দেশি শাড়ির কদর বেশি, থ্রি পিসে ফ্লোর টাচ

এস আলম তুহিন, মাগুরা :

মাগুরায় ঈদের বাজার জমে উঠেছে। ঈদকে সামনে রেখে শহরের বিভিন্ন বিপনি বিতানগুলো সেজেছে নানা সাজে । আবার অনেক মার্কেটে ক্রেতা আকর্ষনের জন্য বাহারি রঙ-বেরঙের আলোক সজ্জা করা হয়েছে । ইতোমধ্যে শহরের বেবী প্লাজা, নুর জাহান প্লাজা, সুপার মার্কেট, কাজী টাওয়ার মার্কেট , মরিয়ম প্লাজা, খান প্লাজা, জমজম মার্কেট , আল-আমিন মার্কেট, জুতাপট্টির দোকান মালিকগুলো ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী নানা রঙের পরসা সাজিয়ে বসেছেন। ঈদ কেনাকাটায় সরগরম হয়ে উঠেছে ফ্যাশান হাউজ, বিপনীবিতান আর কসমেটিকস্ কর্ণার।
শহরের হাজী কমপ্লেক্সে অবস্থিত দোয়েল ফেব্রিক্স এন্ড টেইলার্স মালিক আলাউদ্দিন হোসেন জানান, পনের রোজার পর থেকে দোকানে প্রচন্ড ভিড় । আমরা ক্রেতাদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে প্রতি বারই নিত্য-নতুন আধুনিক ডিজাইনের থ্রি-পিচ সংগ্রহে রাখি । এর মধ্যে ফ্লোর টাচের চাহিদা বেশি। এ থ্রি-পিচটিতে অ্যাম্বডারি ও হাতের কারুকাজ থাকায় তরুণীদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছে । ফ্লোর টাচ থ্রি-পিচ ঈদ বাজারে ৪ হাজার-৫ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে । তাছাড়া ফোর পিস ২ হাজার থেকে ৩ হাজার, দো পাট্টা ফোর পিস ১ হাজার থেকে ১৫’শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া পাকিস্তানী লাকা কালেকশন, ডিকে ফ্যাশান, পিস লোন, স্টাইল, জামদানি থ্রি-পিসও মেয়েদের খুবই পছন্দ । পাশাপাশি সুতি লোন থ্রি-পিস, অরগান্ডি, র্সারা থ্রিপিস , চায়না থ্রিপিসের কদর অনেক বেশি । এসব থ্রিপিস ৭৫০-২০০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হ্েচ্ছ । তবে এবার অন্য বারের তুলনায় বিক্রি ভালো । প্রচন্ড গরম থাকার কারণে অনেকে এবার সুতি কাপড়ের থ্রি-পিস কিনছেন ।
পোশাক তৈরি করতে আসা শ্রাবণী নামের এক তরুনী জানান, এবারের ঈদে আমার পছন্দের তালিকায় রয়েছে ফ্লোর টাচ । এ থ্রি-পিসের কারুকাজ ভালো হওয়াতে এটি আমার খুবই পছন্দ ।
সুপার মার্কেটের অন্যতম গামেন্টস লিখন ফ্যাশানের সৈয়দ ফজলুল ইকবাল প্রিন্স জানান, প্রতি বারই আমি ঈদ কালেকশনে নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক সংগ্রহে রাখি । এবার ঈদে সবচেয়ে আকর্ষনীয় পোশাকের মধ্যে রয়েছে শামুক স্লিক । এটাতে হাতের কারুকাজ সুন্দর থাকায় শিশু থেকে শুরু করে তরুনীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে । তাছাড়া লং ফ্রক, চায়না ফ্রক , র্সারা , ফ্লোর টাচ পোশাক ভাল চলছে । প্রতিবারই আমার বিক্রি ভাল । এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি ।
কেনাকাটা বা ফ্যাশান সচেতনতাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও ছেলেদের জন্যও আয়োজনের কমতি থাকে না পোশাক বাজারে । মেয়েদের পাশাপাশি পছন্দ মত আধুনিক মর্ডান রেডিমেড ড্রেসটি বেছে নিতে এখন ছেলেদেরও চলছে কেনাকাটার ব্যস্ততা । মাগুরা শহরের বিভিন্ন ফ্যাশান হাউজ ,শপিং মল এবং ছেলেদের ছোট বড় রেডিমেট পোশাকের মার্কেটের গিয়ে দেখা গেছে নতুন কাট ও ডিজাইনের ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের শার্ট ও টি শার্টের কালেকশন রাখা হয়েছে দোকান গুলোতে । রং বাহারি টি শার্টের পাশাাপাশি এবার ক্যাজুয়াল ব্র্যান্ডেড প্রিন্টের শার্টের কদর রয়েছে এবার । বেবী প্লাজা শপিং মলের নিউ মডেল গার্মেন্টসের সত্তাধিকারি মাসুদ পারভেজ জানান, এবার ঈদের জন্য তরুনরা জিন্স প্যান্ট আর বাহারী রঙের পাঞ্জাবী কিনছেন বেশি । পাশাপাশি আমার দোকানে ছোট শিশুদের নানা ধরনের বাহারি পোশাকের আয়োজন । এবার বেশি গরম পড়েছে তাই শিশুদের দেশি সূতির পোশাকের চাহিদা বেশি ।
তিনি আরো জানান ছেলেদের জিন্সের প্যান্ট দেশি ১ হাজার থেকে ১৫শ টাকা , চায়না থাই ১৬শ টাকা ২৫শ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে । টি শার্ট পাওয়া যাচ্ছে ২শ টাকা ১৫শ টাকা পর্যন্ত । ঈদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পুরুষের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হলো ্পাঞ্জাবী । তাই শহরের বিভিন্ন বিপনি-বিতানগুলোতে সাজানো হয়েছে দেশি বিদেশী সব পাঞ্জাবী দিয়ে । ঈদ উপলক্ষে এসব পাঞ্জাবীর রং এবং নকশায় ও আনা হয়েছে ব্যতিক্রমী ঢং । চিরাচরিত সাদা , কালোসহ নীল , বেগুনী, জলপাই ,হলুদ ,ছাই সহ হালকা রঙে নতুনত্ব আনা হয়েছে ।
বেবি প্লাজাসহ শহরের সুপার মার্কেটের বিভিন্ন ব্যবসায়ী জানান, এবার সাদার পাশাপাশি সূতি, প্রিন্ট স্টাইফ সহ বিভিন্ন রঙের পাঞ্জাবী ক্রেতারা কিনছেন । কেউ কেউ আবার অ্যাম্বোটারি ও হাতের তৈরি পাঞ্জাবীও কিনছেন ।
পোশাক কিনতে আসা গৃহিনী আলাপি খাতুন জানান , শিশুদের পোশাকের এবার খুব দাম । পছন্দের মত ভাল পোশাক পাচ্ছি না । অনেক ঘুরে ঘুরে স্বণালী গার্মেন্টস থেকে একটি সূতি পোশাক কিনছি ।
এবারের ঈদে কিশোরী,তরুনী , নববধূ ও বাঙালী নারী পছন্দের তালিকায় রয়েছে শাড়ি । ব্যবসায়ীরা জানান, ১৫ রোজার পরথেকে বিভিন্ন বয়সী নারীরা শাড়ির দোকানে ভিড় করছেন । ক্রেতাদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে নিত্য নতুন শাড়ি আনতে হয় আমাদের । শাড়ির বাজারের প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে । এবার ঈদে দেশি শাড়ির ব্যাপক চাহিদা হয়েছে । ঢাকেশ্বরী বস্ত্রালয়ের সত্তাধিকারি তাপস অধিকারি জানান, ঈদে বরাবরই দেশি শাড়ির চাহিদা রয়েছে । বিভিন্ন প্রিন্ট আর নানা রঙের বৈচিত্র বাংলাদেশী নারীকে করে তোলে আর্কষনীয় । বাংলাদেশি শাড়ির মান ও কারুকাজ ভাল হওয়াতে এখন এ শাড়ি বাইরেও যাচ্ছে । এবার জজেট , নেটের জজেট শাড়ি ৩ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে । তাছাড়া ঢাকার জামদানি , টাঙ্গাইল ও তাঁতের শাড়ি ও অনেকে কিনছেন ।
