কেশবপুরের গফুরকে অপহরণের কথা স্বীকার আটক খালিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর কেশবপুরের কানাইডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল গফুর মোল্যাকে অপহরণের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে আটক খালিদ হোসেন। রোববার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাইফুদ্দীন হোসাইন আসামির এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আটক খালিদ হোসেন কেশবপুরের রাজনগর বাকাবর্শী গ্রামের লাভলু মোল্যার ছেলে।
খালিদ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি পেশায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক। এ মামলার আসামি আলমগীর হোসেন, ইসমাইল হোসেন, আবু তালেবসহ কয়েকজনে গত ৭ জুন সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোবাইল ফোন করে তার মোটরসাইকেল নিয়ে কলাগাছি বাজারে যেতে বলে। বাজারে যেয়ে আরও কয়েকটি মোটরসাইকেলসহ কয়েকজন অপরিচিত লোকজন দেখতে পায়। এরপর তার মোটরসাইকেলে আবু তালেব ও ইসমাইল হোসেন চড়ে কানাইডাঙ্গা গ্রামে যেতে বলে। সেখানে যাওয়ার পরে বাড়ির মধ্যে গিয়ে আব্দুল গফুরকে অপহরণ করে খুলনার ডুমুরিয়া থানাধীন খলশি গ্রামের দিকে চলে যায়। পরে তাকে দুইশ’ টাকা ভাড়া দিয়েছিল বলে জানিয়েছে জবানবন্দিতে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, কেশবপুরের কানাইডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল গফ্ফার মোল্যার মেয়ে জেসমিন আক্তারকে ১৪ বছর আগে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খলশি গ্রামের আনছার শেখের ছেলে আলমগীর হোসেনের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের পারিবারিক বনিবনা না হওয়ায় জেসমিন আক্তার তার স্বামী আলমগীর হোসেনকে তালাক দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন সময়ে আলমগীর হোসেন তার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী জেসমিন আক্তারসহ পরিবারের লোকজনদের হুমকি দেয়। তারই জের ধরে গত ৭ জুন সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টার দিকে জেসমিনের তালাকপ্রাপ্ত স্বামী আলমগীর হোসেন, মিঠু শেখ ও রাজাসহ আরো কয়েকজনে এসে তার আব্দুল গফুরকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হলে অপহরণকারীরা আব্দুল গফুরকে একটি ঘেরের পাশে রেখে পালিয়ে চলে যায়। এঘটনায় মামলার হওয়ার পর পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালক খালিদ হোসেনকে আটক করে। গতকাল তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ওই জবানবন্দি দিয়েছে খালিদ।