এসব কিসের ডিগ্রি, চিকিৎসক সেজে এরা কারা?

::বিল্লাল হোসেন::
রোগীদের আকৃষ্ট করতে ও নিজেরা ফায়দা লুটতে যশোরের কিছু চিকিৎসক নিয়মবহির্ভূত ডিগ্রি ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাইনবোর্ড, ভিজিটিং কার্ড ও ব্যবস্থাপত্রে নামের পরে অবৈধ ডিগ্রির নাম লিখে বড় মাপের চিকিৎসক হিসেবে জানান দিচ্ছেন। অথচ তা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) স্বীকৃত কোনো ডিগ্রি না। মূলত ধান্দাবাজির উদ্দেশ্যেই তারা এ অনৈতিকতায় মেতেছেন।

যশোরের সিভিল সার্জন বলেছেন, অবৈধ ডিগ্রি ব্যবহারকারীদের তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে ঝুলানো সাইনবোর্ডে এ ধরনের কিছু চিকিৎকের সন্ধান মিলেছে।

দেখা গেছে ডা. কানিজ ফাতিমা এফসিপিএস (পার্ট-১), ডা.নুর-এ-খুদা এফসিপিএস মেডিসিন (শেষ পর্ব), ডা. সাদিয়া শাহীন এফসিপিএস (পার্ট-২) ডা. খালেদ শামস মোহাম্মদ শাহেদ জামীল এফসিপিএস মেডিসিন (শেষ পর্ব) ডা.এসএম আবু সাঈদ এফসিপিএস মেডিসিন (শেষ পর্ব) ডা.ইকবাল হোসেন এফসিপিএস মেডিসিন (শেষ পর্ব) লেখা। বড় ডিগ্রি মনে করে তাদের কাছে রোগীরা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। তাদের মতো যশোরে অনেকেই নামের পরে এসব লিখে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেজে বসেছেন। বাস্তবে তারা কেউ এফসিপিএস পাস চিকিৎসক না। এফসিপিএস কোর্সে তারা অধ্যায়নরত। নিয়মানুযায়ী এফসিপিএস পাস না করা পর্যন্ত কেউ ডিগ্রি ব্যবহার করতে পারেন না। অথচ তারা অবৈধ ডিগ্রি ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগীর ব্যবস্থাপত্রের পাশাপাশি অস্ত্রোপচারও করছেন।

২০১০ সালে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন জারি করে কোন চিকিৎসক পিজিটি, বিএইচএস, এফসিপিএস (পার্ট-১ পার্ট-২), এমডি (ইন কোর্স), (পার্ট-১ পার্ট-২), (থিসিস পর্ব, শেষ পর্ব), এমএস (ইন কোর্স),(পার্ট-১ পার্ট-২), (থিসিস পর্ব), (শেষ পর্ব) কোর্স শেষ বা সিসি ডিগ্রি ব্যবহার করতে পারবেন না। আইন পরিপত্রে উল্লেখ করা হয় উল্লিখিত ডিগ্রিগুলো কোনো স্বীকৃত অতিরিক্ত চিকিৎসাযোগ্যতা নয়।

বিষয়ভিত্তিক স্বীকৃত ডিগ্রি না থাকলে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সার্জারি বিশেষজ্ঞ, গাইনী বিশেষজ্ঞ, শিশু বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞসহ নানা বিভাগের বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দেয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন অমান্যকারীদের উল্লিখিত বিষয়ে আইনের ধারা ও শাস্তির বিধান উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে এ আইন মানছেন না যশোরের এক শ্রেণির চিকিৎসকেরা। তারা নিষিদ্ধ উচ্চতর নামীয় ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করছেন সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। এতে রোগীরা সুচিকিৎসা না পেলেও অসাধুরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঠিকভাবে তদারকি ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা না থাকার কারণে তাদের প্রতারণার মাত্রা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সূত্র জানায়, রোগী ও স্বজনরদের আকৃষ্ট করতেই তারা এ কৌশল অবলম্বন করছেন। যশোরের তৎকালীন সিভিল সার্জন আতিকুর রহমান খান ২০১২ সালের মার্চ মাসে অবৈধ ডিগ্রি ব্যবহারকারী চিকিৎসকদের কার্যক্রম বন্ধের জন্য দুই বার নোটিশ জারি করেছিলেন। এরপর তারা অবৈধ ডিগ্রি ব্যবহার করা থেকে কিছুদিন বিরত ছিলেন। পরবর্তীতে আবার যা তাই অবস্থা চলতে থাকে।

যশোরের শহরের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে ঝুলানো রয়েছে চিকিৎসকদের অবৈধ ডিগ্রির সাইনবোর্ডে। তাদের খপ্পরে পড়ে সাধারণ রোগী ও স্বজনরা প্রতারিত হচ্ছে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, এসসিপিএস পার্ট-১ পার্ট-২ কোনো ডিগ্রি নয়। রোগী ও স্বজনকে আকৃষ্ট করতে চিকিৎসকেরা নামের আগে ও পরে এটা ব্যবহার করে থাকেন। অবৈধ ডিগ্রিধারীদের তালিকা ˆতরি করে অচিরেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।