যশোর ভৈরব নদের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযানের প্রক্রিয়া ফের শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরে ভৈরব নদের আরো অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযানের প্রক্রিয়া ফের শুরু হয়েছে। শহরের কাঠেরপুল থেকে নীলগঞ্জ সেতু পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার নদের দুই তীরের সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ দখলদারের তালিকা প্রস্তুত করার কাজ চলছে। জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) যৌথ জরিপ দল গত ২১ মে থেকে এ কাজ শুরু করেছে।
যশোরের জেলা প্রশাসক মো: আব্দুল আওয়াল জানান, ভৈরব নদের বাকি দখলদারদের উচ্ছেদে সমীক্ষার কাজ চলছে। তাছাড়া আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সংকটে কিছুটা সমস্যায় পড়েছি। তবে কোন অবস্থায় উচ্ছেদ অভিযান থামবেনা। শিগগিরই আমরা দখলদারদের উচ্ছেদে অভিযান চালাবো।
এদিকে যশোর শহরাংশের চার কিলোমিটার নদ খননের জন্যে ষষ্ঠবারের মত দরপত্র আহবান করে অবশেষে একজন ঠিকাদার পাওয়া গেছে। গত ২৫ মে ছিলো দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। এ সময়ের মধ্যে ঢাকার মেসার্স এমটিএসএস নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১০ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নদের এই অংশ খনন ও পায়ে হাঁটা পথ নির্মাণ কাজের জন্যে দরপত্র জমা দিয়েছে। এর আগে পাঁচ দফায় দরপত্র আহবান করেও ঠিকাদার পায়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড।
ভৈরব নদের তীরে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যশোর শহরের কাঠেরপুল থেকে নীলগঞ্জ সেতু পর্যন্ত নদের সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরির কাজ করা হচ্ছে। এরপর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
তিনি জানান, ষষ্ঠ দফায় দরপত্র আহবান করে শহরাংশ খননের জন্যে ঢাকার একজন ঠিকাদার পাওয়া গেছে। এখন দরপত্র যাচাই-বাছাই করে সব ঠিকঠাক থাকলে শিগগিরই কার্যাদেশ দেওয়া হবে।’
যশোর শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদের তীরের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান হঠাৎ থমকে যায়। মাস দেড়েক আগে শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা সেতুর পশ্চিমপাশের ৮৪টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হলেও পূর্বপাশের দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে। এ অংশে নদের তীরে বহুতল ভবনে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
শহরাংশে ভৈরব নদের তীরে সৌন্দার্যবর্ধন ও শহরাবাসীর পায়ে হাঁটার জন্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য নদের তীর সরেজমিনে গিয়ে ওই টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ঘোষণা দেন। ওই টাকায় প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির কাজ করছে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। উচ্ছেদ অভিযান সম্পন্ন হলে একাজ দ্রুত হবে।
এ ব্যাপারে এলজিইডি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী মির্জা মো. ইফতেখার আলী বলেন,‘ভৈরব নদের পাঁচ কিলোমিটারের দুই তীরে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্যে ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাবনার কাজ চলছে। ভৈরব তীরের সমীক্ষা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এরপর প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে অনুমোদনের জন্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে।’
এক সময় ভৈবর নদ ছিল যশোর শহরের প্রাণ। দখল এবং দূষণে প্রমত্তা ভৈরব এখন মরা খাল। শহরবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২০১৬ সালে যশোরে এসে ভৈরব নদ খননের প্রতিশ্রুতি দেন। ওই প্রতিশ্রুত অনুযায়ী ২৭২ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে পাঁচ বছর মেয়াদী ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’ শুরু হয়। প্রকল্পের আওতায় ৯২ কিলোমিটার খনন কাজ হবে। ইতিমধ্যে নদের উজান ও ভাটির ৭০ কিলোমিটারের বেশি খনন কাজ চলমান রয়েছে।
ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলন কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ভৈরবনদকে বাঁচাতে অবশ্যই এর দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে। তানাহলে নদ তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলবে।