যশোর আরএন রোড নতুন বাজারে উচ্ছেদ: পৌরসভার গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশের লাঠিচার্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর পৌরসভার উদ্যোগে শহরের আরএন রোডের নতুন বাজারের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা অপসারনকালে ব্যবসায়ীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা পৌরসভার ৪টি গাড়ি ও একটি এস্কেভেটর ভাঙচুর করে। এসময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের লাঠিচার্জে কমপক্ষে ৬জন ব্যবসায়ী ও পৌরসভার পিকআপ চালক আহত হয়েছেন।
যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন জানান, পৌরসভার নিজস্ব জমিতে নতুন বাজার এলাকায় ১২০টি দোকান ভাড়া দেয়া হয়েছিল। মার্কেটটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় গত ২ বছর ধরে আমরা মার্কেটের দোকান মালিকদের অন্যত্র চলে যাবার জন্য চিঠি দিয়ে আসছি। গত বৃহস্পতিবার তাদেরকে মৌখিকভাবে অন্যত্র চলে যাবার জন্য বলা হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা দোকান ছেড়ে যেতে নারাজ। এজন্য গতকাল পুলিশের সহযোগিতায় সেখানে ১২০টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। সচিব আরো বলেন নতুন বাজার এলাকায় পৌরসভার ৫৬ শতক জমিতে ৫তলা ভবন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভবন হবার পর সেখানে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেয়া হবে। এই মর্মে ব্যবসায়ীরা পৌরসভায় অঙ্গিকার নামা দিয়েছেন।
মার্কেটের জাকির কালার হাউজের মালিক জাকির হোসেন জানান, তাদের দোকানের মালামাল সরিয়ে নেয়ার জন্য বৃহস্পতিবার মৌখিকভাবে জানানো হয় । আর শুক্রবার তারা জানতে পারে মার্কেটের দোকান অপসারণ করা কবে । এত অল্প সময়ে তারা দোকানের মালামাল সরিয়ে নিতে না পারায় অনেক ক্ষতি হয়েছে । সেখানকার ব্যবসায়ী মুনসুর আলী জানান তিনি ৪১ বছর ধরে ওই মার্কেটে ব্যবসা করছেন । মার্কেটে তার একটি হোটেল নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করায় তার ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে ।
শনিবার উচ্ছেদ করায় ব্যবসায়ীরা বিকালের দিকে এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভকালে পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করে।
একই কথা জানান মটর পার্টস ব্যবসায়ী আজিজুর রহমান, নান্নু আহমেদ, খোরশেদ হোসেনসহ আরো অনেকে ব্যবসায়ী ।
আরএন রোডস্থ মোটরপার্টস ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি গোলাম ফারুক লিটন জানান, আমরা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধে জেলা জজ আদালতে রিট করেছিলাম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়র কোন ধরণের নোটিশ ছাড়াই আমাদের রাতারাতি উচ্ছেদ করল। এতে ব্যবসায়ীরা পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবসায়ীরা জানতে চাইলে পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ করে। এতে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
এব্যাপারে যশোর কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অপূর্ব হাসান জানান, জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উচ্ছেদ অভিযানে বাঁধা সৃষ্টি করায় পুলিশ সেখানে লাঠিচার্জ করে। পুলিশের উপর ইট নিক্ষেপ করা হয়েছে।