মিসড কলে প্রেম, অতঃপর….

প্রতীকী ছবি

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
মোবাইল ফোনে রং নম্বরে মিসড কলের মাধ্যমে পরিচয়। মাত্র এক মাসের পরিচয় এরপর প্রেম। আর ওই প্রেমের টানেই ফরিদপুর থেকে মাগুরার মোহাম্মদপুরে এসে প্রতারণার শিকার হন গার্মেন্টস কর্মী হেলেনা (২২)। যশোরে নিয়ে এসে তাকে ছেড়ে চলে যান প্রেমিক পরিচয়দানকারী এক যুবক। এরপর দিকভ্রান্ত হয়ে ঘোরার সময় জনগণ তাকে পুলিশে সোপর্দ করলে তার ঠাই হয় যশোর কোতয়ালি থানায়।

হেলেনা জানিয়েছেন, রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কিশোরপুর গ্রামের জেহের আলীর মেয়ে তিনি। ছোট বেলায় বিয়ে হয়েছিল। তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পর ফরিদপুরে চলে যান। করিমপুরের করিম জুট মিলে তিনি একবছর হলো শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন। মাস খানেক আগে মোবাইল ফোনে রং নম্বরের একটি মিসকল আসে। তিনি ফোন দিলে এক যুবক মোবাইল ফোনটি ধরেন। এরপর তার সাথে প্রায় সময় কথা হয়। এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই যুবক বিয়ের প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি হন। কিন্তু তার আগে তার বাড়ি ঘর আছে কি-না তা যাচাই করার জন্য দেখা করার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি হয়ে ওই যুবককে নিজের বাড়ি যশোরে বলে জানায়।

হেলেনা বলেন, ওই যুবকের নাম জানি না। শুধুমাত্র মোবাইল নম্বরটা মনে আছে। সেই সূত্রে বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরিদপুর থেকে মাগুরার মোহাম্মদপুরে পৌছায়। সেখানে দেখা হয় তার সাথে। ওই যুবকের সাথে তার এক চাচাও ছিলেন। তারা যশোরে নিয়ে আসে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। মণিহার এলাকায় আসার পর ওই ছেলে তাকে ফেলে অন্যদিকে চলে যায়। পরে তার চাচাও বিপদে পড়েন। তিনি আমাকে চলে যেতে বলেন ফরিদপুরে। এরপর কান্নাকাটি করতে থাকলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে কথা শুনে পুলিশে সংবাদ দেয়। পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার এসআই শাহিদুল আলম জানিয়েছেন, মেয়েটিকে দেখে প্রথমে মনে হয়েছিল পাচারের শিকার হয়েছে। কিন্তু পরে সব শুনে মনে হয়েছে মেয়েটি প্রতারনার শিকার হয়েছে। যে ছেলে ওই মেয়েকে নিয়ে আসে সেই তাকে ফেলে চলে যায়। তার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল। কিন্তু ছেলেটির নাম পরিচয় বলতে পারছে না। তবে ওই ছেলের বাড়ির মাগুরার মোহাম্মদপুরে। মেয়ের বাড়ির লোকজনকে সংবাদ দেয়া হয়েছে। তারা রাজশাহী থেকে যশোরে ফিরলে তাদের জিম্মায় দেয়া হবে।