যশোর হাতিয়ারহাট বাজার থেকে লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ

ফাইল ফটো

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের হাতিয়ারহাট বাজারের জমি থেকে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ৫টি মেহগুনি গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই এলাকার সুশান্ত দাস নামে এক ব্যক্তি নিজের জমি দাবি করে স্থানীয় ইকবাল মেম্বারের সহযোগিতায় গাছগুলো চুপিসারে কেটে নেয়ার অভিযোগ যাওয়া গেছে। পুলিশ গিয়েও ওই গাছের কোনো হদিস পায়নি। শুধু গাছের গোড়া পড়ে ছিল।

তবে স্থানীয়দের দাবি ওই গাছ হাতিয়ারহাট বাজার কমিটির। তারাই ওই গাছ রোপন করেছিলেন। বর্তমানে ওই জমি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। কিন্তু স্থানীয় মেম্বার, মতিয়ার খোকন, ছট্টু লতিফ সরদারসহ অন্যান্যের সহযোগিতায় জোর করে ওই বাজারের সম্পত্তি থেকে গাছ কেটে নিয়ে যায়।

তবে ইকবাল মেম্বার জানিয়েছেন, অভিযোগ সঠিক না। ওই জমির মালিক সুশান্ত দাস। মামলায় জয়লাভ করে জমির মালিকানা ফিরে পাওয়ায় গাছ কেটে নিয়েছে। ১৯২৭ ও ১৯৬২ সালের রেকর্ড তাদের নামে। ১৯৯০ সালে ওই জমি রেকর্ড হাতছাড়া হয়ে যায়। তাদের কাছে জমি ও মামলা সংক্রান্ত সকল কাগজপত্র রয়েছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, যশোরের অন্যতম প্রাচীন বাজার হাতিয়ারহাট। রামনগর ইউনিয়নের সিরাজসিঙ্গা গ্রামে ব্রিটিশ আমলে বাজারটি স্থাপন করা হয়। চাঁচড়ার রাজা দেবকান্ত রায় বাজারটি স্থাপন করেন। সেই থেকে ওই বাজারের ৩৯ শতক জমি খাস খতিয়ান হিসেবে আছে। বেশ কয়েক বছর আগে ওই গ্রামের সুশান্ত দাস নামে এক ব্যক্তি বাজারের ওই ৩৯ শতক জমি পৈত্রিক জমি বলে দাবি করে বসেন এবং আদালতে মামলা করেন। বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে একতরফা রায়ে ওই জমি নিজেদের করে নেন। এরপর ওই জমিতে রোপন করা গাছ লোপাটের ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। গত শুক্রবার সকালে স্থানীয় ইকবাল মেম্বার ও তার সহযোগীদের মদদে বাজারের ৫টি গাছ বিক্রি করে দেন। গাছ ক্রেতা সেগুলো কেটে নিয়ে যান।

সংবাদ পেয়ে বাজার কমিটির লোকজন পুলিশে সংবাদ দিলে কোতয়ালি থানার এএসআই আজাহারুল ইসলাম হাতিয়ারহাটে যান। ততক্ষণে গাছগুলো কেটে সাবাড় করা হয়। তিনি গাছের মালিক দাবিদার সুশান্ত এবং হাটের লোকজনের সথে কথা বলেন এবং উভয় পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার জন্য বলেন। একই সাথে দুই পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে কোতয়ালি থানায় বিকেলে আসতে বলে ফিরে আসেন। কিন্তু কোনো পক্ষ থানায় যায়নি।

স্থানীয়রা বলেছেন, তারা নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় মেম্বার দ্বারা। অনেক হুমকি ধামকি আসে তাদের ওপর। ফলে প্রাণ ভয়ে কিছু বলতে পারেন না। সুশান্ত একতরফা রায় নিয়ে জমির মালিকানা দাবি করলে সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। মামলা নম্বর ১৭৫৪/১(২)। কিন্তু রিটের শুনানি শেষ হওয়ার আগেই সুশান্ত গাছগুলো কেটে নিয়ে যায়।

হাতিয়ারহাট বাজার কমিটির সভাপতি রেজাউল ইসলাম জানিয়েছেন, বাজারের জমি ৩৯ শতক খাস। ওই খাস জামিতে বাজার রয়েছে। কিন্তু সুশান্ত দাস ও তার পরিবার ওই জমি নিজেদের দাবি করে। বিষয়টি নিয়ে আদলতে মামলা চলমান। কিন্তু নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই গাছ কেটে নেয়া হয়েছে। প্রাচীন এ বাজারে অনেক সমস্যা বিদ্যমান। সেদিকে কারোর কোনো নজর নেই। তিনি বাজারকে রক্ষার দাবি করেন।

এ বিষয়ে কথা হয় কোতয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) সমীর কুমার সরকারের সাথে। তিনি জানিয়েছেন, হাতিয়ারহাট বাজারের জমি নিয়ে বিরোধের কথা শুনেছি। সেখানে থেকে গাছ কেটে নেয়ার সংবাদ পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। দুই পক্ষকে থানায় আসার কথা বলে আসে পুলিশ। কিন্তু কোনো পক্ষ থানায় আসেনি।