যশোর ডিবির তিন কর্মকর্তাকে ‘ফাঁসানো’ সেই লতিফ ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর ডিবি পুলিশের ওসি ও দুই উপ-পরিদর্শকের বিরুদ্ধে খুলনাস্থ ডিআইজি অফিসে ‘নালিশ’ করা সেই আব্দুল লতিফকে (৩৭) ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করেছে র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা।
গত রোববার রাতে যশোরের মণিরামপুর-ঝিকরগাছা সড়কের পায়রাডাঙ্গা কুঠিপাড়ার মশিয়ার রহমানের চায়ের দোকানের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ১০২ সিপ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে বলে র‌্যাব-৬ যশোর ক্যম্পের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। আব্দুল লতিফ মণিরামপুরের রতনদিয়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, রতনদিয়া গ্রামের আব্দুল লতিফ তার সাবেক স্ত্রী তাহেরা সুলতানা শাপলাকে ফাঁসাতে তার বাড়িতে ইয়াবা ট্যাবলেট রেখে ডিবি পুলিশে সংবাদ দেয়। বলা হয় শাপলা ও তার মা রহিমা বেগম মাদক ব্যবসার সাথে জাড়িত। ১৩ জুন গভীর রাতে এসআই সোলায়মান আক্কাস ও এসআই বিপ্লব রায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানোর উদ্দেশ্যে মণিরামপুরে যান। আব্দুল লতিফ তার দুই সঙ্গী ইসমাইল ও শরীফকে মোটরসাইকেলে করে ডিবি পুলিশের সাথে তাদের বাড়িতে পাঠান। পরে ডিবি পুলিশ রহিমা বেগমের খোলা বারান্দায় কাগজের একটি পুটলির ভেতর থেকে ২০পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন। ইয়াবা হাতে পেয়েই ঘটনাটি সাজানো বলে তাদের সন্দেহ হয়।
তাদের কোন শক্রু আছে কি-না জানতে চাইলে শাপলা জানান, রতনদিয়া গ্রামের আব্দুল লতিফ তার সাবেক স্বামী। বনিবনা না হওয়ায় গত ২৭ মে তাদের মধ্যে তালাক হয়ে যায়। এরপর থেকে আব্দুল লতিফ তাদের ক্ষতির চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
সূত্রটি জানায়, তাহেরা সুলতানা শাপলার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে আব্দুল লতিফের সঙ্গী ইসমাইলকে আটক করে ডিবি পুলিশ। তবে শরীফ মোটরসাইকেলে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার দেখিয়ে ইসমাইলের বিরুদ্ধে মামলা করে ডিবি পুলিশ। এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন যশোরের পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
এরপরদিন ১৪ জুন আব্দুল লতিফ তার আরেক সঙ্গী রিপনকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ডিবি অফিসে পাঠান ইসমাইলকে ছাড়ানোর জন্য। কিন্তু ডিবি পুলিশ ওই টাকা না নিয়ে লতিফকে আটকের জন্য রিপনকে ব্যবহার করে। কিন্তু আগেই টের পেয়ে ডিবি পুলিশের ফাঁদে পা দেয়নি আব্দুল লতিফ। পরে অবশ্য রিপনও মুক্তি পান
সূত্র মতে, ওই ঘটনার পর আব্দুল লতিফ খুলনাস্থ ডিআইজি অফিসে গিয়ে ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহম্মদ, এসআই সোলায়মান আক্কাস ও এসআই বিপ্লব রায়ের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের মিথ্যা অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগ পেয়ে ডিআইজির এক আদেশে ওসি মারুফ আহম্মদ, এসআই সোলায়মান আক্কাস ও বিপ্লব রায়কে ক্লোজের আদেশ দেয়া হয়।
এ বিষয়ে ডিবির বর্তমানে ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, আব্দুল লতিফ নিরীহ মানুষকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করছিল। সে কারণে তাকে আটক করার জন্য তৎপর ছিল ডিবি পুলিশ। কিন্তু সে উল্টো ডিবি পুলিশের নামে ডিআইজি অফিসে মিথ্যা অভিযোগ করে। সে কারণে পরিদর্শকসহ তিনজনকে ক্লোজড করা হয়। আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে, প্রতারণা, মাদক, পাচার, আত্মসাৎসহ ৭টি মামলা আছে।