থানার সামনে চুরি: প্রিয়াঙ্গন জুয়েলার্স মালিকের মামলায় আটক নেই

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
জনাকীর্ণ এলাকা। রাস্তার পাশে অবস্থিত দোকানের সামনে দিয়েই মানুষ চলাচল করে। আবার দোকানের সামনে আর পাশে বসে ফল ও দুধ বিক্রেতারা। সব সময় ক্রেতা ভিড়। কিন্তু এধরণের একটি দোকান থেকে প্রকাশ্যে ৯ মিনিটের মধ্যেই চুরির ঘটনা সব মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। অনেকে বলছে, চোরের দুঃসাহস বটে। চুরির ঘটনাটি নিয়েও চলছে তোলপাড়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও বসে নেই।

বৃহস্পতিবার দিনেদুপুরে যশোর শহরের চৌরাস্তায় কোতয়ালি থানার পাশের প্রিয়াঙ্গন জুয়েলার্স থেকে চুরির ঘটনা ঘটার পর নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু গতকাল রাত পর্যন্তও কোনো সুখবর ছিল না।

এদিকে গতকাল দোকান মালিক অমিত রায় আনন্দ কোতয়ালি থানায় এজাহারে মোট ৪৭ ভরি ১২ আনা সোনার গহনা ও নগদ আড়াই লাখ টাকা চুরির বর্ণনা দিয়েছেন। সব মিলিয়ে তার ২৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৫০ টাকার মালামাল চুরি হয়ে গেছে।

এদিকে প্রকাশ্যে থানার পাশের দোকানে এ রকম দুঃসাহসিক চুরির সংবাদ গত দুইদিন ছিল সাধারণ মানুষের মুখেমুখে। সকলের কাছে ছিল চুরির বিষয়টি বিস্ময়কর। কিভাবে এই রকম জনাকীর্ণ স্থান থেকে চুরি হলো তার রহস্য জানার চেষ্টা করে। অনেকে ঘটনাস্থলে ছুটে যাচ্ছেন। দুই দিনেও পুলিশ এ মামলায় কাউকে আটক করতে পারেনি। উদ্ধার হয়নি চুরি যাওয়া সোনা ও টাকা।
পুলিশ বলছে সিসি ক্যামেরা থেকে সংগৃহিত ভিডিও ফুটেজ নিয়ে চোর শনাক্ত করার কাজ চলছে। তবে সন্দেহভাজন হিসেবে প্রিয়াঙ্গন জুয়েলার্সের সামনের ফটোকপি ও স্টেশনারির দোকানদার প্রদীপ কুমার এখনও পুলিশি হেফাজতে আছে। তার কাছ থেকে চুরির রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

অমিত রায় আনন্দ কোতয়ালি থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেছেন, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে তিনি দুপুরের খাওয়ার জন্য বেজপাড়া শ্রীধর পুকুরপাড়স্থ ভাড়াবাড়িতে যান। দুপুর চারটার দিকে তিনি মোবাইল ফোনে জানতে পারেন তার দোকানের ক্লবসিবল গেট ও তালা ভেঙে সোনার গহনা চুরি হয়েছে। তিনি সাথে সাথে সেখানে গিয়ে অনেক লোক দেখতে পান। সোনা ব্যবসায়ীরাও সেখানে হাজির হন। দোকানের মালামাল এলোমেলো। আলমারি খোলা। ভেতরে ও শো-কেজে রাখা সোনার গহনা নেই। পরে দোকানে লাগানো সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ থেকে দেখা যায়; এক যুবক লাল রংএর গেঞ্জি পরা। মাথায় হ্যাট (টুপি) ও মুখে মাক্স পরা ছিলো। এর আগে দোকানের সামনে দুই যুবক একটি ত্রিপল ভাজ করার নাটক সাজিয়ে ত্রিপলের আড়ালে ওই যুবক দোকানের তালা ভেঙে দোকানে ঢোকে। পাশে ছাতা হাতে এবং রিকসা নিয়ে অপর দুই যুবক ছিল। সে দোকানে ঢুকে সোনার গহনা ও আড়াই লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে চারটার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে।

সাধারণ মানুষের ধারণা, চুরি হওয়ার আগে ওই এলাকায় গিয়ে চোরচক্র অনেক দিন ধরে রেকি (ধর্ণা) দিয়েছে। কারা কখন কোথায় যায়, কে আসে সে গুলো পর্যলোচনা করে। এছাড়া থানার পাশে চুড়িপট্টিতে ঢোকার মুখে অনেক হকার বসে মালামাল বিক্রি করে থাকে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেনাবেচা চলে। ফলে কে কখন কি ধান্দায় ঘুরছে তা অবলোকন করা কঠিন।
এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) সমীর কুমার সরকার জানিয়েছেন, পুলিশ এ চুরির রহস্য উন্মোচনের জন্য দিনরাত কাজ করছে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি ভালো সংবাদ আসবে। আর ওই এলাকার দোকানদারদের সাথে কথা বলে তাকে সতর্কতার সাথে ব্যবসা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। অপরিচিত অচেনা লোকজনের গতিবিধির দিকে বিশেষ নজরদারি করতে বলা হয়েছে।