কাগজ কালির দাম না বড়লেও বাড়ছে উচ্চ মাধ্যমিকের বইয়ের দাম

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক :

 

ফাইল ছবি

এক বছরের ব্যবধানে উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্য বইয়ের দাম আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সরকারের তত্ত্বাবধানে থাকা তিনটি বইয়ের (বাংলা, বাংলা সহপাঠ ও ইংরেজি) দাম গতবছর একদফা বাড়ানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় অভিভাবকদের পকেট থেকে অন্তত সাড়ে তিন কোটি টাকা কাটা পড়ে। গত বছর প্রকাশকরা দাম বাড়ানোর আবেদন করেছিল। এবার আবেদন না করার পরও বাড়ানো হয়েছে। আগামীকাল সোমবার এনসিটিবি ভবনে শিক্ষামন্ত্রী এ বই উদ্বোধন করবেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এবার বাংলা বইয়ের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪২ টাকা। গতবছর এর দাম ছিল ১৩০ টাকা। বাংলা সহপাঠের (উপন্যাস ও নাটক) দাম ৭২ টাকা করা হয়েছে যার দাম গত বছর ছিল ৬৩ টাকা। এর আগে ২০১৭ সালে বাংলা বইয়ের দাম ছিল ১১৩ টাকা। কিন্তু গতবছর করা হয়েছিল ১৩০ টাকা। সহপাঠের দাম ৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে গতবছর ৬৩ এবং ইংরেজির দাম ৮১ টাকা থেকে ৯৩ টাকা করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বইয়ের দাম বাড়ানোর কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। এরমধ্যে কাগজ, কালিসহ মুদ্রণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি। সরকার উচ্চ মাধ্যমিকের বই থেকে ১১ শতাংশ হারে রয়্যালটি নেয়। রয়্যালটির হার বাড়ানো হলে দাম বাড়তে পারে। কিন্তু এ বছর কাগজের দাম গতবছরের চেয়েও কম। বাড়েনি কালির দাম। এমনকি একই মানের কাগজে এনসিটিবি যে বিনা মূল্যের বই ছাপছে তাও খুব কম দামে ছাপানোর আদেশ দিয়েছে। ফলে কোনো কারণেই বইয়ের দাম বাড়তে পারে না। মূলত কাজ পাওয়া প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে লাভবান করতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি।

মুদ্রণ শিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি তোফায়েল খান বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকের বইয়ের দাম বাড়ানোর কোনো কারণই নেই। কেননা, ৬০ জিএসএমের কাগজের দাম বর্তমানে বাজারে গত বছরের চেয়ে টনে ২০ হাজার টাকা কম। অপরদিকে এবার ফর্মা প্রতি ১ টাকা ৪৫ পয়সা দরে এ বই ছাপানো হচ্ছে। এ দরও গতবছরের চেয়ে কম। গতবছর এ দর গড়ে ছিল ১ টাকা ৮৮ পয়সা। সুতরাং দর যেখানে কমে, সেখানে এইচএসসির বইয়ের দাম বাড়ানোর কারণ দেখছি না।

জানা গেছে, এবার এনসিটিবি বাংলা, বাংলা সহপঠ ও ইংরেজির প্রতিটি বই ৯ লাখ ৬০ হাজার করে মুদ্রণ ও বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। সেই হিসাবে দুই বইয়ের দাম বাড়ানোর কারণে অভিভাবকদের কাছ থেকে বাড়তি আদায় করা হবে ২ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রশ্ন উঠেছে, এবার এই টাকার ভাগ পাবে কে বা কারা। অনেকেই এনসিটিবির শীর্ষ ব্যক্তিদের সন্দেহের চোখে দেখছেন।

নানা সমালোচনার পরও এনসিটিবির শীর্ষ দুই ব্যক্তি জোর করে একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানকে বইয়ের কাজ দিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, বই যেন নকল না হয় সে জন্য অতীতের চেয়ে এবার বেশি তৎপর ওই ব্যক্তিরা। নকল ঠেকাতে একই বই পাঠ্য হলেও বইয়ের প্রচ্ছদ ও পাঠ ওলোটপালট করে নতুন রূপ দেয়ার চেষ্টা হয়েছে। উদ্দেশ্য বই যাতে নকল না হয়। কেননা, বই নকল না হলে প্রকাশকের লাভ বেশি হবে। এভাবে একজন ব্যক্তিকে লাভবান করতে নানামুখি তৎপরতা চালানোর কারণে শীর্ষ ব্যক্তিদের সম্পর্কে নানা সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা জাগো নিউজকে বলেন, বিভিন্ন পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে একাদশের তিনটি বইয়ের দাম বাড়ানো হয়েছে। এটি কেবল আমার সিদ্ধান্ত নয়, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।