সুন্দরবনের সুরক্ষায় সরকারের বরাদ্দ সাড়ে চারশ’ কোটি টাকা

::নকিব সিরাজুল হক, বাগেরহাট ::
বিশে^র বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের সুরক্ষায় সরকার এবার ব্যয় করবে প্রায় সাড়ে চারশ’ কোটি টাকা। সরকারের এই পদক্ষেপ সুন্দরবনের জীববৈচিত্রকে আরো বেশি সুরক্ষিত করবে এমন আশা বন বিভাগের।

সুন্দরবন সুরক্ষা নামে ৫ বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের মধ্যে থাকছে সংরক্ষিত এই ম্যানগ্রোভ বনের বন্যপ্রানী-গাছপালাসহ প্রাণপ্রকৃতি ও বনের পরিবেশ-প্রতিবেশের কৌশলগত পরিবর্তন নিয়ে নিরন্তর গবেষণার পাশাপশি সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল সাড়ে ৩ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকার বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উন্নয়ন-আধুনিকায়নসহ প্রতিবেশ পর্যটন (ইকো ট্যুরিজম), সার্বক্ষনিক বন পাহারায় অত্যাধুনিক জলযান সংগ্রহ, ঝুঁকির মধ্যে থাকা ২৮টি বন অফিস আধুনিকায়ন ও ব্যবস্থাপনা।

চলতি বছর থেকে ৪ শ’ ৫৯ কোটি ৯৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকার এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে জানিয়েছেন, বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান।

বন বিভাগ বলছে, বিগত কয়েক বছর ধরে সুন্দরবন জুড়ে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ‘স্মার্ট প্রোট্রোলি’ং এর মাধ্যমে বন পাহারা দেয়ায় এবছর সর্বশেষ বাঘ জরিপে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ১০৬টি থেকে বেড়ে দাড়িয়েছে ১১৪টিতে, খালে বিষ দেয়া রোধে গত ১১ মার্চ থেকে সুন্দরবন অভ্যন্তরে ২৫ ফুট বা তার চেয়ে ছোট খালগুলোতে সারা বছর মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ও ২৫ ফুটের উপরের সব খালগুলোতে মাছের প্রজনন মৌসুম জুলাই ও আগস্ট মাসে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। বন অফিস বাড়ানো পাশাপাশি মাছের প্রজনন ও সংরক্ষনের জন্য ১৮টি বড় খাল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির ইরাবতীসহ ৬ প্রজাতির ডলফিনের জন্য ৩টি নদীর ১০.৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৩টি অভয়ারণ্য গড়ে তোলা হয়েছে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে সুন্দরবন সন্নিহিত এলাকায় আর কোন শিল্প-কারখানা স্থাপনের অনুমতি দিচ্ছেনা সরকার। সুন্দরবন সুরক্ষায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ভাবে কাজ করছে। সুন্দরবনে মিষ্টি পানির প্রবাহ বাড়াতে গড়াই নদী খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সুন্দরবন বিভাগ বলছে, একের পর এক বাস্তবমুখি পদক্ষেপ গ্রহন করায় ম্যানগ্রোভ এই বনের প্রাণপ্রকৃতি এখন আগের থেকে অনেক বেশি সুরক্ষিত রয়েছে।