১১ বছর পর হাঁটলো আব্দুল জিলাল

বিল্লাল হোসেন >
আব্দুল জিলাল (১৮)। ৭ বছর আগে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে কোমরের হিপ জয়েন্টে আঘাত লেগেছিল। পিতৃহারা জিলালের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা অর্থাভাবে ঢাকায় নিয়ে অপারেশন করাতে পারেননি। ফলে প্রতিনিয়ত যন্ত্রনায় ছটফট করতো এই কিশোর। ব্যথার কারণে হাঁটতেও পারতো না। শুক্রবার যশোরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার হিপজয়েন্ট অস্ত্রোপচার করেছেন সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী মাযহারুল ইসলাম দোলন। এই চিকিৎসক জানান, যশোরে প্রথমবারের মতো হিটজয়েন্ট অপারেশন করা হলো। দীর্ঘ প্রচেষ্ঠায় অপারেশনটি সফল হয়েছে। শনিবার ওই রোগী কেবিনে হাঁটা চলা করেছে। এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবে আব্দুল জিলাল। সে মাগুরা সদর উপজেলার মৃত নাজমুল ইসলামের ছেলে।
তার মা ও বোন জানান, জিলালের বয়স বাড়ার সাথে তাদের দুশ্চিন্তা বাড়ছিলো। দীর্ঘ ১১ বছর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেনি সে। উন্নত চিকিৎসার অভাবে পিতৃহারা জিলাল লাঠি ভর দিয়ে ২০/২৫ পা যেতেই যন্ত্রনার কারণে আর হাঁটতে পারতোনা। অপারেশনের পর জিলালের হাঁটা দেখে তারা অনেক খুশি। ডা. কাজী মাযহারুল ইসলাম দোলন জানান, তিনি অর্থোপেডিকের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের মানসিকতায় সপ্তাহে দুই দিন যশোরে আসেন। তিনি অনেক গরিব রোগীকে বিনামূল্যে অপারেশন করেছেন। আগামীতে করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরো জানান, আব্দুল জিলাল দীর্ঘ বছর পর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারায় তারও ভালো লাগছে। আব্দুল জিলালের হিপ জয়েন্ট সম্পূর্ণ প্রতিস্থাপন ছাড়াও বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ক্রিকেট খেলোয়ার নাহিদ হোসেনের (২৭) লিগামেন্ট (এসিএল) সার্জারী করেছেন। অপারেশনটি অনেক জটিল ছিলো। বর্তমানে রোগী সুস্থ রয়েছেন। নাহিদ হাসান যশোর শহরের পালবাড়ি এলাকার মুনছুর আলীর ছেলে।