৩৫ বছর ধরে বিনা বেতনে শিশুদের ছবি আঁকা প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ

এস আলম তুহিন ,মাগুরা>
নাম মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ । এক সময় অস্ত্র হাতে দেশের জন্য নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন । যুদ্ধ করেছিলেন মাগুরার পাশ্ববর্তী শৈলকূপা,মহেশপুর ও হাটগোপালপুর অঞ্চলে । স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীন বুকে এঁকে দিবেন সোনালী স্বপ্ন । তার স্বপ্ন আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে । স্বাধীনতার পর মাগুরা সদরের রাউতাড়া গ্রামে নিজের ৬ শতক জমির ওপর ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন । ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এ স্কুলটির নামকরণ করেছেন বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তফা আজিজের নামে। প্রায় ৩৫ বছর ধরে বিনা বেতনে এলাকার শিশুদের ছবি আঁকা শিখিয়ে যাচ্ছেন চিত্রশিল্পী আব্দুল আজিজ । এ স্কুলে সপ্তাহে শুক্র-শনিবার দুইদিন বিনা বেতনে এলাকার শিশুদের ছবি আঁকা শেখানো হয় । শুধু ছবি আঁকা নয়, বাংলা নববর্ষ,বিজয় দিবস,স্বাধীনতা দিবস,শহীদ দিবস আনুষ্ঠানিক ভাবে পালনের মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতি সর্ম্পকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলার কাজটিও করে চলেছেন । এ স্কুলের আশে পাশে রয়েছে বিভিন্ন ফলজ গাছ । আম,লিচু,জামরুলসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল চিত্রশিল্পী আব্দুল আজিজ শিশুদের মাঝে বিতরণ করেন । প্রায় ৮১ বছর বয়সী চিত্র শিল্পী আব্দুল আজিজ মাগুরার প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিশু-কিশোরদের ছবি আঁকাশেখানোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,দেশপ্রেম নৈতিকতাবোধ সৃষ্টিতে কাজ করে চলেছেন । তাছাড়া সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোতে ছুটে যান শহরের বিভিন্ন ¯ু‹লে শিশুদের ছবি আঁকাতে । এসব বিদ্যালয়ে তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ছবি আঁকাসহ একইভাবে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও নীতি নৈতিকতা শিক্ষা দিয়ে চলেছেন ক্লান্তিহীনভাবে ।
সদরের রাউতাড়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় চিত্রশিল্পী আব্দুল আজিজের সাথে । তিনি বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই শিশুদের ভালোবাসি । তাদের জন্য কিছু করতে পারাটা আমার কাছে মহামূল্যবান জিনিস । শিশু ভালোবাসি বিধায় তাদের জন্য নিজের জমিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছি । বর্তমানে এখানে ৫ বছর বয়সী শিশু থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা ছবি আঁকতে আসে । আমি ছবি আঁকা শিখিয়ে তাদেও কাছ থেকে কোন অর্থ উপার্জন করি না । নিজের ভালোলাগা ,ভালোবাসা থেকেই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে শিখিয়ে থাকি । তিনি আরো বলেন,এক সময় নিজের জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করেছিলাম । দেশের প্রতি মমত্বাবোধ,ভালোবাসা থেকে আমি শিশুদের ভালোবাসি । সেই ভালোবাসা থেকেই বিনাবেতনে শিশুদেও ছবি আঁকা শিখেয়ে যাচ্ছি । পাশাপাশি আমি শিশুদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সর্ম্পকে ধারণা দেওয়ার কাজ কওে যাচ্ছি । যতদিন বাঁচবো শিশুদের ভালোবাসব । শিশুদের ভালোবাসার মাঝেই যেন আমার স্বর্গ।
এলাকার শিক্ষক রোকনুজ্জামান বলেন, আব্দুল আজিজ ভাই আসাধারণ মানুষ । তিনি এলাকার শিশুদের জন্য বিনাবেতনে ছবি আঁকা শিখিয়ে যাচ্ছেন । যা সত্যিই খুবই বিরল । তার মতো গুণি মানুষ আমাদের সমাজে খুবই প্রয়োজন ।
২০১৯ সালে জেলা শিল্পাকলা একাডেমী চিত্রশিল্পী আব্দুল আজিজকে সম্মাননা প্রদান করেছেন । যা মাগুরাবাসীর জন্য গর্বের ।