বেবী প্লাজা মার্কেটের শিকদার বস্ত্রালয়ের উজ্জল শিকদার জানান, ঈদকে সামনে আমরা নিত্য নতুন ডিজাইনের জর্জেট ,কাতান , রাজশাহী স্লিক , জামদানী , ট্ঈাাইল শাড়ি এনেছি । এবার দেশী শাড়ির চাহিদা খুব বেশি । অধিকাংশ নারীরাই দেশি শাড়ি কিনছেন । ১৮ রোজার পর থেকে ক্রেতদের উপচে পড়া ভিড় । অন্য বারের তুলনায় বেচাকেনা খুব ভাল ।
অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, ১২/১৫রোজার পর শাড়ি বিক্রি শুরু হয়েছে । অন্যান্য বারের তুলনায় এবার বিক্রি ভাল । এ শাড়ি বিক্রি চলবে ঈদের দিন পর্যন্ত । শাড়ি কিনতে আসা হাসপাতাল পাড়ার রতœা খাতুন জানান এবার ঈদে দেশি জামদানী শাড়ী কিনেছি । রং , ডিজাইন ও মান ভাল হওয়াতে এ শাড়ি আমার পছন্দ ।
পোশাকের পাশাপাশি নতুন জুতা ,সেন্ডেল দোকানেও উপচে পড়া ভিড় । শিশু তরুণ-তরুণী , নারী-পুরষ তাদের পছন্দের সু কিনতে সবাই ব্যস্ত । পাদুকা ব্যবসায়ীরা জানান, দেশি সু’র পাশাপাশি শিশু বাচ্চাদের চায়না সু’র কদর বেশি । আমরা ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী নতুন নতুন ডিজাইনের আকর্ষনীয় সব সু এনেছি । বিশ রোজার পর থেকে উপচে পড়া ভিড় । বেচাকেনা ভাল ।
পাশাপাশি ঈদের পছন্দের পোশাক কিনতে শহরের ফুটপাত গুলোতেও নি¤œ আয়ের মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে । মেয়েদের লেহেঙ্গা, ফ্রক, শার্ট, প্যান্ট,বেবি ড্রেস, পাঞ্জাবীসহ বিভিন্ন ধরণের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে শহরের থানার সামনের দোকান গুলোতে । শহরের পাশ্ববতী আবালপুর গ্রামের অটো চালক তৈয়ব আলী জানান , আমরা নি¤œ আয়ের মানুষ । সারাদিন কষ্ট করে অল্প টাকা রোজগার করি । ঈদের ছেলে-মেয়েদের পোশাক কিনতে এসেছি । অন্যবারের তুলনায় এবার পোশাকের দাম অনেক বেশি হওয়ায় হিমসিম খাচ্ছি । নিজের পোশাকটি না কিনতে পারলেও ছেলেমেয়েদের কিছু পোশাক কিনেছি ।
অন্যদিকে , ঈদকে সামনে রেখে শহরের ফুটপাতগুলোতে নি¤œ আয়ের মানুষ চুরি-মালার দোকানের পরসা বসিয়েছে । সেখানে শিশুদের ক্লিপ, নানা রঙের চুড়ি ,ফিতা , মালা ,চেনসহ নানা উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে ।
ঈদে বিভিন্ন মার্কেটে ও বিপনিবিতানের সামনে পুলিশ প্রশাসনের নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো । ক্রেতাদের বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন কাজ করছে ।