ভারতের বিপক্ষে আরেকবার মাশরাফি?

স্পন্দন স্পোর্টস ডেস্ক :  উড়ছে বীরেন্দর শেবাগের বেলস। আঙুল উঁচিয়ে ছুটছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশ ক্রিকেটের হিরণ্ময় ছবি। একবার নয়, দুবার। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের স্মরণীয় দুটি জয়ের মূল কারিগর ছিলেন মাশরাফি। অংশ হয়ে আছেন ভারতের বিপক্ষে ৫ ওয়ানডে জয়ের সবকটির। তাদের বিপক্ষে দেশের সফলতম ওয়ানডে বোলারও তিনি। বোলার মাশরাফি, অধিনায়ক মাশরাফি, পারফরমার মাশরাফির আরেকটি সুযোগ, সেই প্রতিপক্ষের সঙ্গে আরেকটি স্মরণীয় দিনের।

যদিও বাস্তবতা বদলে গেছে অনেক। এক সময়ের দারুণ গতিময় ও তুমুল আগ্রাসী বোলারের সামর্থ্য অনেকটা কেড়ে নিয়েছে সময় ও কঠিন বাস্তবতা। তবে লড়াইয়ের তাড়না, জয়ের তৃষ্ণা বেড়েছে সময়ের সঙ্গে। বেড়েছে অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বও। ভারতকে সামনে পেয়ে আরও একবার বাজি ধরাই যায় পুরোনো যোদ্ধাকে নিয়ে।

মঙ্গলবার বিশ্বকাপের মঞ্চে বার্মিংহামে প্রতিপক্ষ ভারত। হারলেই শেষ বাংলাদেশের সেমি-ফাইনাল স্বপ্ন, জিতলে টিকে থাকবে আশা। মহারণের আগে মাশরাফিকে অনুপ্রাণিত করতেই পারে সুখস্মৃতির সমৃদ্ধ ভাণ্ডার।

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর। বাংলাদেশের শততম ওয়ানডে। ভারতের বিপক্ষে মাশরাফির প্রথম। ৯ নম্বরে নেমে ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলকে এনে দিলেন লড়ার মতো রান। বল হাতে প্রথম ওভারেই শেবাগকে বোল্ড করে দলকে আরও এগিয়ে নিলেন লড়াইয়ে। পরে নিয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনির উইকেট। দলের দারুণ জয়ে ম্যাচ সেরা মাশরাফি।

২০০৭ বিশ্বকাপে সেই মাশরাফিই ম্যান অব দা ম্যাচ বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় জয়ে। এবার ম্যাচের তৃতীয় ওভারে বোল্ড শেবাগ। ফেরালেন তিনে নামা রবিন উথাপ্পাকে। চার উইকেট নিয়ে গড়ে দিলেন দলের জয়ের ভিত।

বাংলাদেশ আবার ভারতকে হারাতে পারল ২০১২ এশিয়া কাপে। এবার নতুন বলে উইকেট পাননি। তবে শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করা শচিন টেন্ডুলকার ও দারুণ খেলতে থাকা সুরেশ রায়নাকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে থমকে দিলেন রানের গতি।

২০১৫ সালে দেশের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের দুই জয়ে অবশ্য খুব ভালো ছিল না বোলিং পারফরম্যান্স। তবে তিনিই ছিলেন অধিনায়ক। স্রোতের বিপরীতে সাঁতরে, সেই সময়ের কোচ ও ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে লড়াই করে খেলিয়েছিলেন চার পেসার। চতুর্থ পেসার হিসেবে আসা মুস্তাফিজুর রহমান প্রথম দুই ওয়ানডেতে ১১ উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দিয়েছিলেন ভারতকে।

সব মিলিয়ে ভারতের বিপক্ষে তার শিকার ২৩ উইকেট। ওয়ানডেতে তাদের বিপক্ষে ২০ উইকেট নেই বাংলাদেশের আর কারও।

সুখ স্মৃতির ভাণ্ডারে মঙ্গলবার যোগ হতে পারে আরও কিছু। কিংবা হতাশার অধ্যায়েও যোগ হতে পারে নতুন কিছু। তবে লড়াই যখন বাঁচা-মরার, প্রতিপক্ষ যখন ভারত, আগের স্মৃতিগুলো হতে পারে বড় সঞ্জীবনী সুধা।

হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে এবারের বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি বোলিংয়ে। ভারতের বিপক্ষে উল্লেখযোগ্য কোনো অবদানে পেছনে ফেলার সুযোগ আছে সেই আক্ষেপও। মাশরাফি অবশ্য আবেগগুলো পাশে রেখে বাস্তবতা দিয়েই বিচার করতে চাইলেন।

“ইমোশনাল নই, এটি বাস্তবতা। তবে তখন আর এখনের সময় অনেক বদলে গেছে। কালকে পুরোপুরি নতুন ম্যাচ। সবকিছু প্রথম থেকে নতুনভাবে হয়। নির্দিষ্ট দিনে ভালো করা ও সেটাকে ধরে রাখা জরুরি।”

তবে স্মরণীয় কিছুর জন্য কেবল নিজের জ্বলে ওঠাকেই জরুরি মনে করছেন না অধিনায়ক। দলের জয়ই হবে তার জন্য সেরা প্রাপ্তি।

“অবশ্যই ভালো স্মৃতি আছে ভারতের বিপক্ষে। আশা করি এবারও ভালো হবে। তবে আমার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলের ভালো করা। আমি ভালো না করলেও যেন অন্য কেউ ভালো করে। দল ভালো করে।”

“২০০৪ বা ২০০৭ সালের ম্যাচেও অধিনায়ক সুমন ভাই (হাবিবুল বাশার) শুধু আমাকে নিয়ে পরিকল্পনা করে নামেনি। বোলিংয়ে আরও অনেকেই ছিল। সৌভাগ্যবশত আমি ক্লিক করেছি। এবার আমি না পারলে অন্য কেউ ক্লিক করুক। সাকিব কেন নয় আবার? তো যেই ভালো করুক, দলের জয়টাই আসল।”