যশোর ওসি ডিবির ক্লোজড আদেশ প্রত্যাহার

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
যশোরের মণিরামপুরের আলোচিত প্রতারক আব্দুল লতিফের মিথ্যা নালিশের জেরে সাময়িক শাস্তি পাওয়া ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহম্মদের ক্লোজড আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। খুলনাস্থ ডিআইজি অফিসের এক আদেশে বৃহস্পতিবার ওসি মারুফ আহম্মদের ক্লোজড আদেশ প্রত্যাহার হয়। অন্য দুই কর্তকর্তা সোলায়মান আক্কাস ও বিপ্লব রায়ের ক্লোজড আদেশ এখনও প্রত্যাহার হয়নি। ডিবি পুলিশের ওসি মারুফ আহম্মদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মণিরামপুরের রতনদিয়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে আব্দুল লতিফ তার সাবেক স্ত্রীকে ফাঁসাতে বাড়ির বারান্দায় ইয়াবা ট্যাবলেট রেখে ডিবি পুলিশে সংবাদ দেয়। ডিবির এসআই সোলায়মান আক্কাস ও এসআই বিপ্লব রায় তার কথা মতো সেখানে গিয়ে দেখেন বারান্দায় একটি কাগজে মোড়ানো অবস্থায় ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে। ওই ইয়াবা দেখে পুলিশের সন্দেহ হলে পুলিশ লতিফের সাবেক স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেন। পরে ঘটনা তদন্ত করে বুঝতে পারেন বিষয়টি সাজানো। সে সময় পুলিশ লতিফের সহযোগী ইসমাইলকে আটক করে। ইসমাইলকে ছাড়ানোর জন্য আরেক সহযোগী রিপনকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে পাঠায় ডিবি অফিসে।

এ সময় ডিবি পুলিশ টাকা না নিয়ে রিপনকে ব্যবহার করে লতিফকে আটকেরজন্য। কিন্তু সুচতুর লতিফ ওই ফাঁদে পা না দিয়ে চলে যায় ডিআইজি অফিসে। সেখানে গিয়ে ডিবির ওসি মারুফ আহম্মদ ও দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা নালিশ করে। ওই অভিযোগ পেয়ে গত ২০ জুন ওসি মারুফ আহম্মদ, এসআই সোলায়মান আক্কাস ও এসআই বিপ্লব রায়কে ক্লোজ করেন।

ডিবির ওসি মারুফ আহম্মদ জানিয়েছেন, তদন্ত ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। পরে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন সিকদার বিষয়টি তদন্ত করে আব্দুল লতিফের দেয়া অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এরই প্রেক্ষিতে ডিআইজি অফিস থেকে এক আদেশে বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে দেয়া ক্লোজড আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। অপর দুই অফিসারের বিরুদ্ধে নেয়া শাস্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন রাতে র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা আব্দুল লতিফকে ঝিকরগাছা উপজেলার পায়রাডাঙ্গা গ্রাম থেকে ১০২ পিস ইয়াব ট্যাবলেটসহ আটক করে। ওই দিন সে র‌্যাবের কাছেও মিথ্য তথ্য দিয়ে অন্য একজনকে ফাঁসাতে চেয়েছিল বলে জানাগেছে। তার বিরুদ্ধে, মাদক, পাচার, প্রতারণাসহ ১০টি মামলা আছে বলে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে।