বাঁকড়ায় যুবলীগ নেতাকে মারধর: অভিযোগ না করতে সন্ত্রাসীদের হুমকি

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
যশােরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়ায় যুবলীগ নেতা আব্দুল মান্নানকে মারধরের ঘটনায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির ভয়ে থানায় অভিযোগ করছেন না বলে জানান তিনি। মান্নান বাঁকড়ার ৬নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি।

ঝিকরগাছায় ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট করায় নিজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে জনসম্মুখে মারপিটের শিকার হন মান্নান। এ সময় তার দোকানে লুটপাট করা হয়। শিমুলিয়া বাজারে প্রকাশ্যে ঘটনাটি ঘটলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা সন্ত্রাসীদের এ কর্মকাণ্ডের স্বাক্ষী দিতেও ভয় পাচ্ছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার বাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ মান্নানকে দেখতে যান। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, নব্য আওয়ামী লীগাররা ক্ষমতার ছত্রছায়ায় এসে একের পর এক আওয়ামী লীগ নেতাদের লাঞ্চিত ও মারধর করছে। দলের ছত্রছায়ায় থাকা এক সন্ত্রাসী দেখতে যাওয়া প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সরাসরি হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফিরে আসার সাথে সাথে সন্ত্রাসীদের মহড়া দিয়েছে বলে এলাকাবাসীসূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে একদল সন্ত্রাসী নিয়ে শিমুলিয়া বাজারে ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী জুয়েল হানা দিয়ে তাকে বের করে প্রকাশ্য মারধর করে রক্তাক্ত জখম ও দোকানে লুটপাট করে। ওই সময় বাজারের অন্যরা ভয়ে দোকান বন্ধ করে চলে যায়।

বিষয়টি এলাকাবাসী গোপনে পুলিশকে মোবাইলে জানালে বাঁকড়া পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা মান্নানকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যা

আরো পড়ুন: নৌকায় ভোট করায় বাঁকড়ায় যুবলীগ সভাপতিকে মারপিট, দোকান লুট

ভুক্তভোগী আব্দুল মান্নানের অভিযোগ, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে ভোট করেছিলাম। সে সময় শিমুলিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে জুয়েল আমাকে আনারস মার্কায় ভোট করার কথা বলেছিল। আমি তার কথা না শোনায় সে অনেকদিন ধরে মারপিট করার হুমকি দিয়ে আসছিল।

‌‌‘এছাড়া ২০১৬ সালে ছাত্রনেতা রাফসান বাবুর উপর সন্ত্রাসী হামলার মামলায় আমি সাক্ষী হয়েছিলাম। সেই মামলার প্রধান আসামি ছিল জুয়েল। মঙ্গলবার সেই মামলায় আদালত তাকে খালাস করে দিয়েছে। সন্ধ্যায় সে বাজারের দোকাদারদের মিষ্টি খাওয়ায়। আমার দোকানে এসে জুয়েলসহ অপু, সবুজ ও শাহ-আলম আমাকে মিষ্টি ছুড়ে মারে। আমি এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাকে মারপিট করে দোকানের মালামাল ও নগদ ১৫ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়।’

পরে স্থানীয়রা আব্দুল মান্নানকে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে বাঁকড়া সদর থেকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা হামলার শিকার যুবলীগ নেতা আব্দুল মান্নানের বাসায় ও শিমুলিয়া বাজারে যান। বাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সস্পাদক মাস্টার হেলালউদ্দীন খানের নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সস্পাদক আবুল কাশেম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আজগর আলী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সস্পাদক মাস্টার রফিকুল ইসলাম বাবলু, ইউপি সদস্য আব্দুস সোবাহান, রমজান আলী, আজগর আলী, যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম, মাস্টার রাকিবুল ইসলাম মিন্টু, জালাল গাজী, করির হোসেন, সাদ্দাম হোসেন, পলাশ হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা সামছুর আরেফিন সবুজ, মাহবুবুর রহমান, বাবলুর রহমানসহ শতাধিক নেতাকর্মী।

নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ সমস্ত সন্ত্রাসীরা একটি গোষ্টির ছত্রছায়ায় এসে ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একের পর এক লাঞ্চিত করছে। চাঁদাবাজি, রাস্তার গাছ বিক্রয়, বাওড় দখল, মাছের ঘের মালিকদের নিকট থেকে চাঁদা আদায়সহ নানাবিধ কর্মকাণ্ড করে চলেছে অথচ প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে।

নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, আব্দুল মান্নানকে দেখতে যাওয়া যুবলীগ নেতা কবীর হোসেনকে হুমকি দেয়া হয়েছে। আলীপুর গ্রামের বাবুল খা ও লিটন হোসেনের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী দল মাটশিয়া বাজারে গিয়ে হুমকি দেয় বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছেন। এ ঘটনায় বাঁকড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সস্পাদক মাস্টার হেলালউদ্দীন খানকেও উপর মহল থেকে ফোন কল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাঁকড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র জানায়, অভিযোগের বিষয়ে সন্ত্রাসীদের ভয়ে কেউ স্বাক্ষী দিতে রাজি হচ্ছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিমুলিয়া বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, অভিযোগ করলেও কোনো কাজ হয় না। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করে। ইতিমধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুফ আলী, ব্যবসায়ী নূর ইসলাম ও যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মান্নানকে সন্ত্রাসীদের হাতে মারপিট করেও তারা স্বদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে।