ঈদ বাজার:শেষ মুহূর্তে প্রসাধনীতে ব্যস্ত নারীরা

মারুফ কবীর:
ঈদের বাকি আর মাত্র দু-তিনদিন। ইতোমধ্যে পছন্দের পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল কেনাকাটার পর্ব শেষ করে ফেলেছেন অনেকেই। এখন তারা ছুটছেন প্রসাধনী পণ্য কিনতে। তাই নতুন কাপড়ের সঙ্গে মিলিয়ে কানের দুল, চুড়ি এবং সাজগোজের অন্যান্য অনুসঙ্গ জোগাড়ে তরুণীদের উপচেপড়া ভিড় এখন যশোরের কসমেটিকসের দোকানে ।
রোববার যশোরের প্রসাধনীর দোকানে ঘুরে দেখা যায়, ব্যস্ত সময় পার করছেন কসমেটিকস ব্যবসায়ীরা। আর উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চলছে কেনাকাটাও। যেন দম ফেলার সময় নেই বিক্রেতাদের।
তরুণীরা ঈদের পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কিনছেন পছন্দের নেলপলিশ, লিপস্টিক, আইশ্যাডো, আইলাইনার, ব্লাশন, বডি স্প্রে, ফেস পাউডার, প্যানকেক, ফাউন্ডেশন, পারফিউম, প্যানস্টিক এবং সাবান-শ্যাম্পুও। দেশি-বিদেশি যার যেমন সামর্থ্য তেমন পণ্য কিনছেন তারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবছর ব্রান্ডের মধ্যে বেশি চলছে মেবলন, জ্যাকলিন, লরিয়াল ,গোল্ডের রোজ , ল্যাকমি, ওলে ,জর্ডানা, রেভলন, মারভেলিন, এভোন প্রভৃতি। পাশাপাশি ওয়াটার প্রুফ প্রসাধনী রয়েছে বাজারে।
বিক্রেতা আমিনুর বলেন, সবার ঈদের পোশাক কেনা শেষের দিকে। তাই পোশাকের রংয়ের সাথে মিলিয়ে কসমেটিকস কিনছেন সকলে।
ফেন্সি মার্কেটের মিথিলা কসমেটিকসের প্রোপাইটর রাসেল আহম্মেদ বলেন, রোজার শেষ সপ্তাহে কসমেটিকসের দোকানে কাস্টমারের চাপ বেশি থাকে। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে কেনার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি আসছেন বাজারে।
ভোলা সাহা মার্কেটের ব্যবসায়ী সুধীর বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর আমাদের মার্কেটের সকল ব্যবসায়ী ভালো ব্যবসা করছে।
কসমেটিকস ব্যবসায়ী সোহেল আহমেদ জানান, শেষ মুহূর্তে এসে বেচাকেনা বেড়েছে বহুগুনে।
সালমা শিকদার নামে এক ক্রেতা বলেন, ঈদকে ঘিরে কসমেটিকস পণ্যের দাম অনেক বাড়িয়েছে দোকানীরা। এছাড়া বেশি দাম নিয়ে অনেক নিম্নমানের পণ্যও চালাচ্ছে তারা।
মুক্তা ইয়াসমিন নামে অপরএক ক্রেতা বলেন, নকলের ভিড়ে অরিজিনাল প্রসাধনী মেলা ভার। তারপরও ঈদ বলে কথা , এজন্য বাজারে প্রসাধনী কিনতে আসা।
যশোরের কসমেটিকসের মাকের্টের মধ্যে ফেন্সি ও ভোলা সাহা মার্কেট অন্যতম । পাশাপাশি তরুণীরা কেনাকাটা করছেন শহরের শপিংমলের প্রসাধনীর দোকানগুলোতেও। তাছাড়া ঈদ উপলক্ষে ফুটপাতে বসেছে ভ্রাম্যমাণ কসমেটিকসের দোকান। নিম্নবিত্ত লোকজন ফুটপাত থেকে কিনছেন কসমেটিকস সামগ্রী।
প্রসাধনীর মধ্যে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে আইলাইনার ৫০ থেকে ৩শ’ টাকা, আইশ্যাডো ৩০ থেকে ২শ’ টাকা, নেলপলিশ ৪০ থেকে ২শ’ ৫০ টাকা, লিপিস্টিক ৩০ থেকে ৪শ’ টাকা, কাজল ৫০ থেকে ৩শ’ টাকা, চুলের রঙ ৫০ টাকা থেকে ৭শ’ টাকা, টিপ ২০ থেকে ১শ’ টাকা, গ্লিটার ৫০ টাকা। তাছাড়া প্রকার ভেদে বডি স্প্রের দাম দেড়শ টাকা থেকে ১ হাজার , ফেস পাউডার ৮০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা, পারফিউম এবং বডি স্প্রে মধ্যে এক্স, প্লেবয়, এডিডাস, ফগ, হেবক, রেকসনা, সেট ওয়েট, কুল, ব্লু মেন বিক্রয় হচ্ছে ১শ’ ৫০ থেকে ৭শ’ টাকায় এবং পারফিউম বিক্রয় হচ্ছে ৩শ’ থেকে ২ হাজার টাকায়, মেহেদী প্রতিটি টিউব পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ১শ’ ৮০ টাকায়। তবে মান এবং চাহিদা অনুসারে বিভিন্ন জায়গায় প্রসাধনী এবং কসমেটিকসের দামের তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে।