সেমির যুদ্ধে বিকেলে ভারতের মুখোমুখি নিউজিল্যান্ড

::ক্রীড়া প্রতিবেদক::
চার দল, এক ট্রফি। সোনালী রংয়ের ট্রফির জন্য লড়াই শুরু করেছিল দশটি দেশ। এখন পর্যন্ত শিরোপার দৌঁড়ে টিকে আছে কেবল চারটি দল। আসরজুড়ে আলোচনা সমালোচনা উন্মাদনা-উত্তেজনা সবই ছিল। কিন্তু অনেকটা প্রত্যাশিত ভাবেই সেরা চারটি দল শেষ চারে ওঠে এসেছে। সাত সপ্তাহের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর আজ থেকে শুরু হচ্ছে শেষ চারের দ্বৈরথ। ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে আসরের প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি নিউজিল্যান্ড।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই এবারের আসরের শিরোপার অন্যতম দাবিদার ভাবা হচ্ছিলো দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে। গ্রুপ পর্বে দাপটের সঙ্গে খেলে সে ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে কোহলির টিম ইন্ডিয়া বাহিনী। দলের দু’জনের চোট সত্ত্বেও দুর্দান্ত খেলে সবার ওপরে থেকে চলতি বিশ্বকাপের লীগ পর্যায় শেষ করেছে তারা। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলেও বাকি আটটার সাতটায় জিতেছে তারা। পাঁচটা সেঞ্চুরি করেছেন রোহিত শর্মা, আর গত দুটো ইনিংসে ৭৭ আর ১১১ করে ফর্মে ফিরেছেন তার ওপেনিং সঙ্গী কেএল রাহুল। জসপ্রীত বুমরাহর নেতৃত্বে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন বোলাররাও।

তবে আজকের ম্যাচে বোলারদের কে কে খেলবে তা নিয়ে হয়তো এখনও দোলাচলে আছে ভারতীয় শিবির।
অন্যদিকে, হার-জিত মিলিয়ে মোটামুটি ভালই খেলেছে গতবারের রানার্স-আপ নিউজিল্যান্ড। আক্রমণাত্মক বোলিং আর অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ব্যাটিংয়ের সুবাদে প্রথম ছয়টা ম্যাচের পাঁচটাই জেতে তারা। ভারতের সঙ্গে অন্য ম্যাচে বৃষ্টিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয় দু’দল। পরের তিনটি ম্যাচের সবকয়টাতেই কিন্তু হেরেছে নিউজিল্যান্ড। তবে নেট রান রেট ভাল থাকার সুবাদে পাকিস্তানকে টপকে সেমিফাইনালে ওঠে আসে তারা। প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে ভাল খেলার পর থেকে টুর্নামেন্টে রান পাননি ওপেনার মার্টিন গাপটিল। ইনিংস ভালভাবে শুরু করার দায়িত্ব কিন্তু এবার তাকেই নিতে হবে।

দুইদলের সাম্প্রতিক ফর্ম দেখলে ভারত অনেক এগিয়ে। কাগজে কলমে তারাই বেশি শক্তিশালী। কিন্তু উইলিয়ামসন শুধু যে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রান পান তাই নয়, অধিনায়ক হিসাবেও তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ। দলকে সেমিফাইনালে টেনে তুলেছেন বলতে গেলে এক উইলিয়ামসনই। তবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালিস্ট হতে চাইলে এ ম্যাচে একক পারফরমেন্সের চেয়ে দলীয় নৈপুণ্যই বেশি জরুরি। কারণ প্রতিপক্ষটা যে শক্তিশালী ভারত। ভারত বাধা টপকাতে সেরাটা উজাড় করে দেয়ার বিকল্প নেই উইলিয়ামসনদের।

এ ছাড়া সেমিফাইনালের লড়াইয়ে নামার আগেই শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে নিজেদের ‘আন্ডারডগ’ মানছে নিউজিল্যান্ডও। বিশ্বমঞ্চে টানা দ্বিতীয় ফাইনাল খেলতে নিজেদের সেরার কাছাকাছি পারফর্ম করতে হবে বলে মনে করেন কিউই কোচ গ্যারি স্টোড। কোচ আরও বলেন, আমরা প্রায়ই আন্ডারডগ থাকি। তাই আমি মনে করি, এই অবস্থায় থাকতে আমরা পছন্দ করি। এটা নকআউট পর্ব। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের বাইশগজের লড়াইয়ে দলের পারফরম্যান্সের উপর পুরোটা নির্ভরশীল। তুলনামূলক ভালো যারা খেলবে তারাই ফাইনালে যাবে। অন্যদিকে পেসার লুকি ফার্গুসনও মনে করেন, নির্দিষ্ট দিনে যারা ভালো খেলবে ফাইনালে পৌঁছাবে তারাই।

আসরজুড়ে ভারতের সফলতার পেছনে কোন ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ নয় বরঞ্চ দলীয় নৈপুণ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্যাটিংয়ে যেমন রোহিত, রাহুল, কোহলিরা ছড়ি ঘুরিয়েছেন, তেমনি বোলিংয়েও বুমরাহ, শামি আর কুলদীপরা তছনছ করে দিয়েছেন বিপক্ষ দলের ব্যাটিং লাইন-আপ। তাই বলা যায়, গ্রুপ পর্বের মতো আজও তাদের সেরাটা দিতে পারলে যেকোন প্রতিপক্ষের জন্যই জেতা মুশকিল হবে।

রোহিত বুমরাহদের সঙ্গে এ ম্যাচে ভারতের ‘তুরুপের তাস’ হতে পারেন হার্দিক পা-িয়াও। নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই দেখিয়ে দিয়েছেন তার সক্ষমতা। প্রতিম্যাচেই ব্যাট হাতে যেমন ঝড় তোলেন, তেমনি বল হাতেও কার্যকর ভূমিকায় দেখা যায় তাকে।

এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ম্যানচেস্টারে মেঘ থাকতে পারে। মাঝেমধ্যে হালকা বৃষ্টিও হতে পারে। এই মাঠে গত পাঁচটা ম্যাচেই যারা আগে ব্যাট করেছে তারাই জিতেছে। তার ওপর আছে সেমিফাইনালের চাপ। টসে যারা জিতবে, তারাই ব্যাটিং নিতে চাইবে।