নৌকায় ভোট করায় বাঁকড়ায় যুবলীগ সভাপতিকে মারপিট, দোকান লুট

প্রতীকী ছবি

::রকিব উদ্দীন::
গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট করা এবং একটি মামলার সাক্ষী দেয়ায় ঝিকরগাছার বাঁকড়ায় ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতিকে মারপিট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল ও টাকা লুটপাট করেছে প্রতিপক্ষ। বাঁকড়া পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে একদল সন্ত্রাসী নিয়ে শিমুলিয়া বাজারে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী জুয়েল হানা দিয়ে তাকে বের করে প্রকাশ্য মারধর করে রক্তাক্ত জখম ও দোকানে লুটপাট করে। ওই সময় বাজারের অন্যরা ভয়ে দোকান বন্ধ করে চলে যায়।

বিষয়টি এলাকাবাসী গোপনে পুলিশকে মোবাইলে জানালে বাঁকড়া পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা মান্নানকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। পুলিশ চলে আসার পরপরই ঐ সন্ত্রাসীরা আবার মহড়া দিয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে।

ভুক্তভোগী বাঁকড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান জানান, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে ভোট করেছিলাম। সে সময় শিমুলিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে জুয়েল আমাকে আনারস মার্কায় ভোট করার কথা বলেছিল। আমি তার কথা না শোনায় সে অনেকদিন ধরে মারপিট করার হুমকি দিয়ে আসছিল।

‌‌‘এছাড়া ২০১৬ সালে ছাত্রনেতা রাফসান বাবুর উপর সন্ত্রাসী হামলার মামলায় আমি সাক্ষী হয়েছিলাম। সেই মামলার প্রধান আসামি ছিল জুয়েল। মঙ্গলবার সেই মামলায় আদালত তাকে খালাস করে দিয়েছে। সন্ধ্যায় সে বাজারের দোকাদারদের মিষ্টি খাওয়ায়। আমার দোকানে এসে জুয়েলসহ অপু, সবুজ ও শাহ-আলম আমাকে মিষ্টি ছুড়ে মারে। আমি এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাকে মারপিট করে দোকানের মালামাল ও নগদ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়।’

এ ব্যাপারে বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এখনও কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়রা আব্দুল মান্নানকে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি করে। বাঁকড়া পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে মামলা না করার জন্য হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী জানান।