যশোরে ভুয়া ‘পিবিআই ইন্সপেক্টর’ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরে বুলবুল কবির রিপন নামে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর ভুয়া ইন্সপেক্টরকে আটক করা হয়েছে। তিন যুবককে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনি যশোর শহরের ধর্মতলা খোলাডাঙ্গা এলাকার মৃত হানিফ আলী গাজীর ছেলে।
যশোর সদর উপজেলার নতুনহাট ডুমদিয়া গ্রামের সাজ্জাদ হোসেনের ছেলে সাকিবুল জানিয়েছেন, গত ৮ জুন তিনি ও তার দুই বন্ধু সাজু এবং ফিরোজ খান একটি মোটরসাইকেলে করে বেনাপোলে যাচ্ছিলেন। বাইপাস সড়কে পৌছালে রিপনসহ দুইজন একটি মোটরসাইকেলে করে তাদের গতিরোধ করে। রিপন নিজেকে ইন্সপেক্টর রনি পরিচয় দেন। তিনি সাকিবুলের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেন। এরপর ওই ফোন দিয়ে তার পিতাকে ফোন করে বলেন, তার ছেলেসহ তিনজন মাদক সংক্রান্ত ঘটনায় ফেঁসে গেছেন। তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় নেয়া হবে। তাদের ছাড়াতে হলে ১০ হাজার টাকা বিকাশ করতে হবে। আর মোটারসাইকেল কোর্টে পাঠানো হবে। সেটিও নিতে হলে আরো ২০ হাজার টাকা লাগবে। মোবাইল ফোনে সাকিবের পিতা সাজ্জাদ হোসেন ৫শ’ টাকা দিতে চাইলে তিনি রেগে যান। এবং বলে তার ছেলেকে থানায় নেয়া হচ্ছে। পরে সাজুর পিতা ৫ হাজার টাকা বিকাশ করেন। ওই সময় সাকিবের কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি নিয়ে রেখে দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। বলা হয় বাকি টাকা পেলে পুলেরহাটের ধোপাখোলার পাশের পেট্রোল পাম্পে মোবাইল ফোনটি রেখে দেয়া হবে।
কিন্তু রোববার টাকা জোগাড় করতে পারেননি সাজ্জাদ হোসেন। তিনি সোমবার ৫ হাজার টাকা নিয়ে ভুয়া ইন্সপেক্টর রিপন ওরফে রনির সাথে দেখা করতে চান। সে সময় জানানো হয় যশোর কালেক্টরেটের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সামনে যেতে। তার কথামতো তিনি ছেলে সাকিবকে নিয়ে সেখানে যান। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের সামনে গেলে টাকা চান। বলা হয় টাকা না দিলে মোবাইল ফোন দেয়া হবে না। সেখানে দাড়িয়ে থাকতে দেখে মাদকদ্রব্যের সিপাহী মোহাম্মদ আলী পরিচয় জানতে চাইলে রিপন নিজেকে পিবিআইএর ইন্সপেক্টর রনি বলে পরিচয় দেন। সে সময় মোহাম্মদ আলী পিবিআই এ ফোন দিলে পরিদর্শক আব্দুল মান্নান সেখানে পৌছান। পরে তার সাথে কথাবার্তা বলে জানা যায় তিনি আসলে রনি না। তার নাম রিপন। পিবিআইয়ের কোন সদস্যও না। শহরের খোলাডাঙ্গা এলাকায় বাড়ি। বিভিন্ন ধরণের ধান্দাবাজি করে চলা তার কাজ। তার কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল (যশোর-ল-১২-৪৯৪৭) জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় সাজ্জাদ হোসেন বাদি হয়ে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুলবুল কবির রিপন বলেছেন, তিনি মাছের ঘেরের ব্যবসা করেন। এই ধরনের প্রতারণা কেন করলেন? জানতে চাইলে বলেছেন, দুই তিন বছর আগে তিনি দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পান। তখন থেকে উল্টোপাল্টা অনেক আচরণ করে থাকেন।
কিন্তু খোলাডাঙ্গা এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, তিনি যখন তখন মানুষের সাথে খারাপ আচারণ করে থাকেন। নানা ধরণের ধান্দাবাজি করে বেড়ান। নিজের অপরাধ আড়াল করার জন্য তিনি মিথ্যা কথা বলছেন।