ডা.সাদিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

বিল্লাল হোসেন:
যশোর শহরের কিংস হসপিটালে রোগীর পাইলসের পরিবর্তে জরায়ু অস্ত্রোপচারের খবরে স্বাস্থ্য বিভাগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন বিষয়টি আমলে নিয়ে ‘ভুয়া’ ডিগ্রিধারী ডা. সাদিয়া শাহীনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির সদস্যরা কার্যক্রম শুরু করেছেন। এদিকে, অপকর্ম ফাঁস হওয়ায় সাদিয়া শাহীন বেসামাল হয়ে পড়েছেন। তার পক্ষে কিংস হসপিটাল কর্তৃপক্ষ রোগীর লোকজনকে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন,ওই চিকিৎসকের ভুলে ছায়রা বেগমের অঙ্গহানি হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসকের সাথে আপসে যাবেন না তারা।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, ভুল অস্ত্রোপচারের ঘটনায় দৈনিক স্পন্দনসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ডা. সাদিয়া শাহীনের বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান হলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হারুন অর রশিদ। অন্য দুই জন হলেন যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমদাদুল হক ও গাইনী কনসালটেন্ট ডা. রেবেকা সুলতানা। আগামী ৭দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে সাদিয়া শাহিন গাইনী চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। কিভাবে তিনি পাইলসের রোগীর অস্ত্রোপচারের দায়িত্ব নিলেন তা নিয়ে স্বয়ং চিকিৎসকদের মধ্যে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। এ কাজের জন্য অনেক চিকিৎসক তাকে তিরস্কার করেন। তদন্ত কমিটির প্রধান ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. হারুন অর রশিদ জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে তিনি ঘটনার তদন্তে কিংস হসপিটালে যান। এ সময় তিনি রোগী ছায়রা বেগম ও তার স্বজনদের সাথে কথা বলেছেন। তিনি আরো জানান, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে গুরুত্বের সাথে তদন্ত করবেন। প্রসঙ্গত, ১ জুলাই দুপুরে যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের স্ত্রী ছায়রা বেগম (৪৫) পাইলস অস্ত্রোপচারের জন্য কিংস হসপিটালে ভর্তি হন। বিকেলে ডা. সাদিয়া শাহীন ওই রোগীর পাইলসের পরিবর্তে জরায়ু অস্ত্রোপচার করেন। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসক ও কিংস হসপিটাল কর্তৃপক্ষের সাথে হট্টগোলে জড়িয়ে পড়েন।