আসলেন গর্ভে জীবিত বাচ্চা নিয়ে, পেলেন মৃত

বিল্লাল হোসেন>
গর্ভে জীবিত বাচ্চা নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সুমি খাতুন (২৮)। কিন্তু চিকিৎসকের অবহেলায় গর্ভেই বাচ্চাটি মারা গেছে বলে রোগী ও তার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, সরকারি এই হাসপাতালে গাইনী বিভাগে অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। সঠিক সময়ে রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। বারবার চিকিৎসককে বলা হয়েছিলো সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করার জন্য। কিন্তু তারা কোন কর্ণপাত করেননি। তাদের প্রশ্ন তাহলে চিকিৎসক কি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হলেন? এই মৃত্যুর দায়ভার কে নেবে? সুমি খাতুন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তারাইল গ্রামের তুহিন বিশ্বাসের স্ত্রী ও যশোর সদরের পদ্মবিলার দেলোয়ার মোড়লের মেয়ে।
তুহিন বিশ্বাস জানান, তার স্ত্রীর প্রসব যন্ত্রনা শুরু হওয়ার পর গত বুধবার বেলা ১ টা ৪৫ মিনিটে ভর্তি করা হয় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে। কিন্তু দুইজন ইন্টার্ন ছাড়া আর কোন চিকিৎসক রোগীর কাছে আসেননি। ইন্টার্নের পরামর্শে বিকেলে রোগীর আল্ট্রাসনো করানো হয়। আল্ট্রাসনো করে ফের ওয়ার্ডে আসার পরও বাচ্চা বেচে ছিলো। সুমি খাতুন জানান, একজন ইন্টার্ন তার হাতে কাগজের টুকরো দিয়ে বলেন বাচ্চা যে কয়বার নড়বে কাগজটি ছিড়ে সেই টুকরো করবেন। সেই অনুযায়ী তার বাচ্চা গর্ভে ৪ বার নড়াচড়া করে। এদিন সন্ধ্যায় তার প্রসব বেদনা বাড়লেও কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসেননি। বোন ইয়াসমিন জানান, নরমাল ডেলিভারী কক্ষে সেবিকা ও ইন্টার্ন রোগীকে নিয়ে নানা ধরণের ওষুধ সামগ্রী তারা কিনে দিয়েছেন। যা বলেছেন তাই শুনেছি। এরপরেও বিনা চিকিৎসায় সন্তানটি গর্ভেই মারা গেলো। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্বামী তুহিন বিশ্বাস আরো জানান, তার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। গর্ভে থাকা বাচ্চাটি ছিলো ছেলে। অনেক আশা ছিলো। রোগীর অবস্থা খারাপ হতে থাকলে বার বার সেবিকা ও ইন্টার্নকে বলেছি বড় ডাক্তারকে খবর দেন। প্রয়োজনে রোগীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হোক। কিন্তু তাদের কথায় কোন কর্ণপাত করা হয়নি। রোগীর শারীরিক অবস্থারও অবনতি হতে থাকে। শুক্রবার বাধ্য হয়ে হাসপাতালের সামনে একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে সিজার করে গর্ভ থেকে মৃত বাচ্চা বের করা হয়। এই বিষয়ে হাসপাতালের গাইনী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা.ইলা মন্ডল জানান, তার যথেষ্ট চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির কিছু সময় পর হয়তো বাচ্চাটি মারা গিয়েছিলো। গর্ভে বাচ্চাটি মারা যাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিক সিজার করা হয়নি। সেলাইন ও ইনজেকশনের মাধ্যমে নরমালে প্রসব করাতে চেয়েছিলাম। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। ঘটনাটি খোজ নিয়ে দেখবেন।