সামান্য নিয়ম মানলেই বাঁচবে প্রাণ

সেপটিক ট্যাংকে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। এবার করুণ মৃত্যু হলো দুলু মিয়া ও এনামুল হক নামে দুই যুবকের। রংপুরের পীরগঞ্জে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে নেমে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আরও একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ৯টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড়ঘোলা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

বড়ঘোলা গ্রামের মসের উদ্দিনের ছেলে দুলু মিয়া রাতে টয়লেটে যায়। এ সময় তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি সেপটিক ট্যাংকে পড়ে যায়। ফোনটি উদ্ধারে একটি বাঁশ বেয়ে ট্যাংকে নামেন দুলু মিয়া। কিন্তু তার উপরে উঠতে বিলম্ব হলে প্রতিবেশী আজহার আলীর কলেজপড়ুয়া ছেলে এনামুল হকও সেপটিক ট্যাংকে নেমে পড়েন। দুজনের উপরে উঠে আসার জন্য কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে শাহিন নামে আরেক যুবক সেখানে নামেন।

‘সাধারণ কিছু নিয়ম মানলেই এই দুর্ঘটনা রোধ করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সেপটিক ট্যাংক খোলার পরপরই ভেতরে না ঢোকা। নিজে ঢোকার আগে মোমবাতি বা লণ্ঠন জ্বালিয়ে ট্যাংকে ঢোকাতে হবে, যদি ওই আলো নিভে যায়, তবে মনে করতে হবে যে ট্যাংকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ঢোকার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’

পরে স্থানীয়দের দেয়া খবরে ঘটনাস্থলে এসে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তিনজনকে উদ্ধার করেন। এরমধ্যে কলেজছাত্র এনামুল হক সেপটিক ট্যাংকে শ্বাসকষ্টে এবং দুলু মিয়াকে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। অপরজন শাহিন মিয়াকে পীরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। দেশে প্রায়শই সেপটিক ট্যাংকে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু এটা প্রতিরোধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। ফলে ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেই চলেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সক্রিয় হবেন এমনটিই প্রত্যাশিত।

মূলত সচেতনতার অভাবেই ঘটছে এই ধরনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা। আর দরিদ্র শ্রেণির লোকজনই এর শিকার হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে এ ধরনের মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। বদ্ধ ট্যাংকে যে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকে- এ ধারণা না থাকা, ট্যাংকে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের উপস্থিতি নিশ্চিত না করে এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা না নিয়ে নামার জন্যই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।

সাধারণ কিছু নিয়ম মানলেই এই দুর্ঘটনা রোধ করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সেপটিক ট্যাংক খোলার পরপরই ভেতরে না ঢোকা। নিজে ঢোকার আগে মোমবাতি বা লণ্ঠন জ্বালিয়ে ট্যাংকে ঢোকাতে হবে, যদি ওই আলো নিভে যায়, তবে মনে করতে হবে যে ট্যাংকে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ঢোকার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

আরেকটি পদ্ধতি হলো, পানি দিয়ে পুরো ট্যাংক ভরে ফেলা। আবার ফ্যানের বাতাস বা ব্লোয়ার দিয়ে ট্যাংকে থাকা বিষাক্ত গ্যাসকে সহনীয় করে তোলা। কথা হচ্ছে যা-ই করা হোক না কেন, ট্যাংকে প্রবেশের আগে সেখানে অক্সিজেনের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়াটা জরুরি।

এখন এই নিশ্চিত টা কে নিশ্চিত করবে। সাধারণ শ্রমিক তো আর অক্সিজেন বুঝে না। এ জন্য নিয়োগকর্তাকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসকেও দায়িত্ব নিতে হবে। সেফটিক ট্যাংকের নিরাপত্তার বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা চালাতে হবে। প্রয়োজনে সেফটিক ট্যাংকে শ্রমিক নামার আগে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পরীক্ষা করে তার পরই অনুমোদন দিতে হবে। আর এতে বেঁচে যাবে অনেক প্রাণ। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা দায়িত্বশীল হবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা। আমরা এ ধরনের দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনা আর দেখতে চাই না।