ঈদ বাজার> ভিড় বিউটি পার্লারে

মারুফ কবীর>ঈদ উদযাপন প্রস্তুতি কেনাকাটার পর্ব প্রায় শেষ। এখন ভিড় জমেছে বিউটি পার্লারগুলোতে। নানা বয়সী নারীরা নিজের সৌন্দর্য আরেকটু বাড়িয়ে তুলতে বেশ সময় দিচ্ছেন পার্লারে। কেউ আসছেন ফেসিয়াল করাতে, কেউ বা ব্লিচ। অনেকে হাল ফ্যাশনে চুল কাটাচ্ছে। মেনিকিউর, পেডিকিউর করাতেও আসছে অনেকে। এ ক্ষেত্রে বিত্তশালী পরিবার যেমন আছে, তেমনি রয়েছে নিম্নবিত্ত পরিবারের তরুণী-কিশোরীরাও।
শনিবার যশোর শহরের বাজার ও শপিংমল থেকে পাড়া-মহল্লার পার্লারেও ছিল ভিড় । তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদ সামনে রেখে সব কাজে দাম বাড়ানো হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে পাড়া-মহল্লার পার্লারগুলোও এখন জমজমাট। অধিকাংশেই সেবার মূল্য খুব একটা বাড়ানো হয়নি। তবে নামিদামি পার্লারগুলোতে সেবার মূল্য কিছুটা বেড়েছে।
বিউটিশিয়ানরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে মুখমন্ড পরিষ্কার ও রং উজ্জ্বল করে তুলতে ফেসিয়াল ও ব্লিচ করাচ্ছে বেশিসংখ্যক নারী। তবে ফেসিয়ালের ক্রেতা সবচেয়ে বেশি। আট থেকে দশ রকমের ফেসিয়াল রয়েছে পার্লারে। প্রায় ঘন্টার এই সেবা পেতে ব্যয় করতে হচ্ছে পাঁচ-ছয় শ’ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে একই সঙ্গে গলা, হাত ও পা পরিষ্কার করালে খরচ আরেকটু বেশি পড়ছে। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদ উপলক্ষে পার্লারে সেবাগ্রহিতার সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। শহরকেন্দ্রিকতা ছেড়ে পাড়া মহল্লা ও উপজেলা পর্যায়েও এখন পার্লার গড়ে উঠছে।
চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহককে সব সেবা দিতে নিয়মিত কর্মীর পাশাপাশি রমজানের ১০-১৫ দিন থেকে কন্ডকালীন কর্মী নিয়োগ দিয়েছে পার্লারগুলো। পাশাপাশি রমজানের আগেই সংগ্রহে রাখা হয়েছে সেবার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ক্রিম, স্ক্যার্ব, লোশন, পাউডার, মেহেদিসহ নানা ধরনের পণ্য। সকালে নির্ধারিত সময়ের আগেই খুলে যাচ্ছে পার্লারগুলো। আবার বন্ধ হচ্ছে রাত ১১-১২টায়। এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকছে শহরের পার্লার। এতো আয়োজনের পরও সেবা নিতে আসা নারীদের দীর্ঘ লাইন ছোট হচ্ছে না।
সেবা নিতে আসা রোমেনা বলেন, অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদে অনেক বেশি ভিড় । ফেসিয়াল করাব বলে আধাঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি।
জেলা বিউটি পার্লার অ্যাসোসিয়েশন যশোরের সভাপতি ও সানন্দা বিউটি পার্লারের প্রোপাইটর সুফিয়া মাহমুদ রেখা বলেন, পার্লারের সংখ্যা বেড়া যাওয়ায় কাস্টমার ছড়িয়ে যাচ্ছে। এতে ভালো মানের পার্লারগুলো ক্রেতা হারাচ্ছে।
যশোর জেলা বিউটি পার্লার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দোলা বিউটি পার্লারের প্রোপাইটর লতিফা শওকত রুপা বলেন, এবছর পার্লারের কোনো কাজের দর বাড়েনি। ইউটিউব ও ইন্টারনেটের সাহায্যে অনেকে পার্লারের কাজ নিজ বাসায় করিয়ে নিচ্ছেন। তাছাড়া পাড়া -মহল্লায় বহু পার্লার গড়ে ওঠায় কাষ্টমারের চাপ তুলনামূলক একটু কম। তারপরও সামনে চাঁদ রাত পর্যন্ত চলবে পার্লারের কাজ।
পার্লার কর্মীরা জানান,ঈদের কিছুদিন আগে থেকেই তরুণীরা নিজেদের পরিপাটি করতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। বিউটিশিয়ানরাও এসময় ব্যস্ত সময় কাটান তরুণীদের মনের মতো করে সাজাতে।
হাত-পায়ের যতœ-সংক্রান্ত সেবা ২শ’ থেকে ১ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, হেয়ার স্পা , হেয়ার ট্রিটমেন্ট ও চুল কাটায় খরচ পড়ছে ৩শ’ ৫০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকা, ভ্রু প্লাক ব্যয় হচ্ছে ৪০/৫০ টাকা, মেহেদি লাগানো ২শ’ থেকে ১ হাজার, চুল বাঁধা ২শ’ থেকে ১ হাজার এবং চুল সেটিংয়ে খরচ হচ্ছে ৩শ’ থেকে ৬শ’ টাকা। এ ছাড়া স্থায়ীভাবে চুল সিল্কি ও সোজা করতে চুলের পরিমাণ দেখে দর নির্ধারণ হচ্ছে। এ কাজে ব্যয় হচ্ছে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। সেই সঙ্গে চুলে নতুন মাত্রা যোগ করতে সিল্ক অ্যান্ড সাইনিং রিবন্ডিং,রোলার কার্লিং অথবা স্মুথনিং করাচ্ছেন কাস্টমার। এছাড়াও লেয়ার কাট,ভি কাট,ইউ কাট,স্টেপ কাট করাচ্ছেন অনেকে।
পার্লার প্রসাধনী বিক্রেতা লোকমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে রমজানের ১৫ দিন আগেই পার্লারে ব্যবহৃত পণ্য এনেছি। এবছর প্রায় সব পন্য বিক্রি হয়ে গেছে। এতে আমাদের ব্যাবসা ভালো হয়েছে।