পেট্রাপোলে হুন্ডির টাকাসহ বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসির সহকারি আটক !

শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল >
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের বহুলালোচিত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাশারের একান্ত পাবলিক সহকারি রুহুল আমিন (৩০) হুন্ডির টাকাসহ ভারতের পেট্রাপোল বিএসএফ’র কাছে আটক হয়েছে বলে জানাগেছে। এ নিয়ে দু’দেশের চেকপোস্ট এলাকায় গুঞ্জন চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার বেলা ১২টার দিকে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি আবুল বাশারের নির্দেশে ভারতের পেট্রাপোলে যায় ইমিগ্রেশন পুলিশের কনস্টেবল আযম, রোমানা, তিষা ও ওসি’র একান্ত (পাবলিক) সহকারি রুহুল। পরে ভারত থেকে ফেরার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ তিন পুলিশ কনস্টেবলসহ রুহুলকে আটকের পর তাদের শরীর তল্লাশী করে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করেন বিএসএফ সদস্যরা। পরে ওসি আবুল বাশারের বিশেষ অনুরোধে দীর্ঘ সময় পর উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর ন্যায় তিন পুলিশ সদস্যকে মুক্ত করে পাবলিক রুহুলের কাছ থেকে ওই হুন্ডির টাকা জব্দ দেখানো হয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ইমিগ্রেশন পুলিশের ওসি আবুল বাশারের পক্ষ থেকে তদবির মিশনে নামেন এসআই পলাশসহ কনস্টেবল আযম। সাংবাদিকদের ডেকে সৌদিয়া পরিবহন কাউন্টারের মধ্যে নিয়ে সংবাদটি প্রকাশ না করার জন্য অনরোধ করা হয়। সংবাদকর্মীরা কনস্টেবল আযমকে সঠিক ঘটনাটি বলার জন্য অনুরোধ করেন। কনস্টেবল আযম বলেন, তারা ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্টে গিয়েছিলেন কিছু কেনাকাটার উদ্দেশ্যে। ফেরার পথে বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে ডেকে নিয়ে সকলকে তল্লাশী করে রুহুলের কাছ থেকে প্রায় ২লাখ টাকা উদ্ধার করেছে। পরে ওসি আবুল বাশার গিয়ে তাদের তিনজনকে ছাড়িয়ে এনেছেন।

এ বিষয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল বাশার বলেন ঘটনার কিছুটা সত্য, কিছুটা মিথ্যা। তিন পুলিশ কনস্টেবল পেট্রাপোলে গিয়েছিল কেনাকাটার উদ্দেশ্যে। কেনাকাটা শেষে দেশে ফেরার সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে আটক করে তল্লাশী করে। এসময় রুহুল নামের অপরিচিত এক পাবলিকের কাছ থেকে ২লাখ টাকা উদ্ধার করে বিএসএফ সদস্যরা। এ কর্মকান্ডের সাথে পুলিশ সদস্যরা জড়িত ছিলনা বিধায় তাদেরকে ছাড়িয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া রুহুলকে তিনি চেনেন না বলে জানান এ প্রতিবেদককে।

রুহুল আমিনের যাতায়াতের দৃশ্য এপার বাংলা ও ওপার বাংলার দু’চেকপোস্ট এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলে জানাযাবে। এছাড়া তিনি কয়েকমাস পূর্বে রয়েল কোচের কতিপয় সদস্যের মাধ্যমে রোহিঙ্গা পার করেও বিপুল টাকার মালিক হয়েছেন বলেও জানা যায়।