বাঁকড়া ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ এর চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নৌকার পক্ষে নির্বাচন করায় ৫ জন ইউপি সদস্যকে পরিষদের কার্যক্রম থেকে বাদ রেখেছে চেয়ারম্যান।
জানা যায়, জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বাঁকড়া ইউনিয়নে প্রায় ৪৯শ’ কার্ডের মাধ্যমে ১৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেয়া হয়। এই কার্ডের চাল ইউনিয়নের প্রত্যেক গ্রামের হতদরিদ্র মানুষকে বিতরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু এই চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নৌকায় পক্ষে নির্বাচন করায় ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রমজান আলী, ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সোহাবান, ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজগর আলী, ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম রেজা ও ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকে বাদ রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। ঈদের আগেও ভিজিএফের কার্ড নামে মাত্র দিলেও প্রত্যেক ওয়ার্ডের যারা নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করেছে তাদের দিয়ে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ইউপি সদস্যরা জানান, ৪৯শ’ কার্ডের মধ্যে চেয়ারম্যান নিছার আলীর নিয়েছেন ৪শ কার্ড, এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি যুবলীগ নেতা কামরুজ্জামান মিন্টু প্রত্যেক ওয়ার্ড থেকে ২শ’ করে মোট ১৮শ’ কার্ড নিয়েছেন। এবং চাল আনা বাবদ যানবাহন খরচ ৩ টন চাল অর্থাৎ ২১৬ টি কার্ডের চাল কেটে নিয়েছেন চেয়ারম্যান নিছার আলী। চেয়ারম্যান এবং এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রতিনিধি যে কার্ডগুলো রেখেছিল সেগুলো কাউকে বিতরণ না করে বাজারে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে প্রত্যেক গ্রামে বিতরণের জন্য যে কার্ডগুলো রাখা হয়েছিল, সেগুলো দেয়া হয়েছে গত উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করা ব্যক্তিদের কাছে। তারা অধিকাংশ বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা নব্য আওয়ামী লীগার। তারা কার্ডগুলো অল্প কিছু বিতরণ করে বাকীগুলো নিজেরা তুলে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রমজান আলী দৈনিক স্পন্দনকে জানান, গরিব মানুষ কেউ চাল পায়নি। যা কিছু পেয়েছে তাদের ছাদের বাড়ি এবং সচ্ছল ব্যক্তি। ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা জানান, পরিষদে ইউপি সদস্যদের কোন মূল্যায়ন নেই। যতসব বখাটেদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আজগর আলী জানান, আমি ও সেলিম মেম্বর উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলামের লোক কিন্তু চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আমাদের কার্যক্রম থেকে বাদ রেখেছে। ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুস সোহাবান জানান, মুখ দেখে চাল বিতরণ করা হয়েছে। যারা নৌকার পক্ষে ভোট দিয়েছে তাদের পরিষদের কোন সুবিধা দেয়া হচ্ছে না। এমনকি নৌকায় ভোট দেয়ার অপরাধে আওয়ামী লীগের গরিব সমর্থকদের কার্ড দেয়া হয়নি।