মোরেলগঞ্জে বেশিরভাগ টিউবওয়েল অকেজোঁ, পুকুরও শুকিয়ে গেছে

::হেমায়েত হোসেন হিমু, মোরেলগঞ্জ::

মোরেলগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র এখন সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই দেখা দেয় এ সংকট। পানির উৎস গুলোতে আর্সেনেকিসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে এ সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। মাইলের পর মাইল হাটলেও সচল টিউবওয়েল দেখা মেলা ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুষ্কতার কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ সরকারি নলকূপ ও পন্ডস সেফটি ফিল্টার(পিএসএফ) পানির উঠছে না। পাশাপশি বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে নির্মিত শত শত নলকূপগুলোর অবস্থা একই। মোরেলগঞ্জ পৌর সদরে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় পৌরবাসী সুপেয় পানির অভাবে অভাবনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। উপজেলার ৩০৯ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশতে কোন টিউবওয়েল নেই। আর যেগুলোতে আছে তাও অকেজো অবস্থায় রয়েছে।

উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিউধরা, নিশানবাড়ীয়া, খাউলিয়া, বলইবুনিয়াসহ অধিকাংশ ইউনিয়নে এ মৌসুমে পানিতে অতিরিক্ত লবনাক্তার কারণে পুকুরের পানি পান করতে পারছে না এলাকাবাসী।

অপরদিকে পুকুরের পানি শুকিয়ে যাবার কারণে প্রতিটি গ্রামের বাসিন্দারা দূর দূরন্ত থেকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেটে, নৌকায় চড়ে খাবার পানি সংগ্রহ করছে। অনেক খোলা পুকুর খাল ও নদী নালার পানি পান করছে। সদর ইউনিয়ন ও পৌরবাসীকে খাবার পানির জন্য একমাত্র পুরাতন থানার পুকুরের পানির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তাও বৃষ্টির অভাবে শুকিয়ে এ পুকুরের পানি এখন তলানিতে। সকাল থেকে রাতভর এ পুকুর থেকে সমান ভাবে পানি নেয়া হয়। এছাড়াও পৌর সদরের কুঠিবাড়ি,এসএম কলেজ পুকুর থেকে ময়লাযুক্ত পানি হোটেল ও রেষ্টুরেন্টে ব্যবহার করা হচ্ছে।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন এ জানান, সরকারিভাবে ও বেসরকারি ভাবে ৬০ টি পানীয় জলের পুকুর রয়েছে। পিএসএফ রয়েছে ৮০০টি। এর মধ্যে ২৫০ টি চালু রয়েছে । অকেজো রয়েছে সাড়ে পাঁচশটি। ১০টি গভীর নলকূপের মধ্যে জিউধরা ইউনিয়নে একটি চালু রয়েছে। রেইন ওয়াটার হার্বেষ্টিং প্লান্ট রয়েছে ৯০০ টি। সদর ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামে চালু রয়েছে একটি রিংওয়েল (পাত কুয়া)। স্যালো টিউবয়েল রয়েছে ৩ হাজার ৬ শ’ ৭০ টি। জরিপ অনুযায়ী স্যালো টিউবয়েল অকেজো রয়েছে ২ হাজারের ও বেশি। পঞ্চকরণ ইউনিয়নে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট পান্ট স্থাপন করা হয়েছে।

উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আরো জানান, আগামি বছরে পৌর সভায় একটি লবণ মুক্ত প্লান্ট(আরও) বসানো হবে। ২০০৩ সালের আর্সিনিক জরিপ অনুযায়ী উপজেলা সব ইউনিয়নে কম বেশী আর্সেনিক চিহিৃত টিউবওয়েল রয়েছে।

তবে বনগ্রাম , হোগলাবুনিয়া, হোগলাপাশা ইউনিয়নের আর্সেনিক চিহিৃত টিউবওয়েল রয়েছে সবচেয়ে বেশি ও ভয়ানক আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে এ ইউনিয়নটি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দপ্তরের হিসাবের সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। উপজেলা ইউনিয়ন গুলোতে মাইলের পর মাইল হাটলেও সচল টিউবওয়েল দেখা মেলা ভাগ্যের ব্যাপার। পৌর সদরের চিত্র একই।

এ ব্যাপারে পৌরমেয়র অ্যাডভোকেট মনিরুল হক তালুকদার বলেন আগামি বছর পৌরসভায় সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। পৌর সদরে যেসব টিউবওয়েল সচল রয়েছে সে সবের পানি পানের অযোগ্য।