সাইনবোর্ডেই সরকারি: পূর্বের নিয়মে চলছে যশোরের ১৩ প্রতিষ্ঠান

::মিরাজুল কবীর টিটো::
গত বছরের আগস্ট মাসে যশোর জেলার ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকাররিকরণের প্রজ্ঞাপন পায়। পরের মাসে আরো ৪টি প্রতিষ্ঠান এ তালিকায় যুক্ত হয়। সরকাররিকরণের প্রজ্ঞাপন পাওয়ার পর এ সব স্কুল কলেজের সাইন বোর্ডই শুধু বদলেছে, বদলাইনি অন্য কিছু।

এসব প্রতিষ্ঠান সরকারি হলেও শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনো বেসরকারি রয়ে গেছেন। এখনো তাদের বেতন-ভাতা ও মর্যাদা বেসরকারি পর্যায়ের। অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা নামমাত্র বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ পেলেও সদ্য ঘোষিত ‘সরকারি’ এসব প্রতিষ্ঠানে টিউশন ফি ও অন্যান্য ফি পূর্বাবস্থায় রয়েছে।

শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিপ্রায় অনুসারে, প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ ও স্কুল সরকারীকরণের আওতায় যশোরের ঝিকরগাছা এমএল মডেল হাইস্কুল, শহীদ মশিয়ূর রহমান ডিগ্রি কলেজ, মণিরামপুর কলেজ, কেশবপুর ডিগ্রি কলেজ, কেশবপুর পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নওয়াপাড়া মহাবিদ্যালয়, নওয়াপাড়া শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শার্শা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চৌগাছা শাহাদত পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চৌগাছা কলেজ, শহীদ সিরাজ উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ও বাঘারপাড়া পাইলট মডেল হাই স্কুল সরকারি ঘোষিত হয়।

এর বাইরে মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাটগরিতে যশোর শিক্ষা বোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সরকারি হয়। এছাড়াও বীরশ্রেষ্ঠের নামে প্রতিষ্ঠিত ক্যাটাগরিতে শার্শার বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ডিগ্রি কলেজ ২০১৩ সালের ১৪ মে সরকারি হয়। একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি যাবতীয় সুবিধা ভোগ করছে। বাকিগুলো শুধু নামেই সরকারি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারিভাবে শিক্ষক-কর্মচারীর পদ সৃষ্টি না হওয়ায় কর্মরতরা কেউ আত্তীকরণ হতে পারেননি। শিক্ষক-কর্মচারীরা ‘আত্তীকরণ বিধিমালা-২০০০’ অনুযায়ী, কলেজের শিক্ষকরা সরকারি হওয়ার পর পিএসসির অধীনে পরীক্ষা দিয়ে ক্যাডারভুক্ত হতে পারবেন। আবার নন-ক্যাডার হিসেবেও থাকতে পারবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, চাকরি সরকারি না হওয়ায় এসব কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি ও আগের বেতন-ভাতাই চালু রাখা হয়েছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, এই কলেজ শিক্ষকদের মধ্যে যাদের বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা আছে, তারা সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অধীনে পরীক্ষা দিয়ে বিসিএস ক্যাডারভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। যারা ক্যাডারভুক্ত হবেন, তারা বদলি হতে পারবেন। আর যারা পরীক্ষা দেবেন না, তারা নন-ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে নিজ নিজ কলেজেই চাকরি করতে থাকবেন। বদলিও হতে পারবেন না।

সরকারিকরণের প্রজ্ঞাপন জারির খবর পেয়ে এ সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উৎসবে মেতেছিল, করেছিল মিষ্টি বিতরণ। অভিভাবকরাও সরকারি নিয়মে টিউশনসহ অন্যান্য ফি দেয়ার আশা করেছিল। অভিভাবকদের জিজ্ঞাসা সরকারিকরণের প্রজ্ঞাপন জারির পর ছাত্রবেতন কেন বেসরকারি আমলের নিয়মে হবে। সরকারি হওয়ার পর অভিভাবকরা ভেবেছিলেন তাদের সন্তানের লেখাপড়ার খরচ কমে যাবে। কিন্তু অভিভাবকদের সে আশা পূরণ হয়নি ।

ঝিকরগাছা এমএল মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান আজাদ জানান, তার প্রতিষ্ঠান সরকারি হয়েছে। কিন্তু শিক্ষকরা সরকারি হয়নি। ফলে বেসরকারিভাবে শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন। এ নিয়মেই চলছে বিদ্যালয় কার্যক্রম। শার্শার সরকারি পাইলট মডেল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার স্কুলটি সরকারিকরণ করা হয়। অথচ এখনও পর্যন্ত আত্তিকরণ হয়নি। তাই আগের নিয়মেই চলছে বিদ্যালয় কার্যক্রম।

শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান জানান শার্শার পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করা হয়েছে। কিন্তু আনাসাংঙ্গিক কাজ বাকি রয়েছে। এ কারণে আত্তিকরণ হয়নি। আত্তিকরণ হওয়ার পর বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সরকারি ভাবেই চলবে। এখন কার্যক্রম চলছে বেসরকারি নিয়মেই।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) খুলনার পরিচালক প্রফেসর হারুন অর রশীদ এ বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তিনি জেলা শিক্ষা অফিসারের বক্তব্য গ্রহণের পরামর্শ দেন।

জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল খালেক জানান, সরকারি হওয়া যে সব প্রতিষ্ঠান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করছে তাদের আত্তিকরণ তাড়াতাড়ি হবে। যারা যোগাযোগ করছে না তারা পিছিয়ে পড়বে।