যশোরের চুড়ামনকাটিতে আন্ত:জেলা চোর সিন্ডিকেট সক্রিয় : সয়াবিন তেল জব্দ, আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক>
তিনমাস আগে গাজীপুর থেকে চুরি হওয়া ট্রাকভর্তি ৬০ ব্যারেল সয়াবিন তেল যশোর সদরের চুড়ানকাটি থেকে জব্দ করা হয়েছে। এই তেল চুরির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে চুড়ামনকাটি বাজারের রমজান নামে এক কালোবাজারী চক্রের সদস্য এবং চান আলী নামে এক ট্রাক চালককে আটক করা হয়েছে। চান আলী যশোর শহরের খড়কী হাজামপাড়া এলাকার কোরবান আলীর ছেলে। তিনি যশোর জেলা মটর ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য।
যশোর কোতয়ালি থানার এসআই হায়াৎ মাহমুদ জানিয়েছেন, মাস তিনেক আগে নারায়ণগঞ্জ থেকে ট্রাক ভর্তি করে ৬০ ব্যারেল সয়াবিন তেল গাজীপুরে পাঠানো হয়। কিন্তু ট্রাকটি গাজীপুরে না গিয়ে যশোরে চলে আসে। সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি বাজারের ব্যবসায়ী রমজান আলী ওই চোরাই তেল কিনে নেন এবং তার গোডাউনে রাখেন। তেল চুরির ঘটনায় গাজীপুর থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ শনিবার যশোরে আসে এবং সর্বপ্রথম খড়কী এলাকায় গিয়ে চান আলীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক সন্ধ্যার দিকে চুড়ামনকাটি বাজারের রমজানের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এবং তার গোডাউন থেকে ৬০ ব্যারেল তেল জব্দ করা হয়।
তিনি বলেছেন, গোডাউন থেকে চুরি হওয়া ৬০টি ব্যারেল জব্দ করা হয়েছে। যার অধিকাংশের মধ্যে তেল রয়েছে।
আটক চান আলী জানিয়েছেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী। তার বাস ট্রাক আছে। তিনি যশোর জেলা বাস মালিক সামতির সদস্য এবং যশোর জেলা মটর ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের লাইন সম্পাদক বলে পরিচয় দেন। তার আটকের কারণ সম্পর্কে জানিয়েছেন, গত ১৪ রোজায় মনির নামে এক বন্ধু পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। মনিরের সাথে তার যোগাযোগ ছিল। সে কারণে তাকে আটক করতে পারে। কী কারণে মুনির ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন তা তিনি বলতে পারেন না। মনিরের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায়। তিনিও ব্যবসায়ী। তার মটর গাড়ি আছে।
তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মনির আন্তজেলা প্রতারক ও চোর দলের হোতা ছিলেন। তার নিজের ট্রাক থাকার সুবাদে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য নির্দিষ্ট স্থানে খালাস না করে তিনি অন্য জেলায় নিয়ে তা বিক্রি করে দিতেন। তার সাথে সারা দেশের এই রকম একটি চক্রের যোগাযোগ ছিল। মনিরকে মূল হোতা হিসাবে দেখতো আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোজার মাসে তিনি ঢাকায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। এরপর থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তার গ্রুপের সদস্যদের আটকের জন্য পুলিশ তৎপর হয়। যশোরে আটক চান আলী ও রমজান আলী তার গ্রুপের অন্যতম সদস্য। চান আলী নিজে ট্রাকের মালিক ও চালক। নারায়ণগঞ্জ থেকে তার ট্রাকে সয়াবিন তেল লোড করা হয়। ওই তেল গন্তব্যস্থল গাজীপুরে না নিয়ে তিনি যশোরের চুড়ামনকাটি বাজারে রমজান আলীর কাছে বিক্রি করে দেন বলে পুলিশ তথ্য পায়। সে ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়। উদ্ধার করা হয় চুরি হওয়ার ৬০টি ব্যারেল।
চুড়ামনকাটি বাজারের একটি সূত্রে জানাগেছে, রমজান আলীর বাজারে একটি ছোট দোকান আছে। আর বাজারের সাথে আছে গোডাউন। তিনি নানা ধরণের চোরাকারবারীর সাথে জড়িত বলে ব্যাপক প্রচার আছে বাজারে। শনিবার রাতে রমজান আলীকে কোতয়ালি থানায় নেয়া হয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গাজীপুর থানা পুলিশের সদস্য অভিযান থাকায় তাদের মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।