ভবদহে ফের জলাবদ্ধতার শঙ্কা

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি>
অভয়নগরের ভবদহ এলাকায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ব্যাপক জলাবদ্ধতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলার আমডাঙ্গা খালের ৬ ভোল্ট স্লুইস গেটের নষ্ট কপাট দিয়ে ভৈরব নদের পানি ঢুকছে। খালসহ স্লুইস গেটের দুই পাশে পলি জমায় বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। হুমকির মুখে রয়েছে উপজেলার সুন্দলী, চলিশিয়া, পায়রা ইউনিয়নসহ নওয়াপাড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডবাসী, শতশত মৎস্য ঘের ও ফসলী জমি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকির অভাবে জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় জরুরিভাবে আমডাঙ্গা খাল খননের দাবি করেছে এলাকাবাসী।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় খাল খনন করা হবে বলে জানালেন অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। দ্রুত সময়ের মধ্যে ইতিবাচক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানালেন যশোর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী।
অভয়নগর উপজেলার ভবদহ এলাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আর এ জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রতি বছর কয়েকটি খাল খননের কাজ জরুরি হয়ে পড়ে। যার মধ্যে অন্যতম আমডাঙ্গা খাল। খালের একপাশ ভৈরব নদে ও অপরপাশ ভবদহের টেকা নদীর সাথে যুক্ত হওয়ায় এ অঞ্চলের অতিরিক্ত পানি দুই নদী দিয়ে চলে যায়। কিন্তু এবার তার চিত্র ভিন্ন। খালে পলি জমায় পানি প্রবাহ বন্ধ হয়েগেছে। ফলে বর্ষার শুরুতে উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১টি ওয়ার্ডের হাজার হাজার মানুষ, শতশত মৎস ঘের ও ফসলী জমি ব্যাপক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সরেজমিনে আমডাঙ্গা খাল ও ৬ ভেল্টের স্লুইচ গেটে গিয়ে দেখা যায়, গেটের ৩টি নষ্ট কপাট দিয়ে ভৈরব নদের পানি ঢুকছে। গেটম্যান নেই।
স্থানীয়রা জানায়, খালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও স্লুইস গেটের মুখে পলি জমার কারণে জোয়ারের পানি ভাটির সময় বের হচ্ছেনা। আর ওই লবনাক্ত পানি ছড়িয়ে পড়ছে মৎস্য ঘের ও ফসলী জমির মধ্যে।
আমডাঙ্গা খাল সংগ্রাম কমিটির নেতা ও স্থানীয় সুন্দলী ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলায় এবার খনন কাজ এখনও শুরু হয়নি। চলতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার শঙ্কা শতভাগ বলে তিনি খালটি খননের দাবি করেন।
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে আমডাঙ্গা খালের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে যশোর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, আমডাঙ্গা খালের স্লুইস গেটের তিনটি নষ্ট কপাট দু’একদিনের মধ্যে পরিবর্তন করা হবে। তবে গেট ও খালে পলি জমার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।