পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে ভাতিজার জন্য ঘুষ দিতে গিয়ে চাচা ধরা

::ফরহাদ খান, নড়াইল::
ভাতিজাকে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য জার্সির মধ্যে লুকিয়ে ঘুষ দেয়ার চেষ্টাকালে আটক হয়েছেন চাচা নূরুল ইসলাম। ৭ লাখ টাকাসহ নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের হাতেই ধরা পড়েছেন নূরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সুপারের কাছে দেখা করতে এসে আটক হন নূরুল ইসলাম (৫৫)।

এদিকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে নূরুল ইসলামকে হাজির করা হয়। নূরুল ইসলাম নড়াইল সদরের তুলারামপুর ইউনিয়নের চাঁচড়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। নূরুল তার ভাতিজা দিপু হোসেনকে কনস্টেবল পদে চাকুরির জন্য পুলিশ সুপারকে ৭ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার চেষ্টা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এ সময় পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম পিপিএমসহ পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, নূরুল ইসলাম মাঝে-মধ্যে অফিসে এসে আমার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে সপ্তাহ খানেক আগে আমাকে অফিসে না পেয়ে নূরুল ইসলাম ফোনে জানান, স্যার আপনি ফুটবল প্রিয় হওয়ায় আপনার জন্য হলুদ রঙের জার্সি নিয়ে এসেছি।

নূরুল ইসলামের কথা শুনে তাকে বলি, আপনার জার্সি দেয়ার প্রয়োজন নেই। তবুও জার্সি নেয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন নূরুল। এক পর্যায়ে অফিসে জার্সি রেখে যেতে বলা হয়। পরে জার্সির ওই প্যাকেটটি পুলিশ সুপারের বাসভবনে পাঠিয়ে দেন অফিসের কর্মচারীরা।

এদিকে, এসআই নিয়োগের জন্য খুলনা রেঞ্জ অফিসে ব্যস্ততা থাকায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন গত সপ্তাহেও ওই জার্সির প্যাকেটটি খুলে দেখেননি বলে জানান। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে জার্সির প্যাকেটটি খোলেন পুলিশ সুপারের স্ত্রী। প্যাকেটটি খোলার পর পুলিশ সুপার ও তার স্ত্রী হতবাক হয়ে যান। দেখতে পান-ওই প্যাকেটের মধ্যে হলুদ রঙের জার্সি, একটি ডায়েরি, পুলিশ কনস্টবল নিয়োগের জন্য দিপু হোসেনর বয়োডাটা এবং টেপ দিয়ে মোড়ানো আরেকটি কাগজের প্যাকেটে রয়েছে ৭ লাখ টাকা। জার্সির প্যাকেটে এ অবস্থা দেখে-নূরুল ইসলামকে চিহ্নিত করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়। এছাড়া তার কাছ থেকে একটি ব্যাংক চেক উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, জার্সির প্যাকেটের মধ্যে আমার ভাইয়ের ব্যবসার টাকা ভুলে রেখেছি। তবে কনস্টবল নিয়োগের জন্য ভাতিজার জীবনবৃত্তান্ত প্যাকেটের মধ্যে কেন রেখেছেন-সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি এলোমেলো উত্তর দেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এদিকে আজ শনিবার থেকে নড়াইলে কনস্টেবল পদে নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এজন্য কোনো প্রকার টাকা বা ঘুষের প্রয়োজন নেই। দালালদের খপ্পর থেকে রক্ষা পেতে ইতোমধ্যে জেলায় মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।