যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল> নিম্নমানের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও লাইন সংস্কার না করায় বারবার অগ্নিকান্ড !

বিল্লাল হোসেন>
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আবারো অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। বারবার অগ্নিকান্ডের ঘটনার নেপথ্যে কারণ কি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, বৈদ্যুতিক বোর্ড দীর্ঘদিন সংস্কার না করা, নিম্মমানের তড়িৎ যন্ত্রপাতি ও ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ তারই শর্ট সার্কিটে অগ্নিকান্ডের মূল কারণ । ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্স যশোরের কর্মকর্তা বলেছেন,একাধিকবার হাসপাতাল পরিদর্শন করে নিম্নমানের তার পরিবর্তন ও নতুন করে ওয়ারিং করার পরামর্শ দেয়া হলেও সংশ্লিষ্টরা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, তিনিও বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগকে জানিয়েছেন ।
হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় আশরাফুল জানান, ১৪ জুন শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মহিলা ওয়ার্ডের ১৫ নম্বর বেডে হঠাৎ করে সুইচ বোর্ডে ধোঁয়া বের হতে থাকে। পরে আগুনের সৃষ্টি হয়। চিকিৎসাধীন রোগী ও স্বজনরা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে ওয়ার্ডে আগুন দেখা দেয়ায় তাদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তারা ভয়ে দৌঁড়াদৌঁড়ি করতে থাকেন। আবার অনেক রোগী বিছানায় শুয়েই চিৎকার করতে থাকে। ওয়ার্ডে দায়িত্বরত জ্যেষ্ঠ সেবিকা শিরিন সুলতানা আক্তার জানান, ১৫ নম্বর শয্যায় চিকিৎসাধীন ছিলেন বাঘারপাড়া উপজেলার পাইকপাড়া এলাকার ইদ্রিস আলীর স্ত্রী শিল্পী খাতুন। তার বোন তিতলি শয্যার পাশে সুইচ বোর্ডে মোবাইল ফোনে চার্জ দিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে ওই বোর্ডে আগুন ধরে যায়। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে তাৎক্ষণিক আগুন নেভানো সম্ভব হন তারা। তিনি জানান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণেই এই অগ্নিকান্ড। তবে আগুনে কারো কোন ক্ষতি হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগেও সরকারি এই হাসপাতালে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে একাধিকবার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত মে মাসেও দুটি অগ্নিকান্ডের সষ্টি হয়। এর একটি হলো হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ও আরেকটি ঘটনা ঘটে কর্মচারী কোয়ার্টারে। শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজনের চুল বৈদ্যুতিক তারে লাগলেই আগুন ধরে যায়। এসময় গোটা হাসপাতালে আগুন আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এরআগে ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর হাসপাতালের বহির্বিভাগের ১১৩ নম্বর কক্ষে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।তখন ওই কক্ষে ডা. লুৎফুন্নাহার লাকি রোগী দেখছিলেন। আগুনের ধোঁয়ায় সেখানে থাকা চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডে বৈদ্যুতিক বোর্ডগুলো বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। অনেক পুরাতন এসব বোর্ড সংস্কার করা হয়না দীর্ঘদিন। তবে বোর্ডে দুই একটা করে নতুন সুইচ লাগানো হয়েছে। একাধিক রোগীর স্বজন জানিয়েছেন, হাসপাতাল মানেই অসুস্থ মানুষের বসবাস। এখানে আগুন দেখা দিলেই আতংক ছড়িয়ে পড়ে। অসুস্থ মানুষগুলো হাউমাউ করতে থাকে। যে কারণে হাসপাতালে বৈদ্যতিক লাইন উন্নত করা একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। হাসপাতালে দায়িত্বরত গণপূর্ত বিভাগ যশোর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী (ইএম) শাহিনুর রহমান জানান, বিদ্যুত সংযোগের সমস্যা তাদের চোখে পড়লেই তাৎক্ষনিকভাবে মেরামত করা হয়। ওয়ারিং পুরাতনের কারণে সমস্যা হচ্ছে এটা ঠিক। তবে নিম্মমানের তড়িৎ যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অভিযোগটি সঠিক না। ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্স যশোরের সহকারী পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান,যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের বৈদ্যতিক লাইনে নানা সমস্যা রয়েছে। তিনি হাসপাতাল পরিদর্শনের পর সংশ্লিষ্টদের বলেছেন, বৈদ্যুতিক বোর্ড ও সংযোগ লাইনে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। তারও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এগুলো পরিবর্তন করা অতি জরুরি। কিন্তু হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা কর্ণপাত করছেন না। আর যে কারণেই বারবার বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট দেখা দিচ্ছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, ইতিমধ্যে তিনি গণপূর্ত বিভাগকে বলেছেন বৈদ্যুতিক লাইনে নতুন করে কাজ করতে। কারণ হাসপাতালে বড় ধরণের অগ্নিকান্ডের সৃষ্টি হলে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।