ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড

 

::স্পন্দন ডেস্ক::

এবার বিশ্ব ক্রিকেট পেল বিশ্বকাপের এবারের আসরের নতুন দুই দল নিউজিল্যান্ড ও স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে। আজকের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংলিশরা ৮ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। যার মধ্য দিয়ে ৯৬ এর পর নতুন এক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ানকে পেতে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্ব।

বিশ্বকাপের দামামা এখন শেষের দিকে। ফাইনালের মহারণের বাকী আর মাত্র এক ম্যাচ। এর আগে আজ এজবাস্টনে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে জয়ের জন্য মুখোমুখি হয় অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড। দুই দলের লড়াই শেষে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করলো ইংল্যান্ড।

অজিদের দেওয়া ২২৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটের দারুণ এক জয় তুলে নিল ইয়ন মরগানের দল।

অজিদের টার্গেট তাড়া করতে নেমে রয়-বেয়ারস্টোর ওপেনিং জুটিতেই শতরান পেরোয় ইংল্যান্ড। ১২৪ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে বেয়ারস্টোর বিদায়ে। তাকে ৩৪ রানে ফিরিয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক উইকেটশিকারী হিসেবে নিজের নাম লেখান স্টার্ক। এরপর ৮৫ রান করা জেসন রয়কে কামিন্স ফেরালেও ইংল্যান্ডের জয়ে বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি কিছুই। রুট ও মরগান মিলে বাকীটা পথ পাড়ি দেন অনায়াসে।

এর আগে দিনের শুরুতে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। তবে তার সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণে যেনো মাঠে নামে ইংলিশ বোলাররা।

ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই আর্চার ফেরান ফিঞ্চকে। মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই ফিঞ্চ ফেরেন লেগ বিফোর উইকেটে। পরের ওভারেই ওকসের আঘাতে প্যাভিলয়নে ওয়ার্নার। ফিঞ্চ কোন রান না করলেও ওয়ার্নার ৯ রান করেন। পরবর্তী আঘাতও হানেন ক্রিস ওকস। তার বলে বোল্ড আউট হন হ্যান্ডসকম্ব। মাত্র ৪ রানে ফিরে যান খাজার জায়গায় দলে আসা এ ব্যাটসম্যান।

এরপর দলের হাল ধরেন স্মিথ ও এ্যালেক্স ক্যারি। দুজন মিলে বেশ ভালোভাবেই বিপর্যয় সামাল দেন। পঞ্চাশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন দুজনেই। তবে এমন সময়েই ইংল্যান্ডের আঘাত। আদিল রশিদের বলে ৪৬ রান করে ক্যারির বিদায়ের পরপর রানের খাতা খোলার আগেই আউট হন স্টয়নিস। আবারও দৃশ্যপটে লেগস্পিনার রশিদ।

ম্যাক্সওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে বড় পার্টনারশিপ তৈরীর চেষ্টা করেন স্মিথ। তবে তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করেন জোফরা আর্চার। তার বলে ২২ রান করা ম্যাক্সির বিদায়ের পরপরই দ্রুত আরেকটি উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ৬ রান করে আদিল রশিদের বলে আউট হন প্যাট কামিন্স।

স্টার্ককে সঙ্গে নিয়ে ৫১ রানের জুটি গড়েন স্মিথ। তবে এর পরিসমাপ্তি ঘটে স্মিথের রান আউটের মাধ্যমে। ম্যাচজুড়ে দারুণ খেলতে থাকা স্মিথ ৮৫ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। সঙ্গী বিয়োগে স্কোরবোর্ডে রান জমার আগেই এবার আউট হন মিচেল স্টার্ক। ক্রিস ওকসের তৃতীয় শিকারে পরিণত হওয়ার আগে ২৯ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন তিনি।

শেষ উইকেট জুটিতে ৬ রানের বেশি যোগ করতে পারেনি বেহ্রেনডর্ফ ও লায়ন। মার্ক উড শেষ উইকেট নিয়ে মুড়িয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।

ইংল্যান্ডের হয়ে ৩ উইকেট নেন ওকস ও আদিল রশিদ। এছাড়া ২ উইকেট নেন জোফরা আর্চার।

ইংল্যান্ডের এ জয়ে নিশ্চিত হলো ফাইনালের লাইনআপ। ১৪ জুলাই লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। যে ই জিতুক, একটা বিষয় পরিষ্কার। এবার ট্রফি জয়ী দলের তালিকায় অভিষেক হবে নতুন দলের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া ২২৩ (৪৯ ওভার)
স্মিথ ৮৫, ক্যারি ৪৬
ওকস ২০/৩, রশিদ ৫৪/৩

ইংল্যান্ড ২২৬/২ (৩২.১ ওভার)
জেসন রয় ৮৫, জো রুট ৪৯*
কামিন্স ৩৪/১, স্টার্ক ৭০/১

ফলাফল : ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী

ম্যান অফ দা ম্যাচ : ক্রিস ওকস