জানান, সাধারণ মানুষের মাঝ থেকে রোহিঙ্গা আতঙ্ক দূর করতে এলাকায় মাইকিং করেছে খানজাহান আলী থানা সড়ক পরিবহন শ্রমিকলীগ। মঙ্গলবার সকালে যোগিপোল ভাঙ্গা মসজিদের সামনে থেকে স্থানীয় জনতা রোহিঙ্গা সন্দেহে মোঃ ফরিদ নামের এক ব্যক্তিকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপার্দ করে। একই দিন সকাল ১০টায় যাব্দিপুর বৌ-বাজার এলাকা থেকে জনতা রাশিদা বেগম(৫০) নামের এক মহিলাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপার্দ করে, বেলা ১২টায় মীরেরডাঙ্গা পেট্রোলিয়ামের সামনে থেকে দেবদাস(৪২) নামের এক ব্যাক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপার্দ করে। জনতার কাছ থেকে উদ্ধার করা খানজাহান আলী থানার এস আই বিধান চন্দ সানা বলেন স্থানীয় জনতা রোহিঙ্গা সন্দেহে চার জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপার্দ করে। পুলিশ আটককৃতদেরকে যাচাই-বাছাই শেষে রোহিঙ্গা নয় নিশ্চিত হয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

দৌলতপুর থানার ওসি তদন্ত মোশাররফ হোসেন বলেন, সকলের মাঝে এখন রোহিঙ্গা আতঙ্গ বিরাজ করছে। তিনি বলেন রোহিঙ্গা আটকের কোন সংবাদ তার জানানেই।