তাবলিগের দু’গ্রুপের দ্বন্দ্বে ২২ দিন ধরে মাদরাসায় তালা

এরই মধ্যে শনিবার সমস্যা সমাধানে মার্কাজের দুই গ্রুপকে বাদ দিয়ে এলাকাবাসীর মাধ্যমে মাদরাসার কার্যক্রম পরিচালনার দাবি উঠেছে। গতকাল দুপুরে প্রেস ক্লাব যশোর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় উপশহর এলাকাবাসী। অপরদিকে, তাবলিগের অপর একটি পক্ষ আজ দুপুরে প্রেস ক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

শনিবার মার্কাজ মাদরাসা নিয়ে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলনে পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাজী ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, মার্কাজ মাদরাসা নিয়ে তাবলিগের মাওলানা জোবায়ের গ্রুপ ও মাওলানা সা’দ গ্রুপের মধ্যে গোলযোগ রয়েছে। এর মধ্যে গত ১৪ জুন মাদরাসায় ছাত্র ভর্তিকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে মার্কাজ মসজিদের ভেতরে হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে মাওলানা সা’দ গ্রুপের নেতৃত্বে থাকা রাজু, তাজু, উজির, ইয়ামিন ও মুসল্লি নয়, এমন একদল লোক মাদরাসার সব গেটে তালা লাগিয়ে দেয়। এ সময় মাদ্রাসার ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ৯২ জন শিশু শিক্ষার্থীকে টেনে হেঁচড়ে বের করে দেয় তারা। সেই সঙ্গে মাদরাসায় অবস্থানরত শিক্ষক ও শুরা সদস্যদের গায়ে হাত দেয়া হয়। তাদের পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয়। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।

এই ঘটনার পর এলাকাবাসী সিদ্ধান্ত নেয়, যশোরের ঐতিহ্যবাহী এ মাদরাসাটির শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দায়িত্ব নিয়ে পরিচালনা করবে। সেই লক্ষ্যে আমার একটি চিঠি আকারে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ওসি, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, প্রেস ক্লাব, জেলা ইমাম পরিষদ, ফতোয়া বোর্ড, জেলা কওমী ওলামা পরিষদ, তাবলীগ জামায়াতের মাওলানা জোবায়ের ও মাওলানা সা’দ গ্রুপরে সঙ্গে আলাদা সভা করেছি। শুধুমাত্র মাওলানা সাদ গ্রুপ ছাড়া সবাই আমাদের সিদ্ধান্তে একমত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর এলাকাবাসী স্বপ্রণোদিত হয়ে মাদরাসার তালা খুলে দেয়। ওইদিন সন্ধ্যায় কোতয়ালি থানার ওসি আমাদের থানায় আমন্ত্রণ জানান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার। আলোচনার এক পর্যায়ে তারা মাদরাসা পুনরায় বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। আমরা তাদের জানাই, মাদরাসা খোলা রেখেই আলোচনায় বসতে চাই। শনিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাদরাসায় আবার তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাদরাসায় থাকা এলাকাবাসী, ইমাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও উপস্থিত মুসল্লিদের মসজিদ ও মাদরাসা খালি করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানানো হয়, তাবলিগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে মাদরাসার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এ জন্য এলাকাবাসীর নেতৃত্বে মাদরাসার কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে।

এ ব্যাপারে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, তাবলিগ-জামায়াতের কেন্দ্রীয় বিরোধের অংশ হিসেবে যশোর মার্কাজ মসজিদ ও মাদরাসা পরিচালনার সূরা সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। বিরোধ মেটানোর জন্যে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রোববার সার্কিট হাউজে দুই পক্ষেকে নিয়ে আলোচনায় বসা হবে। পুলিশ সুপার মঈনুল হকও ওই আলোচনায় উপস্থিত থাকবেন।