যশোরে ট্যারা চঞ্চল আটক

::নিজস্ব প্রতিবেদক::
যশোর শহরের ষষ্টিতলা বুনোপাড়া এলাকায় চাঁদার দাবিতে ঠিকাদারকে মারপিট ও টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় শহিদুজ্জামান সেলিম ওরফে চঞ্চল ওরফে ট্যারা টঞ্চল (৪০) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চঞ্চলসহ দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৩/৪জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।

আটক চঞ্চল শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়ার আব্দুস সবুরের ছেলে। এ মামলায় অপর আসামি হলো ষষ্টিতলা বুনোপাড়া মুজিব সড়ক বাইলেনের আহম্মদ আলীর ছেলে ফিরোজ হোসেন।

ওই এলাকার এটি মোস্তফা হিন্দালের দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তার ষষ্টিতলা বুনোপাড়া রোডে ৩ বিঘা জমির উপর একটি পুকুর আছে। ওই পুকুরে মাটি ভরাট করার জন্য মনিরুল ইসলাম ও সৌখিন নামে দু’জনকে ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়। পুকুর ভরাটকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে আসামিরা ঠিকাদারদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে।

গত ৫ জুলাই পুকুরে মাটি ভরাটের সময় আসামিরা বিভিন্ন ধরনের ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেয়। বলা হয়-তাদের দাবিকৃত ৫ লাখ টাকা না পেলে আর মাটি ভরাট করতে দেয়া হবে না।

এরপর ঠিকাদার মনিরুলের পকেটে থাকা ৩০ হাজার এবং সৌখিনের পকেটে থাকা ২০ হাজারসহ ৫০ হাজার টাকা দুই আসামি চাঁদা স্বরুপ নিয়ে নেয়। বাকি টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে না দিলে বাদীসহ ঠিকাদারকে খুন করার হুমকি দিয়ে চলে যায়। ঘটনার সময় মোস্তফা হিন্দাল ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। তিনি ঘটনা শুনে ঠিকাদার যশোরে এসে ১০ জুলাই কোতোয়ালি থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁচড়া ফাঁড়ি পুলিশের এসআই মনিরুজ্জামান বৃহস্পতিবার ভোর রাতে বাড়ি থেকে আসামি চঞ্চলকে আটকের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন, আটক চঞ্চলের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, নাশকতা ও মাদকসহ অর্ধডজন মামলা রয়েছে।

তবে আটক চঞ্চলের দাবি, তিনি কোনো চাঁদাবাজি করেননি। চাঁচড়া রেলগেট পশ্চিমপাড়া এলাকার এক বাসিন্দা ওই পুকুর ভরাটের মূল উদ্যোক্তা। পুকুর বা জলাশয় ভরাট আইন বিরোধী কাজ। এ কাজে এলাকার লোকজন প্রতিবাদ জানায়। তারা পুকুর ভরাট না করার জন্য পরিবেশ অধিদফতরে দরখস্ত দেয়। ওই দরখস্তে তিনি সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর দিয়েছিলেন মাত্র। সে কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তার বিরুদ্ধে ওই ব্যক্তি মিথ্যা মামলা করেন। চাঁদা দাবি বা হুমকির কোনো ঘটনা ঘটেনি।